বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০ ২৬
হামিদা বেগম জ্যোস্না::
৭ এপ্রিল ২০ ২২
২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

এমসি কলেজে নববধূ গণধর্ষণ: মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি

হামিদা বেগম জ্যোস্না:: সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণ মামলার মামলার বাদী প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। গত ৪ এপ্রিল জিডিতে বাদী মাইদুল ইসলাম জানান, গত ১৯ মার্চ আনুমানিক সকাল ৯টায় তার বাড়িতে সিএনজি অটোরিক্সাযোগে একজন ব্যক্তি নাম পরিচয় গোপন রেখে তাকে খুঁজতে যায়। তিনি বাড়িতে না থাকায় তার বাবা ও ছোট ভাইর সাথে খারাপ আচরণ ও হুমকি দিয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। এই ব্যক্তি তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তার ব্যহত মোবাইল নম্বরে (০১৭১১৬৭৭৮৭৫) কল দিয়ে নাম-ঠিকানাপরিচয় গোপনরেখে তাকে বিভিন্ন ধরণের কথা-বার্তা ও হুমকি ধমকি প্রদান করে।

গত দুদিন থেকে কয়েকবার কল দিয়ে তাকে ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের ও তার মামলা পরিচালনাকারী বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা সিলেট-এর নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের ক্ষতিসাধন ও মিথ্যা মামলা এবং জানে মারার হুমকি প্রদান করে। এ অবস্থায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করা হয়েছে। দক্ষিণ থানার ওসি কামরুল আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, অদ্ভুত ফোন থেকে ওই ব্যক্তিকে ফোন দেয়া হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন বলে জানান।

২০১০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছারাবাসে গণধর্ষণের শিকার হন স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া এক গৃহবধ। এরপর পুলিশ ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে ওসিসিতে তিনদিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি। ওই রাতেই ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে মহানগরের শাহপরান থানায় ছয় ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। দেশে-বিদেশে আলাচিত এ গণধর্ষণের ঘটনার ২ মাস ২৮ দিন পর আদালতে ৮ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়ার তাহিদ মিয়ার পুত্র সাইফুর রহমান (২৮), হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার শাহ জাহাঙ্গির মিয়ার পুত্র শাহ. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫) , দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার উমেদনগরের মৃত রফিকুল ইসলামের পুত্র তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), জকিগঞ্জের আটগ্রামের মৃত অমলেন্দু লস্কর ওরফে কানু লস্করের পুত্র অর্জুন লস্কর (২৬), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুরের দেলোয়ার হোসেনের পুত্র রবিউল ইসলাম (২৫) , কানাইঘাট উপজেলার লামা দলইকান্দির (গাছবাড়ী) সালিক আহমদের পুত্র মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫) , সিলেট নগরীর গোলাপবাগ আবাসিক এলাকার (বাসা নং-৭৬) মৃত সানা মিয়ার পুত্র আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল (২৬) ও বিয়ানীবাজার উপজেলার নটেশ্বর গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের পুত্র মিজবাউল ইসলাম রাজনকে (২৭) অভিযুক্ত করে দন্ডবিধির ৩৪২/৩২৩/৩৭৯/৩৮৫/৩৪ ধারা তৎসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধন? ২০০৩)এর /৭/৯/(৩)৩০ ধারায় অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পুলিশ

। গ্রেফতারকৃত এই ৮ আসামির সকলেই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়। ৮ আসামির মধ্যে , সাইফুর রহমান , শাহ মাহবুবুর রহমান রনি , তারেকুল ইসলাম তারেক ও অর্জুন। লস্কর , মিজবাহুল ইসলাম রাজন ও আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ১৯ বছর বয়সী ওই নববধূকে গণধর্ষণ করে। রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম ধর্ষণে সহযোগিতা করে। ৮ আসামীর সকলেই ছাত্রলীগের টিলাগড় গ্রুপের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমানে ৮ আসামি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী প্যানেলের প্রধান এডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করতে জেলা চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলার মনিটরিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

অথচ, এক বছর পেরিয়ে গেলেও এর কোন অগ্রগতি নেই। মামলাকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করা হচ্ছে। অতীতে কোন মামলা দ্রুত বিচার। ট্রাইব্যুনালে যেতে এতো দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার কোন নজির নেই। সর্বশেষ কোন পর্যায়ে রয়েছে তাও জানা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এখন আসামীদেরকেও আর আদালতে আনা হয়। মামলাটির এমন অবস্থায় মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি এল।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ