৫:৫৫ অপরাহ্ণ
লোভাছড়া কোয়ারি দ্রুত চালু ও সীমান্তে শ্রমিক হ'.ত্যা বন্ধের দাবি
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া পাথর কোয়ারি সম্প্রতি পরিদর্শনকারী সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল দ্রুত একটি ইতিবাচক, বাস্তবসম্মত ও শ্রমিকবান্ধব প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়ে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছে কানাইঘাট উপজেলা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন।
৪ জুন সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এ দাবি জানান। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লোভাছড়া পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা এবং সীমান্তমুখী ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রোধে সরকারের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন। লোভাছড়া পাথর কোয়ারি পুনরায় চালু, সীমান্তে বিএসএফের গু'লিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃ'ত্যু বন্ধ এবং শ্রমিকদের জীবিকা সুরক্ষার দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া পাথর কোয়ারি এ অঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কয়েক বছর ধরে কোয়ারিটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে পাথরশ্রমিকদের একটি বড় অংশ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবারে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে, সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং অসংখ্য শ্রমিক পরিবার অনাহার-অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের তাড়নায় অনেক অসহায় শ্রমিক জীবিকার সন্ধানে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সেখানে গিয়ে তারা বিএসএফের গুলির শিকার হচ্ছেন।
জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে নিরীহ বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রাণহানির একাধিক বেদনাদায়ক ঘটনা ইতোমধ্যে কানাইঘাট অঞ্চলে ঘটেছে। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, শুধুমাত্র কাজের অভাবে কেন এভাবে অকালে প্রাণ দিতে হবে? কেন তারা জীবিকার সন্ধানে সীমান্তে গিয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি নেবে? কর্মসংস্থানের অভাবই আজ তাদের জীবনকে অনিশ্চয়তা ও বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সংগঠনের নেতারা জানান, গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল লোভাছড়া পাথর কোয়ারি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।
সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা প্রতিনিধি দলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে কানাইঘাট উপজেলা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে সম্পূর্ণ সনাতন (প্রাকৃতিক) পদ্ধতিতে লোভাছড়া পাথর কোয়ারি অবিলম্বে খুলে দেওয়া, যাতে সীমান্তে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ও মৃত্যুর ঘটনা বন্ধ হয় এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়।
এছাড়া কানাইঘাট উপজেলায় সরকারি খাল খননসহ যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পে বাধ্যতামূলকভাবে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ স্থানীয় শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাথর কোয়ারি যতদিন বন্ধ থাকবে, ততদিন পর্যন্ত বেকার হয়ে পড়া প্রতিটি শ্রমিক পরিবারকে মাসিক কমপক্ষে ২ হাজার টাকা করে সরকারি আর্থিক সহায়তা বা ভাতা প্রদানেরও দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন কর্মহীনতার কারণে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত এবং পুষ্টিহীনতায় ভোগা অসুস্থ শ্রমিকদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, তারা কোনো অন্যায় দাবি করছেন না।
তারা শুধু দেশের মাটিতে নিরাপদে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা, সম্মানজনক কর্মসংস্থান এবং পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়ার সুযোগ চান। তারা আরও বলেন, লোভাছড়া পাথর কোয়ারি শুধু একটি কর্মক্ষেত্র নয়; এটি হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং জীবিকা রক্ষার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি হাবিব আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাকিম, অর্থ সম্পাদক জয়নাল উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক পিযুশ রেমা, সমাজসেবা সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, উপদেষ্টা আবুল মনসুর সাজু চৌধুরী।