৭:১৭ অপরাহ্ণ
ইষ্টার্ন সিলেট এর বি'রুদ্ধে প্রতা'রণার অভি'যোগ: ২১ বছরেও প্লট বুঝে পাচ্ছেন না ক্রেতারা
ইষ্টার্ন সিলেট প্রাইভেট লিমিটেড এর গাজী বুরহান উদ্দিন মডেল টাউন আবাসিক প্রকল্পে ২১ বছরেও প্লট বুঝে পাচ্ছেন না ক্রেতারা। কর্তপক্ষের বি'রুদ্ধে চরম অ'বহেলা, গাফি'লতি ও প্রতা'রণার অভি'যোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্লট মালিক সমিতি। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভু'ক্ত'ভোগী প্লট মালিকরা তাদের দীর্ঘ ২১ বছরের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও কর আইনজীবী মোহাম্মদ ছানা উল্লাহ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০০৫ সালে ইষ্টার্ন সিলেট প্রা. লি.-এর গাজী বুরহান উদ্দিন মডেল টাউন আবাসিক প্রকল্পে আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে প্রায় দুই শতাধিক প্লট বিক্রি করা হয়। কোম্পানি ২০০৮ সালের জুনের মধ্যে রাস্তা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সংযোগসহ সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে প্লট হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, ২০২৬ সালেও অধিকাংশ ক্রেতা তাদের প্লটের দখল পাননি। প্রায় শতাধিক প্লট সাব-কবালা দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা হলেও বাকি প্লটগুলো বিক্রয় ডিডের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ করা হয়। প্লট মালিকদের দাবি, সব ধরনের অর্থ পরিশোধ ও বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ২১ বছরে কমপক্ষে দুই শতাধিকবার কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবারই মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে দায় এড়িয়ে যাওয়া এবং প্লট মালিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অসহযোগিতার অভিযোগও তোলা হয়। লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. বদরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন চৌধুরী নাদেরসহ সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বে থাকা নিজাম উদ্দিন, মো. শহীদুল হোসেন, মো. হাবিবুর রহমান, মো. শাহীনুল হক চৌধুরী, মো. কামাল উদ্দিন, বর্তমান এমডি মো. আব্দুর রহমান ও প্রজেক্ট ডিরেক্টর মাওলানা মো. এনামুল হকসহ সংশ্লিষ্টদেরও দায়ী করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্লট মালিকদের কাছে বিক্রিত অধিকাংশ জমি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক-এর দরগাগেইট শাখায় বন্ধক রেখে ২০০৬ সালে ৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়, যা সুদসহ বর্তমানে প্রায় ১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ঋণ আদায়ে ব্যাংক মামলা দায়ের করে এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ফলে প্লটগুলো তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ অবস্থায় প্লট মালিকরা দ্রুত প্লট হস্তান্তর অথবা সমমূল্যের জমি কিংবা বর্তমান বাজারদরে অর্থ ফেরতের দাবি জানান।
পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, ক্ষতিপূরণ প্রদান, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকের নিলাম কার্যক্রম স্থগিতের আহ্বান জানান। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা আইনের আশ্রয় গ্রহণের পাশাপাশি বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলে জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি মো. সালেক উদ্দিন, নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক শাহ বদরুল আলম ও অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দে, অর্থ সম্পাদক মো. কিবরিয়া হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ, সদস্য মো. শামছুর রহমান সুজা, মো. আরশাদ উল্লাহ খান ও মো. মনছুর আহমেদ।