৫:১৪ অপরাহ্ণ
মামলার পাহাড়ে দিশেহারা বহিস্কৃত শ্রমিক নেতা ফলিক !
মামলার পর মামলা ঘাড়ে চাপছে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কৃত সেলিম আহমদ ফলিকের শ্রমিক অর্থ আত্মসাতের ঘটনার মধ্যে দিয়ে পতন ঘটে এ শ্রমিক নেতার। তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাঠে নামেন সাধারন শ্রমিকরা। সেই শ্রমিকদের ভোটেই টানা প্রায় ২০ বছর চড়ি ঘুরিয়েছিলেন তিনি। গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব সাম্রাজ্যও। তার আমলেই কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগ
নেতা শাহিন নির্মমভাবে খোদ টার্মিনালে হামলার শিকার হয়েছিলেন। তারপরও ফলিকের সিংহাসনে আঁচড় পড়েনি। কারন শ্রমিকরাই ছিল তার শক্তি। সেই শক্তি এখন তার বিরুদ্ধে। তাকে টেনে হেঁচড়ে গদিচ্যুত করে দিয়েছে তারা। করেনাকালীন পরিস্থিতিতে কল্যান তহবিলের টাকা থেকে সাধারন শ্রমিকদের অর্থ প্রদান দাবী উঠে। কিন্তু এতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। তার পর হিসেব চায় সাধারন শ্রমিকরা। হিসেব প্রদানে এক পর্যায়ে বাধ্য হন তিনি। সেই হিসেবে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের চিত্র উঠে আসে। কিন্তু সেই টাকা কোথায় কিভাবে খরচ করেছেন তার কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি ওই শ্রমিক নেতা। তারপর বহিস্কার করা হয় তাকে। এনিয়ে মাঠ গরম কর্ওে শেষ রক্ষা হয়নি তার। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ৪৫ লক্ষ টাকা প্রদানে ৩টি চেক প্রদান করেন সেলিম আহমদ ফলিক। কিন্তু সেই টাকা নগদায়ন করতে ব্যর্থ হন তিনি। এ ঘটনায় চেক ডিজনারের পৃথখ ৩টি মামলা রুজু হয় তার উপর। গত ৬ আগষ্ট সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুনু মিয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিম, সহ- সাধারণ সম্পাদক হাজী মইনুল ইসলাম সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট ৩য় আদালতে এন. আই .এ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় এ ৩টি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১১৫/১১৬/১১৭। সেলিম আহমদ ফলিক গত ২৫, ২৭ ও ৩০ জুন ন্যাশনাল ব্যাংক গোলাপগঞ্জ শাখার ৩টি চেক ১৫ লক্ষ টাকা করে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নামে প্রদান করেন। শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে চেকগুলো নগদায়নের জন্য রুনু মিয়া, আব্দুল মুহিম, হাজী মইনুল ইসলাম ষ্টেশন রোড পূবালী ব্যাংক শাখায় উপস্থাপন করলে চেকগুলো ২৮ ও ৩০ জুন ডিজঅনার হয়। এঘটনায় ৫ জুলাই রুনু মিয়া, আব্দুল মুহিম, হাজী মইনুল ইসলাম আইনজীবীর মাধ্যমে ডাকযোগে সেলিম আহমদ ফলিকের ঠিকানায় লিগ্যোল নোাটিশও প্রদান করেন। নোটিশের মাধ্যমে ফলিককে ৩০ দিনের মধ্যে উল্লেখিত টাকা নগদে পরিশোধ করার জন্য আনুরোধ করা হয়। কিন্তু লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পরও সেলিম আহমদ ফলিক কোন টাকা পরিশোধ করেন নাই। তাই রুনু মিয়া, আব্দুল মুহিম, হাজী মইনুল ইসলাম ৬ আগষ্ট বাধ্য হয়ে এন. আই .এ্যাক্টের ১৮৮১ এর ১৩৮ ধারায় ৩টি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন। এদিকে সাধারণ শ্রমিকরা ফলিকের দুর্নীতি আর অপকর্ম থামাতে তার বিরুদ্ধে আইনমূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও কামনা করেন তারা।
এব্যাপারে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুনু মিয়া মামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ৩টি চেকে ৪৫ লাখ টাকা ছিল। কিন্তু কোনটিই নগদায়ন করতে পারেননি বহিস্কৃত নেতা সেলিম আহমদ ফলিক। এই টাকাগুলো শ্রমিকের কল্যান তহবিলের। এদিকে মেট্রোপলিটন ৩য় আদালতে ফৌজধারী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন মো: জসিম উদ্দিন। গত১৬ আগস্ট আদালতে নির্দেশে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ এ মামলাটি রেকড করে করেন। এমামলায় সেলিম আহমদ ফলিক, তার পূত্র রুকন আল ছামি সহ ৫জনকে আসামী করা হয়। এছাড়া তহবিল তছরুফের একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে সেলিম আহমদ ফলিকের বিরুদ্ধে। এছাড়া মানহানী ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছেন যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হাজী মইনুল। বর্তমানে মামলাটি সিলেট জোন সিআইডির এক কর্তকর্তা তদন্ত করছেন।