৩:৫৩ অপরাহ্ণ
আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিন’ আ'কুতির পর মিলল ছেলের নি'থর দেহ!
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিখোঁজের দুইদিন পর জুনায়েদ মিয়া (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর'দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৯ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের বাদেআলিশা গ্রামের কামারপাড়া এলাকা থেকে তার মর'দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জুনায়েদ মিয়া উপজেলার আলিশারকুল গ্রামের প্রবাসী রমিজ মিয়ার ছেলে এবং সাতগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে থেকে জুনায়েদ নিখোঁজ হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের পর প্রবাসে থাকা বাবা রমিজ মিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে সন্তানের সন্ধান চেয়ে দেশবাসীর কাছে আকুতি জানান।
বিষয়টি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে সব আশঙ্কা সত্যি করে দুইদিন পর তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের খবরে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে নিহতের বাবা আবারও ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এ ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন।
তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, 'খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।' পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।