৭:১০ অপরাহ্ণ
কুলাউড়া থানায় এসপিকে ঘু'ষ দিতে গিয়ে নারী সহ আ'টক-২
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারকে (এসপি) ঘু'ষ দিতে গিয়ে মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ নামের এক যুবক ও জেসমিন আক্তার নামের এক নারীকে আট'ক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে কুলাউড়া থানায় তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ভাটত্তগ্রামের গ্রামের বাসিন্দা মৃত আতিকুর রহমান চৌধুরীর ছেলে মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ(৩২) এবং রাউৎগাঁও ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত তাহির আলীর মেয়ে জেসমিন আক্তার(৩৭)।
পুলিশ সূত্র জানায়, কুলাউড়ার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহতাব মিয়ার সঙ্গে তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন আক্তারের পারিবারিক বিষয় নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। স্বামীকে নাজেহাল করতে ইতঃপূর্বে জেসমিন আক্তার তার মেয়েকে মাহতাব মিয়া ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ তোলেন।
এমনকি নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন। বর্তমানে তার স্বামী বিদেশ যাবার খবর শুনে স্বামী যাতে বিদেশ না যেতে পারে সেজন্য বৃহস্পতিবার বিকালে নগদ দুই লাখ টাকাসহ ছাত্রদল নেতা মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদকে নিয়ে থানায় আসেন। ওইসময় থানায় চলছিল সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমানের দ্বি-বার্ষিক পরিদর্শন।
পরিদর্শনের সময় মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মো. আজমল হোসেন, কুলাউড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জেসমিন আক্তার তার স্বামীর বিদেশ যাওয়া বন্ধ করার জন্য সামাদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেন। একপর্যায়ে সামাদ চৌধুরী কৌশলে জেসমিন আক্তারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে সেখান থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা সরিয়ে ৪০ হাজার টাকা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে দিতে যান। এসময় জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের নির্দেশে সামাদ ও জেসমিনকে টাকাসহ আটক করে পুলিশ। এ ঘটনার খবর জানাজানি হলে কুলাউড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আটক সামাদ ও জেসমিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, জেসমিন আক্তার বেশ কয়েক দিন ধরে ফোনে আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইছিলেন। বৃহস্পতিবার কুলাউড়া থানায় পরিদর্শন শেষে তাঁদের কথা শুনি। কথা বলা শেষে সামাদ আমার হাতে একটি খাম দিলে সেটি খুলে টাকা দেখতে পাই এবং সাথে সাথে তাঁদের আটক করার নির্দেশ দিই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।