১১:০ ১ অপরাহ্ণ
শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা ও আদর্শ যুক্ত না হলে সমাজ কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না: আল্লামা হুছামুদ্দীন ফুলতলী
জকিগঞ্জে দারুল কিরাতের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও সনদ প্রদান
সিলেট-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আনজুমানে আল-ইসলাহর কেন্দ্রীয় সভাপতি আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেছেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও নৈতিকতা গভীর সংকটের মুখে রয়েছে। অনেক শিক্ষিত মানুষই নৈতিকতার জায়গা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে।
শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা ও আদর্শ যুক্ত না থাকলে তা সমাজের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। তিনি আরও বলেন, প্রকৃত দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষা ছাড়া মানুষকে অপরাধপ্রবণতা থেকে পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব নয়। বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ বা পুলিশি ভীতি নয়, বরং দ্বীনি পরিবেশ ও নৈতিক চর্চাই মানুষকে সঠিক পথে রাখতে পারে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে জকিগঞ্জের বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদ্রাসা হলরুমে নাজাত ফাউন্ডেশন কর্তৃক দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের আওতাধীন জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার শাখাসমূহের সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী আরও বলেন, ফিকরবিহীন শিক্ষা কখনোই কল্যাণকর হতে পারে না। যারা দ্বীনি চিন্তা ও মূল্যবোধ ছাড়া শুধু পাঠ্যপুস্তক নির্ভর শিক্ষা প্রদান করেন, তারা আল্লাহর কাছে জবাবদিহির সম্মুখীন হবেন।
সন্তানদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সুসন্তান গড়ে না তুলতে পারলে তা ভবিষ্যতে পরিবারের জন্যই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি সাহাবি হযরত হারিসা বিন নোমান (রা.)-এর দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, মায়ের দোয়ার বরকতে তিনি উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন। এমনকি নবী করিম (সা.) মিরাজের রাতে জান্নাতে তাঁর কুরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ শুনেছিলেন।
এ ধরনের আদর্শ অনুসরণ করে সন্তানদের গড়ে তুলতে হবে। আদব ও শিষ্টাচারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি হযরত ওসমান (রা.)-এর উদাহরণ দেন এবং বলেন, তাঁর লজ্জাশীলতা ও আদবের কারণে ফেরেশতারাও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। কোনো মরহুম বুজুর্গানে দ্বীনের ব্যাপারে সমালোচনা করা ঠিক নয়। তাঁদের ব্যাপারে কথা বলতে হলে আগে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে আমি কে? কুরআন শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে কুরআনের নামে বিভিন্ন বিভ্রান্তি ও অনৈতিক প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কেউ কেউ এটিকে ব্যবসার মাধ্যম বানাচ্ছে। প্রকৃত কুরআন ধারক তারা, যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরআন চর্চা করেন। তিনি আরও বলেন, সকল ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতার দুটি শর্ত হলো নিয়তকে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রদর্শিত পদ্ধতি অনুসরণ করা। আল্লামা হুছামুদ্দীন ফুলতলী আরও বলেন, আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.) কখনোই ইলমুল কিরাতের সনদ বা খেদমতকে ব্যক্তিগত পরিচয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেননি।
তিনি বলতেন, যাদের মধ্যে সহিহ ইলমে কিরাত ও নবীপ্রেম রয়েছে, তারাই প্রকৃত সফল মানুষ। তিনি বলেন, ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.)-এর মাধ্যমে ইলমে কিরাতের যে আমানত এসেছে, তার যথাযথ হক আদায় করা আমাদের দায়িত্ব। সহিহ তেলাওয়াতের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যেখানে ফেরেশতারাও উপস্থিত হন। তিনি উমাইয়া খলিফা ওলিদ ইবনে আব্দুল মালিকের তাহাজ্জুদের সময় দীর্ঘ কুরআন তেলাওয়াতের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে নামাজে কুরআন তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক সৈয়দ শাহ্ এমরান। আয়োজকরা জানান, এবার জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার ১৬৫টি কেন্দ্রের সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে ১৫০০ টাকা (রাবে-খামিছ) এবং ১২০০ টাকা (ছালিছ-আউয়াল) করে মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকার বৃত্তি প্রদান করা হয়। নাজাত ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা কামাল আহমদ এবং বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা ইমাদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আহমেদ ও সদস্য মাওলানা ময়নুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুস সবুর, আল-ইসলাহর সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা কুতবুল আলম, পৌর আল-ইসলাহ সভাপতি কাজী হিফজুর রহমান, কানাইঘাট উপজেলা ক্বারী সোসাইটির সভাপতি হাফিজ মাওলানা ফারুক আহমেদ, জকিগঞ্জ উপজেলা ক্বারী সোসাইটির সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান চৌধুরী শিঙ্গাইরকুড়ী, জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা তালামীযের সাবেক সভাপতি ইসলাম উদ্দিন চৌধুরী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, নাজাত ফাউন্ডেশন পরিচালক আব্দুল মজিদ, তারেক আহমদ, এনামুল হকসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী রাহি ইসলাম এবং নাতে রাসুল পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী আহমদুল হক ও রিয়াদুর রহমান চৌধুরী।