বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০ ২৬
শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ::
১৯ আগস্ট ২০ ২২
১০ :৫৫ অপরাহ্ণ

শাল্লায় কৃষকলীগ নেতা পীযুষের বিরুদ্ধে হতদরিদ্রের বসত ঘর ভাঙ্গার অভিযোগ!

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার কৃষকলীগের যুগ্ম আহবায়ক কথিত সাংবাদিক পীযুষ শেখর দাশের (পি.সি দাশ) বিরুদ্ধে এক সহায়-সম্বলহীন হত-দরিদ্র কৃষকের বসবাসের ছাপড়া ঘর ভেঙ্গে ফেলা ও তার স্ত্রীকে মারপিটসহ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠছে।

এবিষয়ে সাংবাদিক পীযুষ শেখর দাশের বিরুদ্ধে শাল্লা থানায় এক অভিযোগ দায়ের করেছে ভ‚ক্তভোগী হত-দরিদ্র কৃষক রঞ্জু চন্দ্র দাস। জানা যায়, উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের নওয়াগাঁও গ্রামের মৃত দেবেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে রঞ্জু চন্দ্র দাস একজন হতদরিদ্র কৃষক। তার নিজের কোনো জমিজমা ও বসত বাড়ি না থাকায় সে সরকারী খাস জমিতে অস্থায়ী ছাপড়া ঘর তৈরী করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোনো রকমে দিনাতিপাত করে।

একই গ্রামের মাখনলাল দাসের ছেলে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহŸায়ক ও সাংবাদিক পীযুষ শেখর দাস (পি.সি.দাশ) গত নভেম্বর/২০২০মাসে উক্ত রঞ্জু চন্দ্র দাসের নিকট থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাইয়ে দেবার কথা বলে নগদ ৫হাজার টাকা নেয়। হতদরিদ্র রঞ্জু চন্দ্র দাস একটি সরকারী ঘর পাওয়ার আশ্বাসেই গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব পীযুষ শেখর দাসের কথায় চলাফেরা শুরু করে।

শুধু তাই নয়, সরকারী পাওয়ার জন্য উক্ত রঞ্জু চন্দ্র দাস পীযুষ শেখর দাশের বাড়িতে ২মাস বিনা বেতনে শ্রমিকের কাজও করে। কিন্তু নগদ টাকা ও শ্রম দিয়ে সরকারী ঘর না পেয়ে অবশেষে রঞ্জু চন্দ্র দাস গত ৩১জুলাই শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। আর এই অভিযোগই কাল হলো হতদরিদ্র রঞ্জুর কপালে। পীযুষ বেপরোয়া হয়ে উঠে রঞ্জুকে গ্রামছাড়া করতে। তারই সূত্র ধরে শুক্রবার ১৯আগষ্ট সকাল ৭টায় কৃষকলীগ নেতা কথিত সাংবাদিক পীযুষ শেখর দাস তার দলবল নিয়ে হতদরিদ্র কৃষক রঞ্জু চন্দ্র দাসের একমাত্র আবাসস্থল অস্থায়ী ছাপড়া ঘরটি ভাংচুর করে পানিতে ফেলে দেয়।

ওইসময় রঞ্জুর স্ত্রী দ্বিপালী রাণী দাস বাধা দেবার চেষ্টা করিলে প্রতাপশালী পীযুষ দ্বিপালীকে চুলের মুঠি ধরিয়া কিল-ঘুষি মারিয়া ও এলোপাতারী টানা-হেছড়া করিয়া লাঞ্ছিত করে রঞ্জুর স্ত্রী দ্বিপালীকে। যা থানায় দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এবিষয়ে রঞ্জর স্ত্রী দিপালীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সকাল ৭টায় পীযুষ ও তার লোকজন এসে আমরার ঘর ভেঙ্গে ফেলে। আমি বাধা দিলে পীযুষ আমাকে মারপিট করে এবং আমার শিশু সন্তাদের মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। সরজমিন নওয়াগাঁও গ্রামে অনুসন্ধানে গেলে গ্রামের সাধারণ লোকজন প্রতাপশালী পীযুষের বিরুদ্ধে মূখ খুলতে সাহস করেনি কেউ। তবে রাবানন্দ দাসের ছেলে রুবেল চন্দ্র দাসের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি বলেন, পীযুষের অপকর্ম বলে শেষ করার নয়। রঞ্জুর সাথে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা সত্যিই হৃদয় বিদারক। রঞ্জু একজন সহায়-সম্বলহীন লোক। তাই আমরা গ্রামবাসি রঞ্জুকে উক্ত স্থানে বসবাস করতে বলেছি। কিন্তু পীযুষ তা মেনে নিচ্ছে না। সরকারী ঘর পাইয়ে দেবার কথা বলে রঞ্জুর কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুনেছি। রঞ্জু নাকি ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগও করেছে। তিনি আরো বলেন, শুধু রঞ্জু নয়, পীযুষ সরকারী ঘর, টিউব-ওয়েল, বিভিন্ন ভাতা পাইয়ে দেবার কথা বলে অনেকের কাছ থেকেই টাকা নিয়েছে। বলে শেষ করা যাবে না বলেও জানিয়েছেন রুবেল চন্দ্র দাস। প্রকাশ যে, উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামের আশুতোষ রায়ের কাছ থেকেও একই কথা বলে ৩০হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় কৃষকলীগ নেতা পীযুষ শেখর দাশ। পরবর্তীতে আনন্দপুর বাজারে তোপের মূখে পড়ে পীযুষ আশুতোষ রায়কে ৫হাজার টাকা ফেরৎ দেন এবং বাকি টাকা ধাপে ধাপে ফেরৎ দেরাব আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

এব্যাপারে কথা বলতে কৃষকলীগ নেতা ও কথিত সাংবাদিক পীযুষ শেখর দাশের (পি.সি.দাশ) মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ