৬:৩৪ অপরাহ্ণ
বিশ্বনাথে সাজানো মামলায় ১০জনের জামিন মঞ্জুর
সিলেটের বিশ্বনাথে একটি মিথ্যা, সাজানো ও বানোয়াট মামলায় ১০জনের জামিল মঞ্জুর করেছেন আদালত। (১২ অক্টোবর) বুধবার সিলেট জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রাট আদালতে তাদের জামিন শুনানি করলে আদালত সকল আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। বিষটি নিশ্চিত করেছেন বিবাদী পক্ষের আইনজীবি এ্যাডভোকেট এসএম গফুর।
জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বনাথের চাউলধনী হাওর নিয়ে কৃষক ও সাবলীজ গৃহীতাদের মধ্যে বিরুধ চলে আসছে। সাবলীজ গ্রহীতারা আইনের তোয়াক্কা না করে কৃষকের জমি দখল করে পানি সেচ দিয়ে মাছ নিধন করে আসছে। এতে গত কয়েক বছরে ব্যুরো ফসল উৎপাদনে প্রায় ২৫ হাজার কৃষকের শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এক পর্যায়ে কৃষকরা গঠন করেন চাউলধনী হাওর ও কৃষক বাচাও আন্দোলন কিমিটি। তারা কৃষি বাচাতে হাওরে সরকারি জলমহাল সীমানা নির্ধারণের জন্য জেলা উপজেলা ও মন্ত্রনালয়ে একের পর এক আবেদন-নিবেদন করেন। কিন্তু কোন ভাবেই হাওর খেকুদের দমন করতে পারছেন না তারা। একেক করে দুটি তাজা প্রাণ হারিয়েছেন কৃষকরা। সাবজীল গ্রহীতাদের বন্দুকের গুলিতে নির্মম ভাবে খুন হয়েছে বাবা মা’র এক ছেলে স্কুল ছাত্র সুমেল। দেয়া হয় হত্যা মামলা। র্যাব ৪জন আসামিকে গ্রেফতার করলেও তথকালীণ বিশ্বনাথ থানার ওসি শামিম মুসা কোন আসামিকে গ্রেফতার করেননি। সুমেল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাইফুলকে দীর্ঘদিন পর আন্দোলনকারিরা ঢাকার একটি আবাসিক বিল্ডিং থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
৩২ আসামির মধ্যে সাবলীজ গ্রহীতা লন্ডনি সাইফুল জেল হাজতে রয়েছেন। তিনি জেলে থাকলেও তার কলা-কৌশলে বাকি আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ফের হাওর দখলের নানা পায়তারা করছেন। কৃষকদের বক্তব্য, নায্য আন্দোলনে বাঁধা প্রদান ও হয়রানি করতে কোন প্রকার ঘটনা ছাড়াই গত দু সপ্তাহ থেকে খুনের আসামিরা থানায় আসা-যাওয়া করতে দেখা গেছে। এক পর্যায়ে গত ৯অক্টোবর কৃষক খুন ও সাবলীজ প্রতারনা মামলার আসামি জুনাব আলী বাদি হয়ে ১১ জনের নামে একটি মিথ্যা, সাজানো মামলা দায়ের করেন, মামলা নং-০৬, তারিখ ০৯,১০,২২ইং)। মামলায় নৌকা চুরি ও মারামারি হয়েছে মর্মে ধারা উল্লেখ করা হয়। চাউলধনী হাওর ও কৃষক বাচাও আন্দোলন কমিটির আবহায়ক আবুল কালাম বলনে, গত ৩অক্টোর সোমবার ফের সাবলীজ গ্রহীতা আমতৈল (জমসেরপুর) গ্রামের আবু বক্করের পুত্র মতিউর রহমান, আব্দুস সমদের পুত্র রাকিব আলীর লোকজন বিপুল পরিমান বাস নিয়ে মৌলভীর গাঁও গ্রামের পাশ দিয়ে নৌকা যুগে হাওরে নামতে যান। এসময় কৃষকরা তাদের জমিতে নামতে বাধা দিলে ওই বাসরীজ বাহিনী তাদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
এক পর্যায়ে কৃষকরা থানা পুলিশকে খবর দিলে পলিশ ও দেশের কয়েকটি দৈনিক জাতীয় প্রত্রিকার সাংবাদিকরা ঘটনাস্থ আসেন এবং দীর্ঘ আলোচনা শেষে আমতৈল গ্রামের ইউপি সদস্য ইমাম উদ্দিনের ছেলের মাধ্যমে ঐ ৭ব্যক্তিকে ও তাদের নৌকা মালামাল বুজিয়ে দেয়া হয়। এখানে কোন সংঘাত সৃস্টি হয়নি। হাওর খেকুরা ঘটনা সাজিয়ে থানায় মামলা দিয়েছে। আমরা আদালতে হাজির হলে আদালত সাজানো ঘটনা বুঝতে পেরে সকলের জামিন মঞ্জুর করেন। আমরা আদালতের প্রতি চির কৃতজ্ঞ। আমরা এই সাজানো মামলা প্রত্যাহার চাই। অন্যতার আন্দেলনের মাধ্যমে দূণীতিবাজদের দমন করা হবে।