১০ :৪৬ পূর্বাহ্ণ
জাফলংয়ের সোনাটিলায় বেসামাল নূরজাহান উরফে ‘খবিস বেটি’
গোয়াইনঘাট জাফলংয়ের সোনাটিলায় বেসামাল নূরজাহান বেগম উরফে এক ‘খবিস বেটি’। তার অত্যাচার ও অসামাজিক কর্মকান্ডে নিরূপায় স্থানীয় অধিবাসীরা। সীমান্তবর্তী জাফলং সোনাটিলা অবৈধ বসবাসের সূত্র ধরে অপরাধের আস্থানা গড়ে তোলেছে সে। তার সাথে রয়েছে একটি সিন্ডিকেট। সেই সিন্ডিকেটের মদদ দাতা হচ্ছে সিলেট বনবিভাগের স্থানীয় জাফলং বিটের বির্তকিত কর্তকর্তা মো: জহিরুল ইসলাম জহির। বনভিাগের কথিত উপকারভোগী হিসেবে নূরজাহান সিন্ডিকেটের বেপরোয়া কর্মকান্ড। চোরাচালান, মাদক সেবন সহ খবিস বেটি পরিবারের নারী সদস্যদের অসামাজিক কার্যকলাপের তথ্য মুখে মুখে। এমনকি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও অবগত খবির বেটির বৈআইনী তৎপরতায়। কিন্তু ‘খবিস’ বেটির রং মহলে সাদা পোষাকে একাধিক পুলিশ সদস্যের আনাগোনা নজর এড়ায়না ভোক্তভোগীদের। দিনে রাতে সেখানে এসে মউজমাস্তি করে থাকেন তারা। একই সাথে বনকর্মকর্তা জহিরের রয়েছে দহরমমহরম। ইয়াবা সেবন সহ শারিরিক আনন্দ নেন এখানে এসে। বনবিভাগের গ্রিন পার্কের সাথে গোপন চোরাগুপ্ত রাস্তার সংযোগ করেছেন তিনি। সেই রাস্তায় দিয়ে খবিস বেটির মহলে নেশাভরা যাতায়াত তার। এদিকে, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও অজানা নয় নূরজাহান উরফে খবিস বেটির বৈআইনী তৎপরতা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বশীল পুলিশের
ভূমিকা এব্যাপারে সন্দেহজনক। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, সীমান্তপাড়ি দিয়ে সন্দেহজনক লোকজনও খবিস বেটির সাথে দেখা করতে আসে প্রায়। এদের পরিচয়-সর্ম্পক রহস্যজনক। এতে করে বিঘœ হতে পারে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাও। বিষয়টি স্পর্শকাতর জানার পরও পুলিশ প্রশাসন বেখবর। অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত এ পরিবারকে ব্যবহার করে, ফায়দা নিতে পারে কোন আতংকবাদী গোষ্টি, এমন আশংকা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এদিকে, স্থানীয় ভোক্তভোগীরা নূরজাহান উরফে খবিস বেটির বৈআইনী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দিলেও আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করেনি স্থানীয় গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। নিরূপায় হয়ে নূরজাহান উরফে খবিস বেটি চক্রের বিরুদ্ধে ২০ আগস্ট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন তারা।
একাধিক স্থানীয় সূত্র জানায়, বনকর্মকর্তা জহির খবিস বেটি চক্রকে দিয়ে মাদক ও নারী ব্যবসা সিন্ডিকেট গড়ে তোলেছেন। খবিস বেটি পরিবার পুরোটাই অস্থানীয়। তার সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য আইনুল হক। আইনুল হক সোনাটিলার কিছু জমি বনবিভাগের কাছ থেকে ২০১৫-১৬ সালের জন্য বনায়নের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু উচ্চ আদালতের রায়ে ২০১৭ সাল থেকে বনবিভাগের যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে। এতে করে অকার্যকর হয়েছে চুক্তির বৈধ্যতা। তারপরও জহিরের মদদে বনের উপকারভোগী পরিচয়ে বনায়নের পরিবর্তে অবৈধভাবে বসতবাড়ি বানিয়ে অসামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা। খবিস বেটির কারনে অসহায় হয়ে পড়ছে স্থানীয় মোহাজির কলোনীর বাসিন্দারা। পাশর্^বর্তী সোনাটিলা মসজিদের পবিত্রতা হুমকির মুখে ফেলেছে তারা। স্থানীয় মোহাজিরদের জীবনযাপন তটস্থ করে রেখেছে খবিস বেটির কার্যক্রম। জোর করে ব্ল্যাকমেইলিং করে মামলায় জড়িয়ে দেয় তার মহলের পুলিশ সদস্যদের সহযোগীতায়। স্থানীয় মোহাজির প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ওরা অস্থানীয় ও অবৈধভাবে এ এলাকায় বসবাস করছে। প্রশাসন তাদের অবৈধ কর্মকান্ডের ব্যাপারে অবগত। তারপরও রহস্যজনক কারনে স্থানীয় থানা পুলিশ নির্লিপ্ত।
এব্যাপারে বনকর্তকর্তা জহিরুল ইসলাম জহির এর সাথে বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।