শনিবার, জুন ৬, ২০ ২৬
ড্রীম সিলেট ডেস্ক
২৫ আগস্ট ২০ ২০
৫:২০ অপরাহ্ণ

মাদকসেবীদের কাছ থেকে রক্ত কিনে উচ্চ মূল্যে বিক্রির অভিযোগ জাকিরের বিরুদ্ধে

সিলেটে ব্লাড ব্যাংকের নামে রক্ত ব্যবসা করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন জাকির আহমদ নামে এক ব্যক্তি। লোকজন তাকে ব্লাড জাকির হিসেবে ডাকতে শুরু করলেও প্রশাসনের নেই কোনো প্রতিক্রিয়া। নানান উপায়ে মাদকসেবীদের কাছ থেকে রক্তসংগ্রহ করে উচ্চমূল্যে বিক্রির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। ব্লাড ব্যাংকে রক্ত বিনিময় করার কথা থাকলেও তিনি রীতিমতো রক্ত বিক্রির বাণিজ্য করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছাড়াই ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা, যেনতেনভাবে রক্ত সংগ্রহ, রক্তবিনিময়ে উচ্চমূল্যের পাশাপাশি ব্লাড ব্যাংকের নামে রক্তব্যবসা এবং আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে চিঠি দিয়েছে জাকির আহমদের বাড়ি সিলেটের এয়ারপোর্ট রোডের বড়শালা এলাকার বাসিন্দারা।

জানা যায়, ভারতের করিমগঞ্জ থেকে আসা মোহাজির পরিবারের সন্তান জাকির আহমদ ১৯৯৭/৯৮ সালের দিকে স্বল্প বেতনে জামায়াত পরিচালিত সিলেট নগরীর চৌহাট্টাস্থ লাইসেন্স বিহীন ক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যংকে’ চাকরি নেন। পরবর্তি সময়ে জামায়াত-শিবিরের আস্তাভাজন হওয়ার সুবাদে তিনি মালিক হয়ে যান ওই ক্রিসেন্ট ব্লাড নামীয় রক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের। এরপর থেকে অবৈধ ব্লাড ব্যবসার মধ্য তিনি তিনি পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ। একে একে মালিক হয়েছেন মধুশহীদ কাজলশাহ এলাকায় ক্রিসেন্ট মেডিকেল সার্ভিসেস, স্টেডিয়াম মার্কেটে ক্রিসেন্ট ডেন্টাল কেয়ার, দরগাহ মহল্লায় হোটেল ক্রিসেন্ট গার্ডেন, এয়ারপোর্ট রোডের মংলিবাগে বিনিময় হাউজিং, এয়ারপোর্টে নয়াবাজারে মেসার্স ইসফাক আহমদ প্রভৃতি। এছাড়াও রয়েছে (ঢাকা মেট্রো ঘ ১৮-০৯২৯, ঢাকা মেট্রো ঘ ১৫-১৯৪৪ ও সিলেট খ ১১-০৩০০) বিলাসবহুল গাড়ি।

অভিযোগের সূত্র ধরে জানা যায়, রক্তব্যবসার মাধ্যমে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক জাকির আহমদ।
এয়ারপোর্ট রোডের মংলিবাগে বিনিময় হাউজিং, এয়ারপোর্টের রোডের বড়শালায় মেসার্স ইসফাক আহমদ নামের প্রতিষ্ঠানের। বড়শালায় এই প্রতিষ্ঠানে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে মাদক ব্যবসার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।

অবৈধ রক্ত সংগ্রহ ও বিক্রির অভিযোগে কয়েক বছর আগে অভিযান চালিয়ে ক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যাংক বন্ধ করে দেয় র‌্যাব। তবে কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর ফের তা চালু করা হয়।

বড়শলা এলাকাবাসীর পক্ষে দেওয়া অভিযোগে জানা যায়, জাকির আহমেদের বড়শলা এলাকার বাড়িটি জামায়াতের বিভিন্ন শ্রেণির নেতার ঘাঁটি। তাদের প্রশ্রয়েই রাতারাতি শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি।

এছাড়াও নীতিমালা অনুযায়ী রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স, রক্তসংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই এই ব্লাড ব্যাংকে। ফলে মানহীন রক্ত সরবরাহ করে জনস্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখিন করে তোলা হচ্ছে। সেইসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর ও লাইসেন্স ফাঁকি দিয়ে সরকারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ করা হয়েছে এই রক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

তার ভাই ইশফাক আহমদ কুটি এয়ারপোর্ট এলাকায় একটি বাহিনী গড়ে তুলে নানা অপরাধ কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়, জাকির আহমদ গংদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা (নং-৮৬/০৫), কোতোয়ালী জিআর-২৬৪/০৫, কতোয়ালী থানার মামলা (নং-৮২(৩)০৫), সিআর (দ্রুত বিচার) মামলা নং-০৯/২০২০ ও এয়ারপোর্ট থানায় জিডি (নং-৯৪৭/২০২০) রয়েছে।

গত ২৫ জুলাই সিলেটের বিমানবন্দর এলাকার এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন অভিযোগ (নং-৪৯১২) দেয়ার পর থেকে তার সম্পর্কে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশসহ একাধিক সংস্থা। ইতোমধ্যে ডেকে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

ক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যাংকের সাইনবোর্ডে সিলেটের একমাত্র অনুমোদিত ব্লাড ব্যাংক হিসেবে উল্লেখ করা থাকলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিয়েছিলেন ডা. আবুল ফজল মোস্তাকিন মো. মুসা। তিনি বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে নেই।

যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা নিয়ে নানান ঝামেলা। আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানিয়েছি যে আমি এই প্রতিষ্ঠানে নেই। বাকিটা বলতে পারি না। শুনেছি তিনি ডা. বদরুল ইসলামকে সাথে নিয়েছেন। এটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাপার।

নগরীর শেখঘাট এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, গত ২৮ জুলাই তিনি এবি পজিটিভ গ্রুপের রক্ত সংগ্রহ করতে গেলে তার কাছে সাড়ে তিন হাজার টাকা আদায় করা হয়।

এ ব্যাপারে সিলেট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, সিলেটে চারটির মতো ব্লাড ব্যাংকের অনুমোদন থাকলেও কারোই নবায়ন হয়নি। আমরা এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি। সকল শর্ত পূরণ করতে না পারলে অনুমোদন বাতিল করা হবে। আর রক্ত কেনাবেচা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

যোগাযোগ করা হলে সিলেট মেট্রোলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, জাকির আহমদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ আছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির আহমদ দাবি করেন, তার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত একটি পক্ষ এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার প্রতিষ্ঠানে কোনো রক্ত কেনাবেচা হয় না। তারা পারিবারিকভাবেই প্রতিষ্ঠিত বলে দাবি করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোও মিথ্যা বলে দাবি তার।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ