বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০ , ২০ ২৬
আসহাবুজ্জামান শাওন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
৩০ এপ্রিল ২০ ২৬
৭:১৩ অপরাহ্ণ

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পাচ দিন:
পচে নষ্ট চা পাতা, লোকসানর মুখে ন্যাশনাল টির আড়াই কোটি টাকা

প্রকৃতির ঝাপটা আর বিদ্যুৎহীনতার দ্বিমুখী সংকটে মৌলভীবাজারের চা শিল্পে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) মালিকানাধীন কমলগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি বাগানে গত এক মাসে লোকসানের পাহাড় জমেছে।

লোডশেডিং আর টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নষ্ট হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কেজি চা পাতা, যার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) সুত্রে জানা যায়, গত ২৫ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে গোটা কমলগঞ্জ উপজেলা।

ফলে এনটিসির আওতাধীন পাত্রখোলা, মাধবপুর, মদনমোহনপুর, কুরমা ও চাম্পারায় এ পাঁচটি চা বাগানের প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলো পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। কারখানা সচল না থাকায় শ্রমিকদের হাড়ভাঙা খাটুনিতে সংগ্রহ করা আড়াই লাখ কেজি কাঁচা পাতা কারখানার মেঝেতেই পচে নষ্ট হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, শুধুমাত্র এই পাঁচ দিনের বিদ্যুৎহীনতায় নষ্ট হয়েছে কাঁচা পাতা থেকে প্রস্তুত হওয়ার পথে ৬০ হাজার কেজি পাতা, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা। এর আগে এপ্রিলের শুরুর দিকে নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে আরও প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি গুণতে হয়েছে এই কোম্পানিকে।

মাধবপুর চা বাগানের ফ্যাক্টরি সহকারি ক্লার্ক লক্ষ্মী নারায়ণ কৈরী বলেন, টানা ৫ দিন বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। শ্রমিকদের সংগৃহীত কাঁচা পাতাগুলো চোখের সামনেই নষ্ট হয়ে গেল, অথচ কিছুই করার ছিল না। এটি আমাদের জন্য এক বিশাল ক্ষতি। এদিকে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে চা নিলাম বাজারে।

জানা গেছে, বছরের প্রথম নিলামে কোম্পানিটি প্রায় দেড় কোটি টাকার চা বিক্রি করলেও মে মাসের দ্বিতীয় নিলামের চিত্র ভয়াবহ। যেখানে হাজার হাজার কেজি চা পাতা থাকার কথা, সেখানে দ্বিতীয় নিলামের জন্য মাত্র ১২-১৩ হাজার কেজি চা পাতা পাঠানো সম্ভব হয়েছে। মাধবপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক দিপন কুমার সিংহ বলেন, ‘টানা ৫ দিন বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের বাগানের প্রায় ৩৫ হাজার কেজি কাঁচা চা পাতাগুলো পচে নষ্ট হয়েছে।

পাতাগুলো থেকে প্রায় ৮ হাজার কেজি চা পাতা তৈরি করা যেত। এ পাতাগুলো আর প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্ভব নয়। এতে করে আমাদের বাগানে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা লোকসান হয়েছে।’ বিকল্প ভাবে জেনেরেটর চালিয়ে একসময় আমরা চা প্রক্রিয়া সম্ভব হত, আমাদের বাগানে যে জেনেরেটর রয়েছে তা ঘন্টায় ৬৫ লিটার তেল লাগে।

বর্তমানে তেল সংকট আর দাম বৃদ্ধির কারণে জেনেরেটর চালিয়ে চা প্রক্রিয়া করা সম্ভব হচ্ছে না, এতে ব্যয় অনেকগুন বেড়ে যাবে। পাত্রখোলা চা বাগানের ব্যবস্থাপক ইউসুফ খাঁন বলেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বাগানে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। কারখানায় প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজার কেজি কাঁচা চা পাতা মাচায় পড়ে আছে, যা নষ্ট হওয়ার পথে।’ ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম এই পরিস্থিতিকে কোম্পানির জন্য একটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আমাদের পাঁচটি চা বাগানে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। চায়ের ভরা মৌসুমে এমন উৎপাদন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা আমাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ