৮:০ ৯ অপরাহ্ণ
ধর্মপাশায় জালিয়াতি করে দলিল লেখক দেলোয়ার কারাগারে
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যের প্রত্যয়ন পত্র জালিয়াতি করে উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন করার দায়ে মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নামের এক দলিল লেখকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের জানিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রাশিদ মিয়ার ছেলে।
আজ (২৩আগষ্ট) মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নামজারির আবেদনকারী চক্রের দলিল লেখক মোঃ দেলোয়ার (৪৫), মোঃ আব্দুল ছমেদ (৫০) ও মোঃ শাহানুর (৪৫) কে আসামী করে ধর্মপাশা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ মোনায়েম খান (৫২) বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বাদী হয়ে গত রাত দেড়টার দিকে এই মামলা দায়ের করেন। এই মামলার স্বাক্ষী হলেন, উপজেলার সেলবরষ পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ, ওই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ শাহীনুর ও উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারি নারায়ন সরকার (৩১)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম ফরিদ ২৮নং স্মারকে চলতি বছরের ০১.০৩.২০২২ইং তারিখে তিন ভাই ও তিন বোনকে উল্লেখ করে উক্ত আসামীগণকে একটি উত্তরাধিকার সনদপত্র প্রধান করেন। পরে ওই দলিল লেখক মোঃ দেলোয়ার সহ অন্যান্য আসামীগণ সুকৌশলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে উক্ত উত্তরাধিকার সনদপত্র কম্পিউটারের মাধ্যমে স্ক্যান করে তিন বোনের নাম বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মৃত আব্দুল আউয়াল, আসামী মোঃ আব্দুল ছমেদ (৫০) ও মোঃ শাহানুর (৪৫) গণকে তিন ভাই রাখিয়া বর্ণিত স্মারক মূলে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টায় অসৎ উদ্দেশ্যে জাল উত্তরাধিকার সনদপত্র প্রস্তুত করেন। পরে ২২.০৮.২০২২ইং তারিখে উপজেলা ভূমি অফিসে ১৬০৫/২১-২২ নং নাম জারির মোকদ্দমার শুনানির সময় আসামীগণ অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার জন্যে উক্ত জাল উত্তরাধিকার সনদপত্রটিকে সঠিক বলে উপজেলা ভূমি অফিসে নাম জারির জন্য দাখিল করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকালে মোকদ্দমা পরিচালনা করার সময় উক্ত জাল উত্তরাধিকার সনদপত্রটির বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেন। পরে আসামীকে থানা পুলিশের সহায়তায় আটক করেন।
তার পর চেয়ারম্যান কর্তৃক উত্তরাধিকার সনদপত্রটিকে যাচায় করলে উপস্থাপিত উত্তরাধিকার সনদপত্রটি জাল ধরা পড়ে। এর পর উপস্থিত স্বাক্ষীগণ সহ অনুসন্ধান কালে উক্ত আসামী উক্ত সনদপত্রটি জাল বলে অঙ্গীকার নামা প্রদান করেন। উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ মোনায়েম খান বলেন, দলিল লেখক দেলোয়ার হোসেন সরকারের আইন ভঙ্গকরে জাল উত্তরাধিকার সনদপত্র দিয়ে নাম জারির আবেদন করে ধরা পড়েছেন। তাই সরকারের পক্ষে বাদী হয়ে আমি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।
সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম ফরিদ এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই দলিল লেখক আমার দেওয়া সনদপত্রটি এডিড করে অন্যায় করেছে। তাই তার শাস্তি হওয়া উচিত। আসামী দলিল লেখক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি লোভে পড়ে ভুল করেছি, আমি অপরাধী। ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যানের দেওয়া সনদপত্র জালিয়াতি করার কারণে আজ সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনতাসির হাসান বলেন, ওই দলিল লেখক চেয়ারম্যানের দেওয়া উত্তরাধিকার সনদপত্র জালিয়াতি করার দায়ে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।