২:০ ৯ পূর্বাহ্ণ
গোলাপগঞ্জে চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ত্রান, বিপাকে নিম্ন আয় ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ
ফাহাদ হোসাইন :: সিলেট জেলার খুবই পরিচিত উপজেলা গোলাপগঞ্জ।যার আয়তন দীর্ঘ, সকল পেশাদার মানুষের বসবাস।বিভিন্ন জেলার মানুষের ও বসবাস। তাছাড়া এই উপজেলার ধনীর সংখ্যা যেমন গরীবের সংখ্যা ও বেশী, বিশেষ করে লামা অঞ্চলের মানুষ বিপাকে। প্রয়োজন মতো সহযোগিতা পাচ্ছেন না তারা।
ক্ষোভ কেবল তাদের না, পুরো উপজেলা জুড়েই ক্ষোভ আর হতাশা। পুরো উপজেলা মিলে ১১ টি ইউনিয়ন আর একটি পৌরসভায় মিলে প্রায় ২০ হাজারের অধিক দিনমজুর বা ডে-লেবারের লিস্ট করেছেন ওয়ার্ড মেম্বার ও পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। অথচ মাত্র ২৪ শত মানুষের জন্য পৌঁছেছে চাল। আর আলু, তেল, ডাল সাবান কেনার জন্য যে অর্থ দেয়া হয়েছে তা হাতে গুনা কিছু মানুষের জন্য। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের দেয়া সাহায্য চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল হওয়ায় বিপাকে জনপ্রতিনিধিরাও।
এই আসনের সাংসদ সদস্য সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অনেকে প্রতিবাদ করছে উপজেলা বাসীর খোঁজ খবর নেওয়া থেকে তিনি বিরত।তবে তিনি নিজের ফেসবুকে সকল খোঁজ খবর নিচেন বলে পোস্ট করেন।
আবার অনেকে এট সরকারি সহযোগিতা এম পি সাহেবর খোঁজ খবরের কোনো সহযোগিতা নয়।
ক্ষোভ প্রকাশ করেন আশরাফ অপু , তিনি ৩নং ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। করোনা পরিস্থিতির কারণে তিনিও বেকার। পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকটা অসহায় তিনি। মেম্বারের কাছে ভোটার আইডি নম্বর, নাম মোবাইল নম্বর দেওয়ার বিষয়ে কিছু জানেন না।শুধু তিনি নয় উনার মতো আরো অনেকে এই বিষয়ে জানেন না।তাই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানান যায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ১১ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার জন্য প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ২৪ মেট্রিকটন চাল এসেছে আর আলু, তেল, ডাল, সাবান কিনে তা বিতরণের জন্য নগদ অর্থ এসেছে মাত্র ৫১ হাজার টাকা। যা গোলাপগঞ্জ উপজেলায় তালিকাভুক্ত দিনমজুর বা ডে লেবারের তুলনায় খুবই সামান্য।
এদিকে চাহিদার তুলনায় খুবই অল্প খাদ্যসামগ্রী পেয়ে বিপাকে ইউপি সদস্যরা। গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক রেজা বলেন, গত বৃহস্পতিবার আমরা ২ টন চাল পেয়ে ইতোমধ্যে তা বিতরণ করেছি। আমাদের ইউনিয়নে ৯ টি ওয়ার্ড। প্রতি ওয়ার্ড থেকে মাত্র ১৫ জন করে মানুষকে কেবল ১০ কেজি চাল দেয়া হয়েছে। আর আলু, ডাল, তেল, সাবান এগুলো এখনও দেয়া হয়নি। অথচ এখন মাত্র ১৫ জনকে দিয়ে আমরা সমস্যায় আছি। অন্য যাদের নাম তালিকায় এসেছে তারা আমাদেরকে ভুল বুঝছেন।
তবে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, চাল এসেছিলো ২৪ মেট্রিকটন আর নগদ অর্থ এসেছিলো মাত্র ৫১ হাজার। এখন নগদ এসব অর্থ প্রতি ইউনিয়নের জন্য মাত্র সাড়ে ৪ হাজার টাকা হয়। তাই আমরা প্রাথমিক ভাবে ইউনিয়নে ইউনিয়নে চাল দিলেও অন্য সবকিছু পরে দিচ্ছি। টাকা যেহেতু খুবই কম তাই এ টাকা দিয়ে প্রতি ইউনিয়নের মাত্র ২০ জন মানুষকে অন্যান্য সামগ্রী কিনে দেয়া সম্ভব। তাই উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আমরা উপজেলা অফিসের পক্ষ থেকে আরও ২ লক্ষ টাকা ফান্ড করে মোট ২ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছি। এখন প্রতি ইউনিয়নে ৫০ জনের জন্য আলু, ডাল, তেল, সাবান কিনে পাঠাবো।
তিনি আর বলেন, চাহিদা অনেক। কিন্তু আমরা যাদের অবস্থা বেশি খারাপ তাদেরকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। এজন্য আমাদের উপজেলা থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে কর্মকর্তা পাঠিয়েছি। তারা জনপ্রতিনিধিদের তৈরি তালিকা থেকে বাচাই করে খুব জরুরি যারা আপাতত তাদের দিবেন। আর পর্যায়ক্রমে আর অনুদান আসবে। তখন অন্যান্যদের দেয়া হবে।