১১:২৬ অপরাহ্ণ
: মোগলাবাজার থানার এসআই মুকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ
চাঁদাবাজী ধারায় এক পরিবারের ৬ জনের বিরুদ্ধে ‘ফিটিং কেইস
জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। দুই পক্ষই একই রক্তের। সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা-ভাই। একই বাড়িতে, একই ছাদের নিচে বসবাস। এক পক্ষ অঢেল অর্থ বিত্তের মালিক। অপরপক্ষের একভাই সিএনজি অটোরিক্সা চালক ও একজন সাধারন কৃষক। দূর্বল পক্ষকে শায়েস্তা করতে বিত্তশালী পক্ষ হিংসা-প্রতিহিংসার আগুন জ¦লছে। সেই সুযোগ করে দিয়েছেন এসএমপি মোগলাবাজার থানার দারোগা মুকুল আহমদ।
ফাঁসিয়ে দিয়েছেন সাজানো ঘটনায় চাদাবাজীর মামলায়। আসামী করা হয়েছে আপন দুই চাচা, দুই চাচার স্ত্রী, চাচাতো ভাই ও চাচার স্ত্রীর এক বড়ভাইকে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানাধীন দাউদপুর ইউনিয়নের বাটিয়ার গ্রামে। সাজানো এ মামলার আসামী সিলাম ইউনিয়নের পদ্মলোচন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শামীম আহমদ এ নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কমপ্লেইন সেলে। আজ দুপুরে সুনির্দিষ্ট ই-মেইল যোগে পাঠিয়েছেন এ অভিযোগ।
ইমেইলে যোগে প্রেরিত অভিযোগ তিনি বিচার দাবী করে বলেছেন আইনের একজন রক্ষক হয়ে আইনকে নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আর্থিক অবৈধ ফায়দার লোভে বংশীয় ও আপন স্বজনদের মধ্যেকার জমি সংক্রান্ত বিরোধকে স্থায়ী শক্রতায় রূপ দিয়েছেন এসআই মুকুল আহমদ। এরমধ্যে দিয়ে পরিবার ও সমাজে হিংসা প্রতিহিংসা খুন খারাপিকে উস্কে দিচ্ছেন তিনি। আইনী শপথের অপব্যহারকারীরা, আইনী সেবার মৌলিক অধিকার হরণকারী, অপেশাদার ও অনৈতিক কর্মকান্ডের হোতা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিচার চান তিনি।
অভিযোগে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের সিলাম টিকরপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা শামীম আহমদ উল্লেখ করেন, তার বোনের বাড়ি দুরবর্তী দাউদপুর ইউনিয়নের বাটিয়াচর গ্রামে। বোন জামাই পরিবারের সাথে আপন চাচা প্রতিবেশী ধর্নাঢ্য ছিদ্দেক আলী পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। ধর্নাঢ্য ছিদ্দেক আলীর ৩ পূত্র প্রবাসী ও বাকী ৩ পূত্র ঢাকায় প্রতিষ্টিত ব্যবসায়ী। পক্ষান্তরে আমার বোন জামাই চেরাগ আলী (৪২) একজন সিএনজি চালক। ‘নুন আন্তে পান্থা ফুরায়’ এই পরিবারের সাথে ধর্নাঢ্য প্রতিবেশী পরিবারের আর্থিক প্রার্থক্য যোজন যোজন। সেকারনে আমার বোন জামাইর নিরীহ পরিবারকে নানাভাবে কোনঠাসা করে হয়রানী চালাচ্ছে ধর্নাঢ্য স্বজন প্রতিবেশী পরিবারটি।
সাধারন ডায়েরী দিয়ে এসআই মুকুলের হয়রানির সূচনা :
গত ১০ মে এসএমপির মোগলাবাজার থানায় সাজানো ঘটনায় একটি সাধারন ডায়েরী (নং ৪০৯) দায়ের করেন ছিদ্দেক আলী (৬২)। সাধারন ডায়েরীতে বিবাদী করেন শামীম আহমদের বোন জামাই মো: চেরাগ আলী ও তার বড় ভাই কৃষক সিরাজ আলীকে (৪৫)। সাধারন ডায়েরীটি তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই মুকুল আহমদ বিপি-৯২২০২২৭৭৮২। এরপর ফরমায়েসী তদন্ত শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন তিনি। প্রসিকিউশন নং ৪৬/২২ তারিখ: ২১/০৬/২০২২ইং। পরবর্তীতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২য় আদালত সিলেট থেকে ননএফআর ২৭/২২ নং মামলার্ভূক্ত হয়ে সমন জারি করা হয় বিবাদীদের বিরুদ্ধে। আদালতে হাজিরের তারিখ ছিল গত ২৮ জুলাই।
কিন্তু আদালতে হাজিরের ঠিক দুই দিন আগে ২৫ জলাই সাজানো ঘটনায় ২৬ জুলাই মোগলাবাবাজার থানায় একটি মামলা রুজু করেন সাধারন ডায়েরী বাদী ছিদ্দেক আলীর পূত্র মিসবাহ উদ্দিন রাসেল (৩৩)। থানায় অভিযোগ দায়েরের পরপরই কোন রকম তদন্ত ছাড়া মামলটি (নং ১১/১০২) রেকর্ড করা হয় মোগলাবাজার, এসএমপি থানায়। রুজুকৃত মামলার তদন্তের দায়িত্ব নেন বির্তকিত দারোগা মুকুল আহমদ। মামলার ধারা সমূহ: ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৮৫/৫০৬ পেনাল কোড-১৮৬০। মামলার আসামীদের মধ্যে ১ নং আসামী আমার ভগ্নিপতি চেরাগ আলী, ২ নং ভগ্নিপতির বড় ভাই সিরাজ মিয়া, (৩) আমি নিজে শামীম আহমদ, ৪ নং আসামী আমার ছোট বোন ও (১ নং আসামীর স্ত্রী) বেদানা বেগম ও ৫ নং আসামী (২ নং আসামীর স্ত্রী) নাজমা বেগম ও ৬ নং আসামী (২ নং আসামী ও ৫ নং আসামীর পূত্র) ফাহিম।
প্রকৃত অভিযোগ না নিয়ে থানা থেকে তাড়িয়ে দেন এসআই মুকুল:
গত ২৫ জুলাই মুলত মিসবাহ উদ্দিন রাসেল ও তার পিতা ছিদ্দেক আলী হামলা করেন ১১/১০২ নং মামলার ৪ নং আসামী বেদানা বেগমের উপর। একজন গৃহিনী নারীকে শ্লীলতাহীন সহ নির্যাতন প্রকাশ্যে করেন তারা। এঘটনায় ওই দিন বিকেলে অভিযোগ নিয়ে মোগলাবাজার থানায় যান বেদানা বেগম। তার সাথে ছিলে বেদানা বেগমের বড় ভাই কমপ্লেইন সেলে অভিযোগ দানকারী শামীম আহমদ। তার সামনেই বেদানা বেগমের হাত থেকে অভিযোগখানা টেনে নেন এসআই মুকুল। এরপর অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও শারিরীকভাবে হেনস্তা করেন বেদানা বেগমকে। এর প্রতিবাদ করেন শামীম আহমদ। এক পর্যায়ে থানা থেকে তাড়িয়ে দেন তাদের। ্ওই দিন দিবাগত রাত ৩টায় শামীম আহমদকে সিলাম ইউনিয়েনের টিকরপাড়ার গ্রামের বাড়ী থেকে আটক করেন এসআই মুকুল। পরদিন দুপুরের শামীম আহমদকে ৩ নং আসামী করে ওই চাঁদাবাজীর মামলা রেকর্ড করেন থানায়।
চাঁদাবাজী মামলা ঘটনায় এসআই মুকুলের ভূমিকা :
থানা থেকে ঘটনাস্থল প্রায় ৪ কিলোমিটার দুরে। কিন্তু ২৫ এপ্রিল সকালে বাদী বিবাদীর মধ্যেকার ঘটনার স্থলে আকস্মিকভাবে কি করে পৌছলেন এসআই মুকুল এ নিয়ে বিস্মৃত স্থানীয় এলাকাবাসী। ত্ওা সাধারন পোষাকে। শামীম আহমদের অভিযোগ, একটি সিএনজি অটো রিক্সায় ঘটনাস্থলের পাশে অপেক্ষারত ছিলেন এসআই মুকুল। তাই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওঁৎ পেতে মামলা নাটক সাজিয়ে ফিটিং কেইসের কারিগর তিনিই।
সাজানো মামলায় স্থানীয় মহল্লাবাসীর সিদ্ধান্ত :
সাজানো ঘটনায় নিরীহ লোকজনের হয়রানী করার ঘটনায় গত ২৯ জুলাই স্থানীয় বাটিয়ারচর মহল্লাবাসী এক বৈঠকের মাধ্যমে সর্বসম্মতিভাবে ক্রমে ফিটিং কেইসের নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে বাদী মিসবাহ উদ্দিন রাসেল সহ তার পরিবারকে মহল্লাবাসীর জান মালের হুমকি ও সামাজিক মূল্যবোধের দুষমন হিসেবে আখ্যায়িত করে লিখিতভাবে সর্ম্পক বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।