৪:৩৯ অপরাহ্ণ
কাজী জালাল উদ্দিন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বি'রুদ্ধে টাকা আত্ম'সাতের অভি'যোগ!
সিলেট নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাজী জালাল উদ্দিন বহুমুখী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালিকের বিরুদ্ধে রেজ্যুলেশন ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৬৪-৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ।
রোববার (৩০ মার্চ) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তারেক আহমদ খান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (শিক্ষা) মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দেন। সহকারী কমিশনার জুয়েল উদ্দিনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও প্রধান শিক্ষকের আবেদনে তা স্থগিত করা হয়।
পরবর্তীতে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পুনঃশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়। বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালে জনতা ব্যাংক, জালালাবাদ শাখায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন তহবিলের নামে মোট ৫০ লাখ টাকার ৬টি এফডিআর করা হয়। এর মধ্যে পরীক্ষা, টিফিন, উন্নয়ন ও লাইব্রেরি তহবিলের ৪টি এফডিআর জাল রেজুলেশন দেখিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এসব এফডিআর থেকে ৫৫ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৯ টাকা প্রধান শিক্ষক জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলন করেন । এছাড়া ২০২২ ও ২০২৩ সাল মিলিয়ে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অভ্যন্তরীণ অডিট না হওয়ায় প্রকৃত আর্থিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অডিট করা হলে আরও অনিয়ম উদ্ঘাটিত হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন সভাপতিদের উপস্থিত করতে তদন্ত কর্মকর্তা নির্দেশ দিলেও প্রধান শিক্ষক তা এড়িয়ে যান এবং তাদের ‘আত্মগোপনে’ থাকার দাবি করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা জানান, তারা স্বাভাবিকভাবেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া, ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন ছাড়াই মামলার খরচ বাবদ প্রায় ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ের অভিযোগ আনা হয়।
উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রেও রেজুলেশন বইয়ে ভিন্ন কালি ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত সংযোজনের মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ের অভিযোগ তোলা হয়। বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষক একক ক্ষমতাবলে ২০২৩ সালে উন্নয়ন তহবিলের এফডিআর ভেঙে ৮ লাখ ৮৯ হাজার ৯৩৩ টাকা স্থানান্তর করেন, যা কোনো বৈধ সভায় অনুমোদিত হয়নি। চেক রেজিস্টারে লেনদেনের তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় পুরো বিষয়টি সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করা হয়। প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক নিজে ৬০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা গ্রহণ করলেও অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কম ভাতা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিয়মিত ক্লাস নেন না বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ২০২২ ও ২০২৩ সালে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী বেতন-ভাতা পরিশোধে কোনো ঘাটতি ছিল না। ফলে এফডিআর ভাঙার প্রয়োজন ছিল না। অভিযোগকারীরা আরও বলেন, তদন্ত চলাকালে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও প্রলোভন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি এক্সটারনাল অডিট মোকাবেলায় শিক্ষকদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ দাবির অভিযোগও উঠেছে। লিখিত বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এর বরাতে জানানো হয়, তদন্ত প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। অভিযোগ করা হয়, তিনি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে সহনশীল অবস্থান নিয়েছেন। লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, প্রধান শিক্ষক দুদকের একটি ‘পরিসমাপ্তির’ কাগজ দেখালেও এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল খালিককে সাময়িক বরখাস্ত করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় ধারাবাহিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ সময় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলকাছুর রহমান, মোবারক হোসেন ফাত্তাহ, আব্দুল মুমিন, আব্দুল আহাদ রাসেল, আব্দুল আহাদ, নাহিদ আহমদ ও সাকের আহমদ।