১০ :০ ৫ অপরাহ্ণ
শাল্লায় কৃষকলীগ নেতা পিযুষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
শাল্লার বহুল সমালোচিত ব্যাক্তি সেই কৃষকলীগ নেতা পিযুষ শেখর দাসের(পিসি) বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ আমল গ্রহনকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন উপজেলার নওয়াগাঁও গ্রামের রঞ্জু দাস। গত ২১ আগস্ট পিযুষ শেখর দাসকে প্রধান আসামী করে ৯ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়।
যার মামলা নং সিআর ৪৮/২০২২ইং। মামলা সুত্রে জানা যায়, পিযুষ শেখর দাস গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেয়ার নামে নগদ ৫ হাজার টাকা ও বিনামূল্যে রঞ্জু দাসকে দিয়ে ২ মাস শ্রমিকের কাজ করান। উপজেলা প্রশাসনের ঘরের তালিকা দেখে নিজের নাম না পেয়ে রঞ্জু দাস পিযুষ শেখর দাসের কাছে জানতে চাইলে নানা টালবাহানা শুরু করে। নগদ টাকা ও ২ মাসের পারিশ্রমিক বেতনের টাকার তাগিদ দেওয়া হলে পিযুষ দাস ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকা ছাড়ানোর হুমকি দেয়।
পরে নিরুপায় হয়ে গত ৩১ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) বরাবরে অভিযোগ করেন তিনি। এই অভিযোগই রঞ্জু দাসের কাল হয়ে দাড়িয়েছে। তাই পিযুষসহ তার আত্মীয় স্বজন মিলে ১৯ আগস্ট রঞ্জু দাসের বসতভিটার ঘর ভেঙ্গে পানিতে ফেলে দেয়। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে রঞ্জু দাস ও তার স্ত্রী দ্বিপালী রানী দাসকে মারধর করে। এমনকি এই মহিলার পরনের কাপড় নিয়ে টানা হেচড়া করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এই ঘটনার বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পিযুষ আবারো ঘুঙ্গিয়ারগাঁও সদর বাজারের সোনালী ব্যাংকের সামনে দ্বিপালী রানী দাসকে পথ আটকিয়ে শ্লীলতাহানিসহ মারধর করেন বলে উল্লেখ করা হয়। মামলার বাদী রঞ্জু দাস জানান, পিযুষ এলাকার প্রতারক। প্রতারণা করে তার কাছে থেকে টাকা নিয়েছে। আবার অভিযোগ করায় ঘরবাড়ি ভেঙ্গে ফেলে মহিলাসহ ছোট বাচ্চাদেরও মারধর করেছে বলে তিনি জানান।
তাই নিরুপায় হয়ে তিনি আদালতে মামলা করেছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান। শুধু তাই নয়, পিযুষ শেখর দাসের বিরুদ্ধে আরো বহু অভিযোগ রয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের আশুতোষ রায়কে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ও টিউবওয়েল দেয়ার নাম করে ৩০ হাজার টাকা উৎকোচ নেন। কোনো কাজ না হওয়ায় ভুক্তভোগী আশুতোষ রায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু আজও পর্যন্ত এর কোনো সুরাহা পায়নি এই ভুক্তভোগী। পিযুষের প্রভাবের কাছে সবকিছু ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে।