১০ :৫৭ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ সুরমায় শি'শু শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চি'ত!
সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় শিশু শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে না। দীর্ঘ এক যুগ পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিশু শ্রমিকরা স্বাস্থ্য ঝঁুকি নিয়ে কাজ করলেও সঠিক পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নগরীর দক্ষিণ সুরমার বঙ্গবীর রোড, লাউয়াই, পিরিজপুর, চন্ডিপুল, সিলেট বাইপাস সড়ক, কদমতলী, হুমায়ুন রশীদ চত্বর, শিবাবাড়ি এলাকায় প্রায় হাজারো ওয়ার্কশপ, হোটেল ও ফার্নিচারের দোকান রয়েছে।
এসব দোকান গুলোতে শিশুরা দৈনিক মজুরি ৫০ থেকে ১০০ টাকার বিনিময়ে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। শ্রম আইনে ১৪ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোন শিশু দিনমজুর হিসেবে কাজ করতে পারে না। সিলেটে এখন পর্যন্ত কতজন শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে তার কোন হিসাব দিতে পারেনি শ্রম অধিদপ্তর সিলেটে।
বাংলাদেশ কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর সিলেট সূত্রে জানা যায়, জুলাই ২০২৫ থেকে এখন পর্যন্ত ৬৬টি জন শিশুকে শ্রমিক থেকে সরিয়ে লেখাপড়া মুখী করা হয়েছে। এর পাশাপাশি এনজিও সংস্থা আকবেট শিশু শ্রমকে নিরোৎসাহিত করে শিশুদের লেখাপড়ামুখী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রায় দেখা যায় শিশু শ্রমিকদের পেটে ভাত নেই, পরনে পোশাক নেই, শিশুরা সিলেটে বাসস্টেশন, রেলওয়েস্টেশন, বিপণি বিতানের সামনে প্রতিদিনই ঘুরছে শিশু। একমুঠো খাবারের জন্য কখনো হাত পাতছে মানুষের কাছে আবার কখনো কাগজের টুকরো, বোতল, ভাঙা আসবাবপত্র কুড়িয়ে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে।
কিন্তু ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে কাজ করলেও সিলেট নগরীতে পথ শিশু ও শিশু শ্রমিকদের নিয়ে কোন প্রকল্প হাতে নেয়নি। সিলেটে এসব পথশিশুদের পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণ দিতে কাজ করছে বিভিন্ন বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।
তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা দিচ্ছে সিলেট সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, শহর সমাজসেবা কার্যালয়, সিলেট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, সিলেট বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেটের পথশিশুর সংখ্যা অন্যান্য বিভাগের তুলনায় কম।
সিলেটে ১০০ থেকে ১৫০ জন শিশু শ্রমিক আছে। নগরীর দক্ষিণ সুরমার পুলেরমুখে এক প্রতিবন্ধী শিশু শ্রমিক এই প্রতিবেদককে জানান, ১০ বছর যাবৎ সে চা-র হোটেলে কাজ করলেও দৈনিক তাকে মজুরি দেয়া হয় মাত্র ১০০ টাকা। দ্রব্যমূল্যে এই ঊর্ধ্ব গতির সময় ১০০ টাকা দিয়ে কিছু হয়না। সিলেট বাইস পাস সড়কের এক ওয়ার্কশপে কর্মরত শিশু শ্রমিক সাইফ জানান, সে দৈনিক ১৮ ঘন্টা কাজ করে।
অথচ তাকে দৈনিক মজুরি দেয়া হয় মাত্র ২০০ টাকা। তা দিয়ে সংসারের খরচ বহন করা অসম্ভব। সাইফের মত সিলেট নগরীর ওলিতে গলিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দৈনিক ৫০ টাকা মজুরি নিয়ে কাজ করছে শিশুরা। বিভিন্ন এনজিও সংস্থা শিশুদের নিয়ে কাজ করলেও শিশু শ্রম বন্ধে কার্যকর কোন ভূমিকা রাখছে না। শিশু শ্রম বন্ধ করতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। বিশেষজ্ঞরা জানান, দরিদ্রতা, বাবা-মার অসচেতনতার কারণে শিশুরা রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। একবার যে শিশু রাস্তায় বের হয়ে যায়, তাকে আর ঘরে ফেরানো যায় না। এক সময় সে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। দুষ্টচক্রে জড়িয়ে তারা বিপথগামী হয়। বাংলাদেশ কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর সিলেটের উপ-মহাপরিদর্শক শিপন চৌধুরী জানান, সিলেটে এখন পর্যন্ত শিশু শ্রমিকের কোন তালিকা বা হিসাব তাদের কাছে নেই। ইতিমধ্যে তাদের প্রচেষ্টায় ৬৬ জন শিশুকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। শিশু শ্রম বন্ধে সরকার উদ্যোগে নিলে তারা তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করবে।