৪:৩৭ অপরাহ্ণ
গোয়াইনঘাটে লুটেরা সিন্ডিকেটের গডফাদার ওরা ৩ ভাই !
গোয়াইনঘাটের সর্বত্র নিয়ন্ত্রণে একাধিক লুটেরা সিন্ডিকেট। সেই সিন্ডিকেটের গডফাদার ৩ ভাই। বালু মহাল, পাথর মহাল, যেখানে সরকার স্বার্থ সেখানেই তাদের রাজত্ব। সেই রাজত্ব ঠিকিয়ে রাখেন আবার সরকারের স্থানীয় পদস্থদের নিয়েই। এক ভাই স্থানীয় এমপি দেশের মন্ত্রীর খাস লোক পরিচয়ে আছেন দাপুটে ভাবে। স্থানীয় একটি কলেজের প্রিন্সিপাল পদে থাকায় মুখোশের আড়ালে সুশীল তিনি। আরেক ভাই একটি ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে এখন চেয়ারম্যান। আরেকভাই রয়েছেন, লুটপাট সিন্ডিকেটের লিয়াঁজো ও ভাগবাটোয়ারা ধার্য্য ও সংগ্রহে । ৩ ভাইয়ের নামের আধ্যক্ষর ফ-লে-শা দিয়েই। সেই সাথে আছেন সু আধ্যক্ষরের এক জামাই তাদের। সবার উপরে ছায়া হয়ে আছেন প্রিন্সিপাল। তার উপরে সকলের মুখে মুখে মন্ত্রী মহোদয়ের খাস লোক তিনি। কে ঠেকায় তাকে। প্রশাসন সহ সর্বত্র তার নেক নজরেই শক্ত থাকে চেয়ার। তাই মেরুদন্ড সোজার বদলে, আঁতাত করেই চলতে হয় রাষ্ট্রের শপথধারী কর্তাদের। স্থানীয় ওই প্রিন্সিপালের তাপে নিজস্ব বিভাগের চেইন অব কমার্ন্ড রক্ষা করার চিন্তা করতে হয়না তাদের। সেখানে যেন আলাদা আইন, আলাদা সবই। এমনকি মূল্যহীন সর্বশ্রেনী মানুষের অধিকার আদায়ের স্থান আদালতের হুকুমও। সেকারনে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও, বনের কথিত উপকারভোগীর পক্ষে থানা পুলিশ। উচ্চ আদালতের রায় যেন তাদের নিকট যেন তুচ্ছ, এড়িয়ে চলেই ধন্য নিচ্ছেন গডফাদারদের। স্থানীয় থানা-উপজেলা প্রশাসনের চিত্র একই। কেননা মোহাজির কলোনী সীমানা চিন্থিত করে স্থানীয় প্রশাসনের টানানো সাইনবোর্ড গুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় নেই কোনো পুলিশী এ্যাকশন। অভিযোগ দেয়ার পরও নিরব পুলিশ। বারবার দৌড়ঝাপ কিন্তু থানা পুলিশ এদিকে পা বাড়াতে নারাজ। সূত্র জানায়, সাইনবোর্ড গুড়িয়ে দিয়েছে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত একটি চক্র। সেই চক্রের নাড়ি ভূড়ি সব জানাপুলিশের। কিন্তু এদের দেখে শুনে অসামাজিক কার্যকলাপকে আশ্রয় প্রশয়ও দিচ্ছে রহস্যজনক কারনে পুলিশ। একাধিক সূত্র বলেছে, ৩ গডফাদারের ইশারায় পুলিশের এ নিরবতা। প্রতিকার প্রার্থী মোহাজির উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত রায়ের কপি দেখালেও, চোখ খুলছে না পুলিশের। তবে ওই ৩ ভাই ও তাদের অনুগত-নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শিগগিরই সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পর্যায়ে বিষদ তথ্যবহুল বর্ণনা সহ অভিযোগ দায়ের করবেন ভূক্তভোগীরা। একাধিক সূত্র জানায়, সিলেট নগরীতেই তারা বসবাস করেন। কিন্তু এখানে বসেই নিজস্ব সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করে চড়ি ঘুরান সর্বত্র। ল-এন্ড-অর্ডার তাদের ভাষায় চলে সেখানে। শপথধারী কর্তারা তাদের কথাতেই উঠবস করেন। ক্ষেত্র বিশেষ অবৈধ ব্যবসার পার্টনার হয়ে যান। দীর্ঘ অবৈধ গতিবিধি ও অর্জিত সম্পদের পরিমান এখনো অপ্রকাশিত জনসম্মুখে সহ রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। তবে তাদের অনুগত এক সহযোগীর আয় বেড়েছে গত ১০ বছরে ২৫ গুণ এবং সম্পদ বেড়েছে ৯২ গুণ। তার নাম আলাউদ্দিন। প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ের পরিবেশ-প্রতিবেশ যন্ত্রদানব সম্রাট (বোমা মেশিন) দিয়ে পাথর উত্তোলনকারি অন্যতম কারিগর সে। সহজে অনুমেয় তার সম্পদ যদি এতো বাড়ে তার গড ফাদার ৩ ভাইয়ের সম্পদ কোন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে এখন ? আলাউদ্দিন ছিলেন এক বারকী শ্রমিক। কিন্তু ৩ ভাইয়ের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ পরশে ‘আলাদীনের প্রদীপ’ এখন তার হাতে। অবৈধ পাথর উত্তোলন, বোমা মেশিন বিস্ফোরনে শ্রমিক হত্যা জবর দখল সহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে । তার অবৈধ অপকর্মে সে অপরাধী না হয়ে প্রশাসনের অতি আপনজন পরিণত হয় গডফাদারদের প্রত্যয়নে। তথ্য রয়েছে, অবৈধ কর্মকান্ড নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে সম্পন্নে পদস্থ চেয়ারে পছন্দের লোকও নিয়োগ দেন সিন্ডিকেটের অর্থে। সেকারনে সেই পদস্থরা জনগন ও রাষ্ট্রের পরিচয়ে কাজ করেন গডফাদারদের স্বার্থের ছকে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এক গেজেটে জাফলংকে পরিবেশ গত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে পরিবেশ অধিদফতর। গেজেট অনুযায়ী, জাফলংয়ের ১৪ দশমিক ৯৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের পাথর তোলা নিষিদ্ধ। তাতে ও লাভ হয়নি। পরিবেশ বিধ্বংসী বোমা মেশিন ব্যবহার থামানো যায়নি। কারনে ওরা ৩ ভাই ভাবে যেন গোয়াইনঘাট এক আলাদা রাজ্যে (!) তারাই এখানকার রাজা-মহারাজা। তাদের আদেশ নির্দেশে নতুজানু আইন ও আইনের কথিত রক্ষকরা। সেকারনে তাদের অনুগত সহযোগী আলাউদ্দিন ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি, জাফলং পাথর এলাকার বোমা মেশিন বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মালিক যেমন হয়েছে, তেমনি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক পৌর শহরের রহমত বাগ আবাসিক এলাকায় তার রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রাজকীয় ৩তলা বাড়ি। সে ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের মুক্তিগাও গ্রামে মৃত উস্তার আলীর পুত্র আলাউদ্দিন। সংসার চালাতে বারকি নৌকা দিয়ে বালু পাথর বিক্রি করতো। তার বাবা উস্তার আলী ছিলেন একজন ফেরিওয়ালা। ছাতক বাজারে মাঝে মধ্যে কলা বিক্রি করতেন। সহচর কেচোঁর মোটা তাজা অবস্থায় প্রতীয়মান হয়, কৌশলে গর্তে লুকিয়ে থাকা ৩ভাই নামক গডফাদারদের ( সাপগুলোর) খোলসে অবশ্যই রয়েছে বেহিসাব সোনা-হীরা-জহুরত ও অর্থ-সম্পত্তি।