শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০ ২৬
ড্রীম সিলেট ডেস্ক
২২ আগস্ট ২০ ২০
১:০ ৫ অপরাহ্ণ

সরকারের উন্নয়ন ও ভাবমুর্র্তি বিনষ্টে সুনামগঞ্জের 
জগন্নাথপুরে ইলিয়াছ ও কাহেরের বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে অভিযোগ দাখিল!

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ৮নং আশারকান্দি ইউনিয়নের বড়ফেছি গ্রামের মৃত আফিজ উল্যার ছেলে ইলিয়াছ আলী, সফিক মিয়ার ছেলে কাহের মিয়া বিগত কিছুদিন আগে সাবেক মেম্বার শাহ খাইরুল ইসলাম, শাহ আব্দুল হক, মাওলানা খাজা তকি উদ্দিন, ওয়ারিশ মিয়ার নামে শাহ্ হাফিজ ফছিহ (রহ.) মাজার শরীফ ও হিজল বাড়ী কবরস্থান উন্নয়নের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, গুজব ছড়ানোর পায়তারা ও পরিকল্পিত ব্যক্তি বিশেষগণের মানহানী মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী চক্র আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়নে বাধাগ্রস্থ ও ভাবমুর্র্তি বিনষ্টে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ১৯ আগস্ট বুধবার জগন্নাথপুর থানার মাধ্যমে এই অভিযোগ দাখিল করেন ৮নং আশারকান্দি ইউপি আওয়ামীলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একটি বাড়ী একটি খামার বড়ফেছির সভাপতি, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি ৬নং ওয়ার্ডের সভাপতি, হযরত হাফিজ শাহ্ ফছিহ (রহঃ) মাজার উন্নয়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ, দিঘলবাক উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ গভর্ণিং বডির সাবেক দুই বারের সদস্য শাহ্ খায়রুল ইসলাম (সাবেক মেম্বার), সমাজসেবক শাহ্ মোঃ আব্দুল হক, বড়ফেছি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বড়ফেছি পঃ পাড়া জাঃ মসজিদের সাবেক মোতাওয়াল্লী মাওলানা খাজা তকি উদ্দিন, বড়ফেছি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ওয়ারিশ মিয়া। অভিযোগে অভিযোগকারী শাহ্ খায়রুল ইসলাম উল্লেখ করেন, আমি আওয়ামীলীগের একজন কর্মী হিসেবে নিজেকে সব সময় গরীব-দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানো সহ এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজে জড়িত থাকি। কিছুদিন পূর্বে আমার নিজস্ব মোবাইলে একটি অজ্ঞাত মোবাইল হতে ফোন দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি সহ মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়। এই ঘটনায় আমি গত ৪ জুন জগন্নাথপুর থানায় একটি জিডি করি। যাহার নং- ১৪২। গত ০৪/০৮/২০২০ইং তারিখে জগন্নাথপুর-২৪ ক্রমে অভিযোগের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদে আমরা অভিযোগকারীদের নামে ৮,৫০০ মেঃ ট্রন চাল আত্মসাৎ করার সংবাদ দেওয়া হয়। সেই অভিযোগ ও সংবাদের জবাব হিসেবে আমরা অভিযোগকারীরা গত ০৯/০৮/২০২০ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জগন্নাথপুর থানায় জবাব ও অভিযোগপত্র দাখিল করি। অভিযোগটি তদন্তের জন্য প্রকৌশলী (জনস্বাস্থ্য) জগন্নাথপুর বরাবরে প্রেরণ করা হয় এবং জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহোদয় এ.এস.আই ফিরোজ মিয়াকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দায়িত্ব প্রদান করেন। বিষয়টি তদন্ত হওয়ার পূর্বেই অভিযুক্তরা ব্যক্তিরা আরেকটি মিথ্যা বানোয়াট ও অভিযোগ এনে আমার ও আমার পারিবারিক সামাজিক মান সম্মান নষ্ট করার আনন্দে মেতে উটে। গত ১৮/০৮/২০২০ইং তারিখে একটি সংবাদ মাধ্যমে কবরস্থানের টাকা আত্মসাৎ এর কথা উল্লেখ করে অভিযোগ আনয়ন করা হয়েছে যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও পরিকল্পিত। প্রকৃত পক্ষে শাহ্ হাফিজ ফছিহ (রহঃ)’র মাজার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষনে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট মাজার উন্নয়ন কমিটি রয়েছে। এতে সভাপতি মুজিবুর রহমান মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম মইন, যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমদ ও শাহ্ খায়রুল ইসলাম, হান্নান মিয়া, মুকিত মিয়া, কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন। এখানে একক ভাবে টাকা উত্তোলন বা কাজের কোন সুযোগ নাই। কমিটির রেজুলেসন ছাড়া কোন টাকা বা কাজ করা সুযোগ নাই। তাই আত্মসাৎ এর কোন প্রশ্ন আসে না। সভাপতি, সেক্রেটারীর কাছে মাজারের বিভিন্ন কাগজপত্র সহ হিসাব রক্ষণাবেক্ষন সব কিছু জমা রহিয়াছে। শাহ্ হাফিজ ফছিহ (রহঃ)’র মাজারে অতীতে ইলিয়াছ ভন্ডরা গাজা, মদের আসর বসাইয়া লেংটা ওরস করত। সেই লেংটা ওরস আমি আমরা বন্ধ করে দেই। বর্তমানে মাজারে প্রতিবছরই ইসলামিক জলসা অনুষ্টিত হয়। শাহ্ খায়রুল ইসলাম জানান, যখন তার ৬/৭ বছর, তখন ১৯৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়। তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমার বাবা, চাচারা ও গ্রামবাসী অনেকই লাটি, সুলফি, বল্লম নিয়ে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীকে হটানোর জন্য সাদীপুর নুরপুর মাটে গিয়েছিলেন। আমার বাবা ও চাচারা বলেছেন ইলিয়াছ সহ ২/৩ জন পুরিকোনার বিখ্যাত রাজাকার হারিছের মাধ্যমে তাদের নাম রাজাকারের তালিকায় লিপিবদ্ধ করে। বর্তমানে ইলিয়াছ সহ একটি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধি চক্র মাথাঝারা দিয়ে আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়নের ভাবমূর্তি নষ্ট করার পায়তারায় রয়েছে। অতীতে আমার ইঞ্জিন চালিত ৫টি নৌকা ছিল। যার আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা। ঐ সময় আমি কুশিয়ারা নৌ পরিবহন মালিক সমিতির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। অভিযোগকারী শাহ্ মোঃ আব্দুল হক অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমি আওয়ামীলীগের একজন সক্রীয় মাট কর্মী হিসেবে সমাজ সেবা ও আওয়ামীলীগের বিভিন্ন উন্নয়নের নিজেকে নিয়োজিত রাখায় গর্বিত মনে করি। মুক্তিযোদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী ইলিয়াছ চক্র পরনিন্দায় লিপ্ত হয়ে আমি ও আমার গ্রামের মান সম্মান নষ্ট করছে। আমার পিতা মরহুম হাজী হোসেন মিয়া, চাচা মরহুম হাজী তাহির মিয়া ও চাচা মরহুম হাজী ইসরাইল মিয়া বড়ফেছি বাজার প্রতিষ্টা করেছিলেন। উক্ত বড়ফেছি বাজারে ইলিয়াছ গাজা, মদ ও সর্বপ্রকার মাদকের ব্যবসা করত। বড়ফেছি বাজারের তাজ মেডিকেল ফার্মেসির মালিক ডাক্তার বসর মিয়া ঔষদের ফার্মেসীতে রাত্রে ২টার দিকে ঢুকে ডাকাতি করার সময় ডাক্তার বসেরের সুর চিৎকারে আশে পাশের জনগন ইলিয়াছকে হাতে নাতে ধরে ফেলে। উত্তেজিত জনতা গণধুলাই দিয়ে ইলিয়াছের মাথা নেড়া করে আটক করে। পরে হাজী রশিদ মিয়া ও মরহুম বাহারুল ইসলামের জিম্মার মাধ্যমে ছাড়া পায়। মৌলভীবাজার ব্যাংকে চেক চুরি করে টাকা উত্তোলন করতে গেলে ব্যাংক কর্র্তৃপক্ষের মামলায় ৬ মাস জেলহাজতে ছিল। তার বর্তমান সহকর্মী কাহের মিয়া একজন হেরোইন সেবী ও হেরোইন গাজা ব্যবসায়ী। সেও সিলেট রেল ষ্টেশনে হেরোইন সহ ধরা পরে সিলেট কারাগারে ৩ মাস জেলহাজতে ছিল। আরেক অভিযোগকারী মাওলানা খাজা তকি উদ্দিন অভিযোগে উল্লেখ করেন, অভিযোগ তদন্ত হওয়ার পূর্র্বে আরেকটি মিথ্যা অভিযোগ এনে আমি ও আমাদের গ্রামের মান-সম্মান নষ্ট করা হাফিজ ফছিহ (রহঃ) এর পবিত্র ভূমিতে ইলিয়াছ মতো মানুষ আছে বলে আমি জানতাম না। তাহার প্রতি আমার তিব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। আমি ৪নং বাদী/অভিযোগকারী অভিযোগ করিয়া বলিতেছি যে, একটি মিথ্যা অভিযোগ তদন্ত হওয়া পূর্বে আরেকটি মিথ্যা অভিযোগ আনয়ন করিয়া আমি ও আমাদের গ্রামের মান-সম্মান নষ্ট করা হাফিচ ফছিহ (রহঃ) এর পবিত্র ভূমিতে। তাহার প্রতি আমার তিব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। বিষয়টি আমলে নিয়ে ন্যায় ও সুবিচারের জন্য অভিযুক্তদের দ্বারা সরকারের উন্নয়ন বিরোধী অপপ্রচার বন্ধ ও অভিযোগকারীদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আইনত ব্যবস্থা গ্রহন করতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ