শনিবার, জুন ৬, ২০ ২৬
ড্রীম সিলেট ডেস্ক
১৭ জুন ২০ ২০
৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ

কানাইঘাটে দোকানের সিঁড়ি-মটর ভাংচুর, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ব্যক্তি মালিকানার দোকান কোঠার সিঁড়ি ও পানির মটর ভাংচুর করে মাছবাজারের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কানাইঘাট উপজেলার ৮ নম্বর ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানায় অভিযোগ করেও প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী গোয়ালজুর গ্রামের মৃত মাষ্টার আরজদ আলীর ছেলে আফতাব উদ্দিন। 

রোববার থানায় অভিযোগ দায়েরের পর মঙ্গলবার পুলিশের একজন সদস্যের সামনেই দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের গাছবাড়ি বাজারের মাছবাজার পূণঃনির্মাণ ও সংস্কার কাজ সম্প্রতি শুরু হয়েছে। বাজার কমিটির সহযোগীতায় কাজটি হচ্ছে চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে।

রোববার দুপুর দেড়টার দিকে মাছবাজারের দক্ষিনের দেয়াল নির্মাণের সময় পাশের আফতাব উদ্দিনের দোকান কোটার সিঁড়ি ও পানির মটর ভাংচুর করে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেছেন বলে ঐ দিনই থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে আফতাব উল্লেখ করেন।

জানা গেছে, ক্রয়সূত্রে ঐ দোকান কোঠাগুলোর মালিকদের একজন আফতাব উদ্দিন (৫৫)। ২০০৮ সালে তিনি  জনৈক চন্দন চন্দের কাছ থেকে জমি কিনে দোকান কোঠা তৈরি করে ভাড়া দেন। 

ঐ সময় তিনি প্লাস্টিকের সিঁড়ি তৈরি ও পানির মটর লাগিয়েছিলেন। এতদিন কোন সমস্যা না হলেও মাছবাজারের সেড তৈরি ও সংস্কার কাজ শুরু হলে চেয়ারম্যান আব্বাসের নেতৃত্বে সেগুলো ভাংচুর করা হয় বলে আফতাবের অভিযোগ। 

তার দাবি, নিজের কেনা জায়গাতেই তিনি সিঁড়ি ও মটর দিয়েছেন।

এদিকে, আফতাবের দাবির প্রেক্ষিতে কানাইঘাট উপজলা ভূমি কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে জমির মালিকানা নিয়ে সম্প্রতি একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন গাছবাড়ি ভূমি অফিসের সহকারী তহশিলদার হাছানুল আলম। 

প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, মালিকানা নিশ্চিতে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপ শেষে পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন জানিয়েছেন, সরকারি ভূমি দখল করে সিঁড়ি ও মটর দিয়েছিলেন আফতাব। এগুলো সরানোর জন্য এলাকাবাসী বার বার অনুরোধ করলেও তিনি তা শোনেন নি। রোববার দুপুরে জনগন জড়ো হয়ে তাদের সুবিধার্তে সেগুলো উচ্ছেদ করেছেন।

আফতাবের অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম। 

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

তবে মঙ্গলবার বিকেলেও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, আফতাবের অভিযোগকে পাত্তা না দিয়েই দেয়াল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। 

বিষয়টি সম্পর্কে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খানও যথেষ্ট অবগত।

 এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি জানার পর সচেতন এলাকাবাসীকে নিয়ে সাধারণ মানুষের সুবিধার্তে সন্তোষজনক নিষ্পত্তির অনুরোধ জানিয়েছি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।  এলাকাবাসীর সুবিধার্তেই, সরকারি ভূমিতে স্থাপিত সিঁড়ি ও মটর সরানো জরুরী। 

অভিযোগকারী আফতাব উদ্দীনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সবাই মানলেও এই একটি পক্ষ এলাকাবাসীর অসুবিধার কথা বুঝতেই পারছেনা

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, তিনি যদি মনে করেন, তার জায়গা জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে, তাহলে আদালতে যেতে পারেন।

আফতাব উদ্দিন জানান, তিনি ন্যায় বিচার পেতে যা করা প্রয়োজন, তাই করবেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ