শনিবার, জুন ৬, ২০ ২৬
ড্রীম সিলেট ডেস্ক
১৫ এপ্রিল ২০ ২০
৩:১৭ অপরাহ্ণ

পৃথিবীতে ভাইরাস-যুগের অভিষেক এবং এ সংক্রান্ত দুটি বিদেশী ফিল্ম

সৈয়দ মবনু:: আমরা করোনার ক্রান্তিকালের একটা মারাত্মক সময় দিয়ে অতিক্রম করছি। ভাইরাসটি মারাত্মক এবং সংক্রামক হওয়ায় আমরা লক ডাউনে ঘরে বন্ধি আছি। সিনেমা দেখার অভ্যাস বা নিশা নেই। তবে ডকুমেন্টারী হলে দেখি। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে একটা ফিল্ম দেখেছিলাম। নাম ‘ট্রেন টু বুসান’। ফিল্মটি ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃক তৈরিকৃত। অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ফিল্ম। পরিচালক ছিলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র পরিচালক এবং চিত্রনাট্যকার ‘ইয়োন সাং-হো’ (Yeon Sang-ho)। অভিনয় করেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় টিভি অভিনেতা ‘গং জি-চিওল’ (তাঁর মঞ্চ নাম Gong Yoo), দক্ষিণ কোরিয়ার অত্যান্ত আলোচিত-সমালোচিত অভিনেত্রী ‘জং ইউ-মী’ (Jung Yu-mi), এবং কোরিয়ান আমেরিকান অত্যান্ত জনপ্রিয় এবং ব্যাঙ্কেবল অভিনেতা ‘মা দং-সেউক’ (Ma Dong-seok)। বেশিরভাগ অভিনয়ই ট্রেনে। ট্রেনটি বুসানের দিকে যাচ্ছিলো।

ছবিটি ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে দেখলেও অনুভব করতে পারিনি এর গুরুত্ব কিংবা ভয়াবহতা। মনে হয়েছে নিচক একটি কাল্পনিক ভৌতিক ফিল্ম। ফিল্মের মূল নায়ক ‘গং জি-চিওল’, তিনি ফিল্মে একজন তাহবিল ব্যবস্থাপক (Fund manager), অভিনয়ে তার নাম ‘সেওক-উ’। ‘সেওক-উ’-এর তার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ভালো নয়, সে থাকে অন্য শহরে। তাদের এক মেয়ে আছে, নাম- ‘সু-আন’, সে থাকে বাবা এবং দাদির কাছে। সু-আন তার জন্ম দিবসে বাবার কাছে বায়না ধরে মা-কে দেখতে যাবে। তার বাবা ‘সেওক-উ’ মেয়েকে খুশি করতে রাজি হলেন। ‘সু-আন’-এর মা থাকেন বুসান শহরে। তারা সিওল স্টেশন থেকে বুসানের উদ্দেশ্যে কেটিএক্স ১০১ ট্রেনে উঠে। তাদের ডাব্বায় আরও আছেন অন্যান্য যাত্রীদের মধ্যে সাং-হাওয়া (মা দং-সেউক) এবং তার গর্ভবতী স্ত্রী সেওং-কিওং (জং ইউ-মী’), সিওও ইওন-সুক, ইয়ং-গুক এবং তাঁর চিয়ারলিডার বান্ধবী জিন-হি, বড় বোন ইন-গিল এবং জং-গিল সহ একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের বেসবল দল এবং গৃহহীন এক পাগল। পাগলটি প্রথমে ট্রেনের বাথরুমে লুকিয়ে ছিলো। ট্রেনের টিটি তাকে দেখতে পেয়ে ধমক দেয় এবং টিকেট না থাকলে পরবর্তি স্টেশনে নেমে যেতে হবে বলে। সে হাসে এবং বিরবির করে বলে, সবমানুষ মরে যাবে। ট্রেনে গোপনে এক জোমবি (zombie) রোগি উঠেছিলো, তা কেউ দেখেনি। ‘জোমবি’ শব্দটি ‘হাইতিয়ান’ লোককাহিনী থেকে সংগ্রহকৃত এবং তা একপ্রকারের মানসিক রোগ, যা একপ্রকারের ভাইরাসের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। ট্রেন রওনা হওয়া পর রোগিটি যখন মাটিতে পরে চিৎকার করছিলো তখন ট্রেনের মহিলা-কর্মচারী এগিয়ে পাশে গিয়ে সমস্যা জানতে চেষ্টা করেন। জোমবি তখন মহিলার গলায় কামড় দিয়ে ধরে। মহিলা জোমবির কাছ থেকে বাঁচতে চিৎকার দিয়ে দৌঁড়তে থাকে ডাব্বার ভেতরে। কেউ কিছু বুঝার আগেই জোমবি মাহিলাকে মাটিতে ফেলে গলায় কামড় দিয়ে বসে। সবাই যখন তাকে ছাড়ায় তখন দেখে ছেলেটির মুখে রক্তপানের চিহ্ন। মূহুর্তের মধ্যে মহিলাও জোমবি রোগে আক্রান্ত হলেন। ট্রেনের কর্মচারী জোমবি হয়ে যাওয়ার পর খুব দ্রুত ট্রেনের মধ্যে আরও অনেক জোমবি রোগে আক্রান্ত হলেন। দ্রুত রোগটি ট্রেনের মধ্যে বিভিন্ন ডাব্বায় ছড়িয়ে পরে। ট্রেনের যাত্রিরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানতে পারেন গোটা দেশ জোমবি মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। সরকার গোটা দেশকে লক ডাইন করে দিয়েছে। রাস্তায় পুলিশ-সেনাবাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। ‘সিক-উ’ মায়ের সাথে ফোনে আলাপে জানতে পারে তার মা জোমবি রোগে আক্রান্ত। এদিকে পুলিশ-সেনাবাহিনীর মধ্যেও রোগের ইনফেকট দেখা যাচ্ছে। ট্রেনটি যখন ‘ডিজিওন স্টেশন’-এ থামে তখন দেখাগেলো রাস্তায় পুলিশ-সেনাবাহিনী ব্যাপকহারে ভাইরাসে ইনফেকটেড। যাত্রিরা নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য পুলিশ-সেনাবাহিনীর কাছে গিয়ে দেখা যায় জায়গা ভুল। মানুষ আবার পিছনের দিকে দৌঁড়তে থাকে। এরই মধ্যে অনেক যাত্রি পুলিশ-সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ইনফেকটেড হয়ে যায়, অনেক দ্রুত ট্রেনে ফিরে আসতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় এবং অনেক ফিরে আসে। নায়ক ‘সিক-উ’ তাঁর মেয়ে সহ এবং ‘সাং-হাওয়া’ তার স্ত্রী সহ কোনমতে বেঁচে যখন দ্বিতীয়বার ট্রেনে উঠে তখন সে যে সংস্থার মালিক সেই সংস্থা থেকে একজন কর্মকর্তা ফোন দিয়ে জানতে জান, স্যার আমরা তো এই ভাইরাস বিস্তারে জড়িত, আমরা কি ভুল করলাম? ‘সিক-উ’ চোখ মুছতে মুছতে বললেন, না। ইতোমধ্যে তার ভেতরে কিছু মানবতা জেগে উঠেছে, তিনি বেশ ভেঙে গেলেন। ভেসিং-এ হাত থেকে রক্ত পরিস্কারের চেষ্টা করলেন, কিন্তু কাপড়েও রক্ত লেগে আছে। নিজেকে নিজে আয়নায় দেখে তিনি কেঁদে দিলেন। বাথরোম থেকে বেরিয়ে মেয়েকে এক নজর দেখলেন। কিন্তু এখন তার করার কিছু নেই। নিজের গর্তে নিজকেই মরতে হচ্ছে, তার মা মারাগেছেন, মেয়েও হয়তো মরতে হবে। এদিকে সামরিক বাহিনী বুসানের কাছে একটি পৃথক ক্যাম্প স্থাপন করেছে বলে তারা জানতে পারে। ট্রেনে বেঁচে থাকাদের লড়াই বুসাক যাওয়ার চেষ্টা। ধাপে ধাপে লড়াই চলে জোমবি এবং অজোমবিদের মধ্যে। কামড় বাসাতে পারলেই অজোমবিও জোমবি হয়ে যায়। ট্রেন চলছে, বিভিন্ন ডাব্বায় ভাইরাসে ইনফেকটেড মানুষগুলোও আছে, একেকজন একেকভাবে একেক ডাব্বায় উঠার ফলে অনেক তাদের আপনজন থেকে বিচ্ছিন্ন। সিওক-উ, সাং-হাওয়া এবং ইওং-গুক এই তিনজন অনেক যুদ্ধ করে নয় নম্বার ডাব্বা থেকে তের নম্বার ডাব্বায় গেলো নিজেদের প্রিয়জনদের সন্ধানে। সেখান থেকে তারা অন্য ডাব্বায় যেতে চায়, সেখানে আরও পরিচিত মানুষ রয়েছেন। ভাইরাসে ইনফেকটেড ভয়ে ঐ ডাব্বার যাত্রীরা দরজা লাগিয়ে দেয়। অনেক যুদ্ধ চলে জোমবিদের সাথে। যুদ্ধ চলে দরজা খুলে ঐ ডাব্বায় যেতে। যুদ্ধের এক পর্যায়ে দুজনের প্রাণ যায়, বাকিরা দরজা খুলে ঐ ডাব্বায় প্রবেশ করে। কিন্তু এই ডাব্বার লোকেরা ওদেরকে সেখানে থাকতে দেয় না। ওরা অন্য ডাব্বায় যাওয়ার পরও এই ডাব্বার লোকেরা রক্ষা পাননি, তাদের মধ্যখান থেকে একজন মহিলা তার বোন হারানোর দুঃখে নিজেই দরজা খুলে জোমবিদেরকে আসার সুযোগ করে দিলেন। এভাবে ট্রেন আরেক স্টেশনে যায়। সেখানে গিয়ে আর সামনে যেতে পারে না।
ট্রেনের কন্ডাক্টর অনেক কষ্ট করে অন্য ট্রেন চালিয়ে সামনে যেতে গিয়ে আহত ইউন-সুককে বাঁচানোর চেষ্টার সময় নিজে জোমবিদের কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। কিছু ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। লাইনচ্যুত ট্রেনের নীচে সিওক-উ তার মেয়ে এবং অন্যযাত্রিসহ আটকে গেলো। পরে একটি পথে বেরিয়ে আসে, কিন্তু ট্রেনর একটি ডাব্বা পরে সেই পথ বন্ধ হয়ে তার মেয়ে সহ অন্যরা আটকে যায়। ‘সিক-উ’ অনেক কষ্ট করে পথ করে ওদেরকে বের করার সময় ভেতরে জোমবিরা এসে যায়। তখন পাগল লোকটি নিজের জীবনকে বিসর্জন দিয়ে অন্যদেরকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। এরপর তারা দৌঁড়ে অন্য ট্রেনে ওঠে। সেই ট্রেনে অসংখ্য জোমবি উঠতে চেষ্টা করলেও সিওক-উ তাদেরকে প্রতিরোধ করতে সফল হয়। কিন্তু ট্রেনের ভেতরে একজন জোমবি পূর্ব থেকেই ছিলো। অবশেষে সিওক-উ এর সাথে সেই জোমবির যুদ্ধ হয়। জোমবিকে যখন সিওক-উ পরাজিত করে ট্রেন থেকে ফেলে দিচ্ছিলো তখন সে সিওক-উ’র হাতে কামড় দেয়। সিওক-উ বুঝতে পারেন এটা তার শেষ সময়। তাকেও এখন জোমবি হতে হবে। যদি তিনি দ্রুত না মরেন তবে তিনি নিজ মেয়েকে কামড় দিয়ে জোমবি করে দিবেন। তিনি খুব দ্রুত নিজের মেয়েকে সবকিছু বুঝিয়ে সাথের মাহিলাটিকে মেয়ের দায়িত্ব দিয়ে ট্রেনের একেবারে পিছনে এসে ঝাপ দিয়ে পরে আত্মহত্যা করেন। ফলে এই ট্রেন হয়ে যায় একেবারে জোমবিমুক্ত। ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছার আগেই থেমে যায়। সেনাবাহিনী তখন দূরবিন দিয়ে দেখলো দু জন নেমে আসছে। তারা তাদের স্যারের সাথে যোগাযোগ করলো, স্যার বললেন, ইনফেকটেড কি না তা পরিক্ষা করতে। ওরা বললো, দূরে পরিক্ষা করা সম্ভব নয়। তখন স্যার গুলির নির্দেশ দিলেন। সিপাহী যখন গুলি করবে তখন সু-আন তাঁর বাপের জন্য একটা গান শুরু করে। সিপাহী এই গান শুনে থেমে যায়। এই পর্যন্ত হলো ট্রেন টু বুসানের কাহিনী।

এখন কথা হলো, আমরা যখন করোনাভাইরাসে আক্রমনের মুখোমুখি ২০২০ খ্রিস্টাব্দে কিংকর্তব্য বিমূঢ়, আমরা বন্ধ হয়ে আছি ‘লক ডাইন’ ইত্যাদির মাধ্যমে, এবং খুব আশ্চর্য হচ্ছেন আমাদে শিক্ষিত সমাজ, কিন্তু তারও অনেক পূর্বে দক্ষিন কোরিয়া (২০১৬ খ্রিস্টাব্দে) এবিষয়ে ফিল্ম তৈরি করে নিয়েছে। তারা জানতো এমন কিছু পৃথিবীতে ঘটবে। শুধু কি তাই। এরও অনেক পূর্বে ২০১১ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকা করোনাভাইরাস নিয়ে ছবি তৈরি করেছে ‘কন্ট্যাগিং (Contagion)’ শিরোনামে। অত্যন্ত রোমঞ্চকর ছবি। কন্ট্যাগিং শব্দের অর্থ হলো ‘রোগসংক্রমণ’। এই ছবিতে যে ভাইরাসকে ব্যবহার করা হয়েছে তা মূলত করোনাভাইরাস। এই ছবিতে অভিনয়ে ছিলেন বিখ্যাত ফরাসী অভিনেত্রী, সংগীতজ্ঞ এবং পরিবেশবিদ মেরিওন কটিলার্ড (Marion Cotillard), অন্যতম সর্বাধিক অর্থ উপার্জনকারি আমেরিকান অভিনেতা, চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকার ম্যাথিউ পাইগে ড্যামন (Matthew Paige Damon), আমেরিকান অভিনেতা, নাট্যকার, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার এবং চলচ্চিত্র পরিচালন লরেন্স জন ফিশর্বান তৃতীয় (Laurence John Fishburne III), বিশিষ্ট ইংলিশ (লুইশাম, ইংল্যান্ড) অভিনেতা ডেভিড জুড হেইওয়ার্থ ল (David Jude Heyworth Law)ি, আমেরিকার বিশিষ্ট্য অভিনেত্রী, গায়ক, লেখক এবং ব্যবসায়ী গুইনথ কেট প্যাল্ট্রো (Gwyneth Kate Paltrow)ি, ইংরেজ অভিনেত্রী কেট এলিজাবেথ উইনসলেট (Kate Elizabeth Winslet), আমেরিকান অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকার ব্রায়ান লি ক্র্যানস্টন (Bryan Lee Cranston), বৃটিশ-আমেরিকান অভিনেত্রী জেনিফার অ্যান এহলে (Jennifer Anne Ehle), আমেরিকান অভিনেত্রী সানা ম্যাককয় ল্যাথান প্রমূখ। এই ছবির প্লট হলো শ্বাসকষ্টের সংক্রামিত ভাইরাস করোনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে ভাইরাসটি মানুষের নজরে আসে সমুদ্রতীরের এক বাড়ি ও তার আশপাশে। পরে নজরে আসে ইটাতির পথে একটি উড়োজাহাজে। হংকংয়ের ব্যবসায়িক সফর থেকে ফিরার পথে নায়িকা বেথ এমহফের (Beth Emhoff) উড়োজাহাজে ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তিনি বিমান থেকে নেমে শিকাগোয় তাঁর সাবেক প্রেমিকের সাথে দেখা করেন এবং তাদের মধ্যে যৌন মিলনও হয়। দুদিন পরে তিনি আসেন তার পরিবারের বাড়ি শহরতলির মিনিয়াপলিসে। এখানে এসে তিনি অনেকটা অস্তির হয়ে ধসে পড়েন। তার স্বামী মিচ এমহফ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তিনি মারা যান। কেউ এই মারা যাওয়ার কারণ বুঝলেন না। তার স্বামী মিচ ঘরে ফিরে দেখেন তার সৎ সন্তান ক্লার্কও মারা গেছে। আটলান্টায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রতিনিধিরা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের ডা. এলিস শেভারের সাথে সাক্ষাত করেন এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে এই রোগটি একটি ‘বায়োইপান’ যা থ্যাঙ্কসগিভিং উইকএন্ডে সন্ত্রাস সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। চেভার তদন্তের জন্য মিনিয়াপলিসে এপিডেমিক ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের কর্মকর্তা ডা. এরিন মিয়ারসকে প্রেরণ করেন। তিনি স্থানীয় আমলাদের সাথে আলোচনা করেন, যারা জনস্বাস্থ্যের গবেষণার জন্য সংস্থান করতে নারাজ। এরই মধ্যে ডা.মিয়ারস সংক্রামিত হয়ে মারা যান। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বেশ কয়েকটি শহর লক ডাইন করা হয়। এই সময় দেশে লুটপাট ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অতঃপর সডিসিতে ডা. অ্যালি হেক্সটল নির্ধারণ করেন যে ভাইরাসটি শূকর- এবং ব্যাটজনিত ভাইরাস দ্বারা জিনগত উপাদানের মিশ্রণ। নিরাময়ের কাজ শুরু করেন। বিজ্ঞানীরা এমন কোনও কোষের কাজ আবিষ্কার করতে পারেন না যার মধ্যে নতুন চিহ্নিত এমইভি-১ বৃদ্ধি করা যায়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইয়ান সুসমান তার নমুনাগুলি নষ্ট করার জন্য চিভারের আদেশকে লঙ্ঘন করেন এবং ব্যাট সেল ব্যবহার করে ব্যবহারযোগ্য এমইভি -১ কোষের কাজ চিহ্নিত করেন। হেক্সটল একটি ভ্যাকসিনের কাজ শুরু করে যুগান্তকারী কাজ করেন। অন্যান্য বিজ্ঞানীরা নির্ধারণ করেন, ভাইরাসটি শ্বাসকষ্টের ফোঁটা এবং ফোমাইট দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে, যখন ভাইরাসের পরিবর্তন ঘটে তখন চারটির একটি প্রাথমিক প্রজনন হয়; তারা প্রজেক্ট করেন যে বিশ্বের জনসংখ্যার ১২ জনের মধ্যে ১ জন ২৫-৩০% মৃত্যুর হারের সাথে সংক্রামিত হবে।

অবশেষে প্রকাশিত হয় এই ষড়যন্ত্রে মূল তাত্ত্বিক অ্যালান ক্রামউইডি, তিনি নিজেই এ সম্পর্কিত একটি ভিডিও পোষ্ট করেন। এতে তিনি দাবী করেন, ফোরাসাইথিয়া থেকে প্রাপ্ত হোমিওপ্যাথিক নিরাময়ে তিনি ভাইরাস থেকে নিজেকে নিরাময় করেছেন। ফোরসিথিয়া সন্ধানকারী লোকেরা ফার্মেসী খুঁজে বের করে। ক্রামউইডিকে ষড়যন্ত্র এবং সিকিওরিটির জালিয়াতির জন্য গ্রেপ্তার করা হয়। একটি ক্ষতিকারক ভাইরাস ব্যবহার করে, হেক্সটল একটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন সনাক্ত করেন। এই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ২৫ মিলিয়ন এবং বিশ্বব্যাপী ২৬ মিলিয়ন পৌঁছে।

এই দুটি সিনেমাই আমাকে বেশ ভাবিত করে বর্তমান করোনাভাইরাসের ইনপেক্ট দেখে। ছবি দুটির মূল বক্তব্য স্পষ্ট বলে দেয়, ভাইরাসগুলো প্রাকৃতিক নয়, আধিপত্যবাদি মানুষের তৈরি। প্রশ্ন জাগে মনে, যেভাবে আমরা অতীতে পাথর-যুগ থেকে লোহার-যুগে এসেছিলাম, সেভাবে কি বুলেট-বারুত-অণু-পরমাণুর যুগ অতিক্রম করে আমরা ভাইরাসের যুগে চলে যাচ্ছি ? আগামী যুদ্ধগুলো কি ভাইরাস ব্যবহারের মাধ্যমে হবে?

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ