১০ :২৬ অপরাহ্ণ
বিশ্বনাথে ঘটনাস্থলে না থেকেই মামলার আসামি : একজন জেল হাজতে
সিলেটের বিশ্বনাথে একটি মারামারির ঘটনাস্থলে না থেকেই আওয়ামীলীগ নেতাসহ ৩জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন, রামপাশা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাউপুর গ্রামের বাবুল মিয়া, পরিবহণ শ্রমিক সেবুল মিয়া ও এনাম আহমদ। এ মামলায় ৩জনই গত রোববার সিলেটের আদালতে জামিনের প্রার্থনা করলে আদালত দু’জনের জামিন মঞ্জুর করেন এবং এনাম আহমদকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
জানাগেছে, গত ২৩ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাউপুর গ্রামের একটি মারামারির সংবাদ ফেসবুকে দেখা যায়। এ ঘটনার ২৫ জুন থানায় একটি মারামারির মামলা দায়ের করেন কাউপুর গ্রামের বিশ্বনাথ উপজেলা জাসাসের সভাপতি ও বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম নিজাম, (মামলা নং-১৬৮)।
এ মামলায় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়া ও তার ভাই সেবুলসহ আসামি করা হয় তাদের গ্রামের এনাম আহমদকে। বাবুল মিয়া জানান, এটি একটি মিথ্যা সাজানো নাটক। ঘটনার সময়ে ও তারিখে কাউপুর গ্রামে কোন ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়া আমি বাবুল মিয়া ও এনাম আহমদ ওই দিন সন্ধা সাড়ে ৭টা দিকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই এবং ঘটনার সময় আমরা সিলেট কদমতলী এলাকায় ছিলাম।
বিষয়টি সঠিক তদন্ত করলেই প্রমান পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, বাদি নজরুল ইসলাম নিজামের সাথে একই বাড়ি যুক্তরাজ্য প্রবাসি আশিক উদ্দিনের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে মামলা মোকদ্দমা রয়েছে। এই মামলার নিরপেক্ষ হিসেবে স্বাক্ষী ছিলেন তিনি ও সেবুল মিয়া ও এনাম আহমদ। অপর দিকে একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইন্তাজ আলীকে সমাজচ্যুতের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায়ও স্বাক্ষী ছিলেন বাবুল মিয়া।
এই স্বাক্ষীই কাল হয়ে দাড়িয়েছে বাবুল মিয়াসহ ৩জনের। এদিকে নজরুল ইসলাম নিজামের দায়েরকৃত মামলার স্বাক্ষী শ্রীধরপুর গ্রামের সুলেমান খান বাবুল ও দিলদার খান। এ দুজনের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার দায়েরী মামলার স্বাক্ষীও ছিলেন বাবুল মিয়া। এনামের মায়ের দাবি, তার ছেলে নির্দোশ। তিনি এ ঘটনার সঠিক বিচার চান। বাদি বাড়ির আঙ্গুর আলী জানান, হাক চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজাম ও তার লোকজন ছাড়া আর কাউকে দেখতে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি গাজি আতাউর রহমান ইনকিলাবকে বলেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে কি রহস্য তা উদঘাটন করা হবে। মিথ্যা মামলা কেউ দায়ের করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থ নেয়া হবে।