বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০ ২৬
ডেস্ক নিউজ::
২৪ জুন ২০ ২৩
১০ :৫৭ অপরাহ্ণ

বালাগঞ্জে আতিক হত্যাকান্ডে আসামীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি এলাকাবাসীর

সিলেটের বালাগঞ্জের দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে আতিকুর রহমান হত্যা মামলায় ৩ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

১২ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ হত্যা কান্ডের ঘটনাটি ঘটে। এই নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকা জুড়ে প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। তারা দোষীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

খুন হওয়া আতিকুর রহমান সিলেট নর্থ ইষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিএসই বিভাগে অনার্স পাস করেছেন। ঘটনার দিন তিনি সকাল ৮টার দিকে বাড়ী থেকে বের হয়ে সিলেটের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ইন্টারভিউ দিতে যান।

ইন্টারভিউ শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ী ফেরার পথে এই হত্যাকান্ডের স্বীকার হন তিনি। এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় আতিকুর রহমানের চাচা ইলিয়াছুর রহমান বাদী হয়ে বালাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা নং- ৭, তারিখ: ১৪/০৬/২০২৩। উক্ত মামলার আসামীরা হলেন- একই এলাকার মনির উদ্দিনের ছেলে ময়নুল হক ছুফিয়ান, জয়নুদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম, জিল্লুল হক, বদরুল হক, মৃত ওয়ারিছ আলী কটনের ছেলে সাহিদ আলী ও কবির আহমদ, মৃত আব্দুল হান্নানের ছেলে বিপ্লব মিয়া, জসিম উদ্দিনের ছেলে সুলভ মিয়া, মৃত ওয়াজিদউল্লাহ এর ছেলে জাবের আহমদ ও মনির উদ্দিনের স্ত্রী কুসুম বেগম সহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামী নজরুল ইসলাম বেশ কিছুদিন ধরে আতিকুর রহমানের বাড়ীর মহিলা ও কিশোরীদের সাথে অশালীন আচরণ করে আসছিলো। একদল বখাটে নিয়ে প্রায়ই সে আতিকুর রহমানের বাড়ীর সামনে এসে নানা অপকর্ম করত ও খারাপ আচরণ করত।

এ অবস্থায় ১২ জুন দুপুর ১২টায় দিকে একইভাবে নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা বাড়ীর সামনে এসে নানা উৎপাত করছিলো। এসময় আতিকুর রহমানে ছোট ভাই মতিউর রহমান বাড়ী থেকে বের হয়ে সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া আচরণ দেখে এসব থেকে বিরত থাকার কথা বলেন। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তার সাথে তর্কে লিপ্ত হয় এবং তাকে মজা দেখাবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায় সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে মতিউর রহমানের বড় ভাই আতিকুর রহমান সিলেট থেকে বাড়ী ফেরার পথে ১২ জুন বিকেলে বনগাঁও এলাকায় পৌছামাত্র পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত আসামীরা আতিকুর রহমানকে ঘিরে ধরে এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও আঘাত করে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

স্থানীয় লোকজন এসে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আতিকুর রহমানকে মৃত ঘোষনা করেন। এদিকে আতিকুর রহমান হত্যকান্ডের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন তার স্কুল কলেজের সহপাঠি সহ এলাকাবাসী।

তারা আসামীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মাানববন্ধন সহ আন্দোলন কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিক্ষুব্ধ জনতা খুনীদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২২ জুন) দুপুরে দেওয়ান আব্দুর রহীম স্কুল এন্ড কলেজের সামনে প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। মানববন্ধনে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, এলাকাবাসীসহ দেওয়ান আব্দুর রহিম হাইস্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠন গহরপুর ব্লাড ফাইটার্স, মোমিনপুর গণপাঠাগার, মাদ্রাসা বাজার যুব সমাজ, গহরপুর ছাত্র কল্যাণ পরিষদ, মোমিনপুর ইসলামী যুব সমাজ, উইনার ফুটবল ক্লাব মোমিনপুরসহ বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ব্যানারসহকারে অংশগ্রহণ করেন।

এসময় বক্তারা মামলার প্রধান আসামী ময়নুল হক সুফিয়ান, নজরুল ইসলাম, জিল্লুল হক, বদরুল হক, আমির আলী, বিপ্লব মিয়া, সুলভ মিয়া, জাবের আহমদ, কুসুম বেগম সহ জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বিজ্ঞপ্তি

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ