১:২৩ পূর্বাহ্ণ
সুপার স্বামীর বদৌলতে ক্লাস না করেই স্বাক্ষর দিয়ে বেতন নেন শিক্ষিকা
স্বামী মাদ্রাসার সুপার। তিনি সহকারি শিক্ষিকা। সুপার স্বামীর বদৌলতে ক্লাস না করেই সপ্তাহে এক-দুইবার কিছু সময়ের জন্য এসেই হাজিরা খাতায় কেবল স্বাক্ষর দিয়ে মাসের পর মাস বেতন-ভাতা তুলেন এই শিক্ষিকা। বলছিলাম, সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাজী আক্রম আলী দাখিল মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষিকা নার্গিস মনিরের কথা। মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হলেও সরকারি নীতি নিয়মের বাহিরে এখানে চলে সুপার রফিকুল ইসলামের রাজত্ব।
এখানে তাঁর কথাই তৈরী হয় নতুন আইন নতুন নিয়ম। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম-দুর্নীতির অনেক অভিযোগ রয়েছে সুপার রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। জালিয়াতি ও দায়িত্বে অবহেলাসহ কয়েকটি অভিযোগে গত দুইমাস ধরে বন্ধ রয়েছে সুপারের বেতন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা যায়।
এত্তোসবের মধ্যেও মাদ্রাসা সুপার রফিকুল ইসলামের অনিয়মের দৌরাত্ম্য। সুপার ও সহকারি শিক্ষক স্ত্রীর স্বেচ্ছারিতায় এমপিও ভুক্ত এই প্রতিষ্ঠানটি অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে হাজী আক্রম আলী দাখিল মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয়। তৎকালীন সময়ে অন্যান্য শিক্ষকের সাথে স্ত্রী নার্গিস মনিরকেও সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে এমপিওভুক্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে নার্গিস মনিরের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য নথিপত্রে অনিয়ম করে স্ত্রীকে নিজের প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার। সহকারি শিক্ষিকা নার্গিস মনির রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। সুপার স্বামীর প্রভাব দেখিয়ে দায়িত্ব পালন গাফিলতি ও বিনাশ্রমে বেতনভাতা ভোগ করে আসছেন তিনি। এমন অভিযোগের সত্যতা খোঁজতে অনুসন্ধান করলে জানা যায়, নার্গিস মনির মাদ্রাসায় ক্লাস না করেই কেবল স্বাক্ষর দিয়ে সরকারি বেতনভাতাসহ মাদ্রাসার সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। সপ্তাহে একদিন কিংবা দুইদিন কিছু সময়ের জন্য মাদ্রাসায় আসেন তিনি। ক্লাস করতে নয় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতে। অনুপস্থতি দিনের স্বাক্ষর দিয়েই কোনো ধরণের ছুটির আবেদন ছাড়াই বাড়িতে চলে যান তিনি। এমন তথ্যের সত্যতা যাছাই করতে সপ্তাহ সময় মাদ্রাসায় গোপন পর্যবেক্ষণে রাখেন অনুসন্ধ্যানী প্রতিবেদক। চলতি সপ্তাহের শনি, রবি এবং সোমবার মাদ্রাসায় আসেননি তিনি।
হাজিরা খাতায় সকল শিক্ষক স্বাক্ষর দিলেও নার্গিস মনির মাদ্রাসায় না আসাতে স্বাক্ষর দিতে পারেননি। এই প্রতিবেদকের কাছে হাজিরা খাতার অনুপস্থিতির ছবি প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহিত রয়েছে। এদিকে সোমবার দুপুরে ১০ মিনিটের জন্য বিদ্যালয়ে এসে অনুপস্থিত সকল দিনের স্বাক্ষর দিয়ে কোনো ধরণে ছটির আবেদন ছাড়াই বাসায় ফিরে চলে যান তিনি। সহকারি শিক্ষিকা নার্গিস মনিরের এমন কার্যকলাপ নিত্যদিনের বলে জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, নার্গিস মেডামতো কোনো ক্লাস করেন না। তিনি কেবল মাদ্রাসা আসেন স্বাক্ষর দিতে। স্বাক্ষর দিয়ে আবার চলে যান। তাঁর স্বামী মাদ্রাসার সুপার তাই ছুটি নিতে হয় না। জবাবদিহী করতে হয় না। এ ব্যাপারে মাদ্রাসা শিক্ষিকা নার্গিস মনিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
মাদ্রাসা না এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেয়ার সত্যতা কারন জানতে মাদ্রাসা সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি আজকে এসেছিলেন দুপুরে চলে গেছেন। তিনি একটু অসুস্থ্য তাই মাঝে মধ্যে ক্লাসে আসতে পারেন না। অনুপস্থিত থেকে স্বাক্ষর দেয়ার বিষটি আমার জানা নেই বলে হাজিরা খাতা এন লাল খালি দিয়ে নার্গিস আক্তারের স্বাক্ষর মেটানোর চেষ্টা করেন। দিনের পর দিন মাদ্রাসা অনুপস্থিত থাকলেও কেন কোনো ছুটির আবেদনের প্রয়োজন হয়নি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নিয়ম সবার জন্য সমান। অনুপস্থিত থাকলে অবস্যই ছুটির আবেদন করতে হবে। আমার স্ত্রী বলে কথা নয়। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, একজন শিক্ষক ক্লাস না করে , অনুপস্থিত থেকে কেবল স্বাক্ষর দিয়ে বেতনভাতা তুলবেন এটি বিবেকহীনতা। আমি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবো। সত্যতা পেলে বিহীত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।