৭:৩৪ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মিসবা উল ইসলামের বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ
সিলেট এয়ারপোর্ট রোড এলাকার স্থানীয় লোকজনের নিকট থেকে এবং বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সিলেট এয়ারপোর্ট রোড, ফরিদাবাদ আবাসিক এলাকার এইচ এম ভবনের স্থায়ী বাসিন্দা বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্ব প্রদান সহ মিছিল, মিটিং ও সমাবেশে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সিলেট জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিসেস হেলেন আহমদ এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন পরিচালিত “এইচ এম লিগ্যাল এইড” এবং “মোমেন ফাউন্ডেশন”-এর চিফ লিগ্যাল এডভাইজার হিসেবে অ্যাডভোকেট মিসবা দায়িত্ব পালন করা কালীন সময়ে তিনি বিগত বিএনপি সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) সিলেট মহানগর বিএনপির কতিপয় ভূমি দস্যু নেতাকর্মীর অবৈধ দখলে থাকা সিলেট এয়ারপোর্ট এলাকায় শত শত অসহায় প্রবাসী সিলেটিদের বাড়ি-ঘর-প্লট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ধার করে তাদের দখল ফিরিয়ে দেন। ফলে স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর উপর ক্ষিপ্ত ছিল।
গত ৫ আগস্ট ২০২৪ ইং তারিখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর সিলেট এয়ারপোর্ট রোড এলাকার বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিনের ছেলে শামীম উদ্দিনের নেতৃত্বে বৈষম্য বিরোধী কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী অ্যাডভোকেট মিসবার বাড়ি, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এসময় তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল সেট, ল্যাপটপসহ প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার সম্পদ লুটপাট করে নিয়ে যায়। তার স্ত্রী ও সন্তানরা প্রাণ বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে শামীম উদ্দিনের নির্দেশে কিছু সন্ত্রাসী অ্যাডভোকেট মিসবার একটি গরুর খামারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার কৃষি যন্ত্রপাতি ও গবাদিপশু জোরপূর্বক নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সিলেট সিটির জিন্দাবাজারে অবস্থিত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “ মেসার্স এইচ এম কর্পোরেশন” এ ঢুকে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এমনকি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটে খুনি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করা হয় এবং তাকে ফোন করে অফিসে যেতে বলা হয়।
তিনি না গেলে তাঁকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১২/০৪/২০২৫ তারিখ রাতে বিএনপি নেতার ছেলে শামীম উদ্দিনের নির্দেশে দুষ্কৃতিকারীরা তাকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় এবং অজ্ঞাত স্থানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। তার কাছে থাকা টাকা-পয়সা ও এটিএম কার্ড নিয়ে নেয় এবং জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। পরে তাকে সিলেট কোতোয়ালী থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং দক্ষিণ সুরমা থানার জি আর মামলা ১৮৮/২০২৪ ইং এবং কোতোয়ালি থানার জি আর মামলা নং ৩৭৭/২০২৪, জি আর ৩৮৯/ ২০২৪ইং ,জি আর ৩৭৭/২০২৪, জি আর ৪০৬/ ২০২৪, জি আর ৪৪৯ / ২০২৪ইং, জি আর ৪৭৩/২০২৪ ইং , জি আর ৮৪/২০২৫ ইং,মোট সাতটি মিথ্যা সাজানো রাজনৈতিক মামলায় তাকে আসামি করে গ্রেফতার দেখানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ হেফাজতে তাকে রাতভর নির্যাতন করা হয় এবং আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপন না করেই কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে এসব মামলায় তাকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় কয়েকটি মামলায় রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
জেলে যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি জেল হাজতে থাকা অবস্থায় গত ১৫/০৪/২০২৫ তারিখ রাতে শামীম উদ্দিনের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা তার বাসা ও গ্যারেজে হামলা চালিয়ে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ২৮/০৫/২০২৫ তারিখে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে চলে যান। বর্তমান বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ২০/০২/২০২৬ তারিখে সকালে ১১ ঘটিকায় বিএনপি নেতার ছেলে শামীম উদ্দিনের নেতৃত্বে আবারও তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং তার বৃদ্ধ মাকে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বর্তমানে বিএনপি নেতা শামীম উদ্দিনের ষড়যন্ত্রে তার বিরুদ্ধে একের পর এক সাজানো মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তার পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ফেইসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে সাজানো মিথ্যা ভিত্তিহীন কাল্পনিক অভিযোগ উত্থাপন করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং গ্রেফতারের নামে বারবার তার বাসায় পুলিশ পাঠিয়ে পরিবারে সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তার সহায়-সম্পত্তি জবরদখলের উদ্দেশ্যে পরিবারের সদস্যদের নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠে এসেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভূমিদস্যুদের কবল থেকে অসহায় প্রবাসীদের বাড়িঘর আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধার করে দেওয়ার কারণেই স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানি করছে এবং সহায়-সম্বলহীন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বর্তমান সরকার প্রধান ও প্রশাসনের নিকট ন্যায় বিচারের স্বার্থে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহ তার সহায় সম্পত্তি ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য নিবেদন করেছেন।