৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
রেকর্ড গড়া বৃষ্টির রাতে কানাইঘাটে গণধর্ষণ
বুধবার দিনগত রাতে সিলেটে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। রাতের ১২ ঘন্টায় ১১১ মিলিমিটার আর ২৪ ঘন্টায় ১৪৭.৬ মিলিমিটার। যা এ বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ।
রেকর্ড করা এই প্রবল বৃষ্টি একজন গৃহবধূর জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়, সুযোগ নেয় একদল মানুষরূপী পাষণ্ড।
রাত ১ টার দিকে কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামের ওই গৃহবধূর ঘরে হানা দেয় অস্ত্রসহ। উদ্দেশ্য তাকে গণধর্ষণ। বৃষ্টির কারণে স্বামী বাজারে আটকে পড়ার সুযোগে একা ঘরে অসহায় তরুণীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে পালিয়ে যায় তারা।
পাশবিকতার স্বীকার গৃহবধূকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গৃহবধূর স্বামী একজন নিম্নআয়ের মানুষ। উপজেলার গাছবাড়ি বাজারে ছোট্ট একটি দোকান রয়েছে তার। গতকাল বুধবার রাতে প্রচন্ড বৃষ্টির কারণে বাড়ি ফিরতে পারেননি। এর সুযোগে একই গ্রামের নুরুদ্দিনের ছেলে আজাদ (২৫) ও তার সহযোগিরা (মুখোশধারি) তার মাটির ঘর কেটে ঘরে প্রবেশ করে ঘরে থাকা তার স্ত্রীর গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে চোখ বেধে গণধর্ষণ করে। গৃহবধূ এসময় চিৎকার করলেও বৃষ্টির কারণে আশপাশের লোকজন তা শুনতে পাননি।
গৃহবধূর স্বামী জানান, রাত ৩টার দিকে তার ছোট ভাই টেলিফোনে বিষয়টি জানালে তিনি বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফিরেন। ধর্ষণকারিরা তার ঘরের কিছু মালামালও লুট করে নেয়। তার স্ত্রী ধর্ষণকারিদের একজনকে চিনতে পারেন। সে পাশের বাড়ি নুরুদ্দিনের ছেলে আজাদ। অন্যরা মুখোশপরা থাকায় তাদের চেনা যায়নি।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করে গৃহবধূ চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে, কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা পিপিএম জানিয়েছেন, ‘এ বিষয়ে এখনও আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। আমরা এখনই খোঁজ নিচ্ছি।’
তবে, স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, গৃহবধূ দরিদ্র পরিবারের সদস্য হওয়ায় স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন একদল প্রভাবশালী লোক। দুশ্চরিত্রের লোক আজাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণসহ একাধিক অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালীদের কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতবড় একটি ঘটনার পরও স্থানীয়রা নিরব রয়েছেন।