শুক্রবার, জুন ৫, ২০ ২৬
স্টাফ রিপোর্ট::
৩০ ডিসেম্বর ২০ ২১
১:১৮ পূর্বাহ্ণ

গোলাপগঞ্জে গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য বাড়ি

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর হঠাৎ পাল্টে গেছে গোলাপগঞ্জের কয়েকটি গ্রামের চিত্র। গ্রেফতার আতঙ্কে অনেকটা পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে গ্রামগুলো। মঙ্গলবার উপজেলার ফুলবাড়ি টিকরপাড়া, দক্ষিণ পাড়া, উত্তরপাড়া, হাজিপুর গ্রাম ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। ওই এলাকায় কিছু শিশু, নারী আর বৃদ্ধ ছাড়া পুরো গ্রামই পুরুষ শূণ্য অবস্থায় রয়েছে। বৈটিকর বাজারের সবকটি দোকানপাট বন্ধ দেখা যায়। রাস্তার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায় ভাঙাচুরা গ্লাস। ইটপাটের কংক্রিট।

পুলিশও টহল দিচ্ছে, সন্দেহজন ব্যক্তি ও গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে। গত রোববার বৈটিকর বাজারস্থ ফুলবাড়ি আজিরিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা এবার ইউপি নির্বাচনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিলো। নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নে অনেকটা উৎসবের আমেজ থাকলেও সন্ধ্যায় মুহুর্তের মধ্যে দৃশ্যটি পাল্টে যায়। ওই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বৈটিকর বাজারে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনার পর আওয়ামী লীগের বিজয়ী প্রার্থী আব্দুল হানিফ খান ও পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান আহমদের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

একপর্যায়ে বিক্ষোব্ধজন পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় গুলিতে আব্দুস সালাম (৬০) নামে একজন শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। এজহারে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪০০ জনকে আসামি করা হয়। এরপর থেকেই বৈটিকর বাজারসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। গ্রেফতার আতঙ্কে অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অন্যত্র। দায়েরকৃত মামলায় নীরিহ মানুষসহ ঘটনার দিন এলাকায় ছিলেন না এমন ব্যক্তিদেরও আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের ইসলামী কর্মী সমর্থকদেরও আসামী করা হয়। জানা যায়, ফুলবাড়ি ইউনিয়নে জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী মোটরসাইকেল মার্কায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ওই প্রার্থীর সাথে অপর প্রার্থীরদের কোন সংঘাত হয়। এরপরও সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াত কর্মী সমর্থকদের আসামী করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একবৃদ্ধ জানান, শান্ত প্রকৃতির একটি গ্রাম ছিলো আমাদের। কিন্তু ভোটের দিন রাতে বাজারে কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। এরপর মাইকে ঘোষণা করে কি থেকে কি হয়ে গেল। আমরা সংঘাত চাইনি। তবুও এই নির্বাচনটি আমাদের জন্যে দুঃস্বপ্নের মতো এসেছে।

তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন নীরবতা যেন আবার আমাদের গ্রামে ভর করেছে। নিস্তব্ধ দুটি সকাল কাটাতে হয়েছে। ঘরের চা পানের জন্য চিনি নেই। ঘরের বাজার (সদাই) নেই। মামলা হওয়ার পর থেকে সম্পূর্ণ গ্রাম ভয়ে প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে গেছে। পুরুষশুণ্যতায় চোর ডাকাতদের আতঙ্ক ও ভয় পাচ্ছেন নারীরা। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সালমা বেগম নামের এক মহিলার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, বাজারের ঘটনার ভয়ে বাড়ির মানুষ বাড়িতে থাকতে পারছেন না। কখন পুলিশ আসে আর কাকে ধরে নিয়ে যায়। এজন্য বাড়িতে পুরুষ মানুষ নেই। খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ চৌধুরী বলেন, এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেছে। ৪ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রামে আতঙ্ক থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না। পুলিশ শুধুমাত্র দোষীদের খোঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ