৭:০ ৫ অপরাহ্ণ
বালাগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নেতার উপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের
সিলেটের বালাগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক নেতার উপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। হামলার শিকার ও বাদী জুবায়ের আহমদ (২৮) উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের ইউনুছ আহমদের ছেলে। মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাথে জড়িত ৬ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলা নম্বর- ১৩৭/২০২৪ ইং।
তারা হলেন- বালাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জুবেল তালুকদার, তফুর আলী, ছাত্রলীগ নেতা মুহিবুর রহমান মুবিন, আব্দুল্লাহ মো. তাহের ও কাজী তৌফিক এলাহী তারেক। মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামীগণ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস, অন্যান্য উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশালীন ও মানহানিকর ভাষায় লেখালেখি ও মন্তব্য করে আসছেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় নেতা হিসেবে বাদী জুবায়ের আহমদ আসামীগণকে পোস্ট ও মন্তব্যগুলো ডিলেট দেয়ার জন্য বললে আসামীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে তার তাকে হুমকি দিতে থাকেন। গত ১৬ নভেম্বর বিকেলে বালাগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পথে আসামীরা জুবায়েরের উপর হামলা করেন বলেও মামলায় বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জুবায়ের আহমদ বলেন, তারা এদিন আমাকে প্রচন্ডভাবে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারে, এমনকি আমার দাঁড়ি ধরেও টানাটানি করে। মামলার ২য় আসামী জুবেল তালুকদার আমাকে হুমকি দেয় সে আমাকে হত্যা করে আমার লাশ গুম করে ফেলবে।
পরে, স্থানীয়রা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। আমি থানায় মামলা করতে গেলে তারা আমাকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে প্রথম আসামী মনির হোসেনের মা নূরজাহান বেগম ও দ্বিতীয় আসামী জুবেল তালুকদারের মা কলসুমা বেগম জানান, মামলার বিষয় সম্পুর্ণ মিথ্যা। এর সাথে আমাদের ছেলেরা কোন ভাবেই জড়িত না।
বালাগঞ্জ থানার একদল পুলিশ নিয়মিত এসে আমাদের বাড়িতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বারবার আমাদের বাড়িতে এসে আমাদের ছেলেদের সন্ধান চায়। উভয় পরিবারের সদস্যরা ভীতসন্ত্রস্ত্র। তারা বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিয়েই যাচ্ছে। মামলার অন্য আসামীদের অভিভাবকরাও একই মন্তব্য করেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা তাদের নাম বলতে অনিচ্ছুক। এ বিষয়ে বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, মামলার বাদীকে আমরা আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।