মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০ , ২০ ২৬
শরীফ আহমদ,দক্ষিণ সুরমা::
২৬ মার্চ ২০ ২৬
৬:১২ অপরাহ্ণ

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে লালমাটিয়া ব'ধ্যভূমিটি চিহ্নিত হয়নি!

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে পরিয়ে আজ ও দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়া বধ্যভূমিটি বধ্যভূমিটি চিহ্নিত হয়নি। সিলেট জেলার সবচেয়ে বড় গণহত্যার স্থান হিসাবে চিহ্নিত করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী খেয়াঘাট বটগাছের তল,চন্ডিপুল, তেলিবাজার, অতিবাড়ি নামক স্থান ছিলো মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাম্প ছিলো। ক্যাম্প থেকে নিয়ে ও বিভিন্ন স্থান থেকে লালমাটিয়া বধ্যভূমিতে যেখানে প্রতিদিন মুক্তিকামী বাঙালিদের ধরে নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাত। পরে গর্ত খুঁড়ে মৃত ও গুলিবিদ্ধ মানুষদের মাটিচাপা দেওয়া হতো।হতো।

কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও এ বধ্যভূমি সংরক্ষণ এবং এখানে মাটিচাপা দেওয়া শহীদদের তালিকা হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ৬ বছর ধরে বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের কাজ আটকে আছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের পাশে লালমাটিয়া বধ্যভূমি এলাকাটুকু চিহ্নিতও করা হয়নি। নেই কোনো নামফলক, স্থানটিতে গড়ে উঠেছে ঝোঁপ ঝাপড়ায় পরিনত হয়েছে । ২০২২ সালে স্থানটিকে প্রথমে লাল কাপড় দিয়ে চিহ্নিত করা হলে তা পরিবর্তে স্থানটি চিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ।

এবিষয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ঈসরাইল মিয়া জানান, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও এ বধ্যভূমি সংরক্ষণ করা হয়নি যা সত্যি দুঃখজনক সিটি করর্পোরেশনের সীমানা তাকায় আজ ও দক্ষিণ সুরমায় বধ্যভূমি সংরক্ষণ কাজ করা হয়নি স্থানটি সীমানা নির্ধারিত করে দেওয়াল নির্মাণের দাবি জানান।

একই এলাকার ষাটঘরের বাসিন্দা মো. লাল মিয়া তার ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জমিতে লাঙ্গল চালানো অবস্থা থেকে ভয় দেখিয়ে ধরে নিয়ে তাকে দিয়ে গর্ত করিয়ে লাশ মাটিতে চাপা দিতে বলে পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা।

এভাবে তিনদিন তাকে দিয়ে মাটিতে গর্ত খুঁড়িয়ে প্রায় ৩০-৪০টি লাশ মাটিচাপা দেওয়ানো হয় বলে দাবি লাল মিয়ার লাল রংয়ের জিপগাড়ি দিয়ে মানুষদের ধরে আনা হতো। প্রতিদিন কয়েকবার করে মানুষদের ধরে আনত পাকিস্তানি বাহিনী। তাদের একসঙ্গে দাঁড় করিয়ে গুলি করে ব্রাশ ফায়ার করা হতো। তারপর এলাকার কাউকে না কাউকে বন্দুক দেখিয়ে নিয়ে এসে মাটিতে গর্ত করিয়ে লাশগুলো চাপা দেওয়া হতো। গুলির শব্দ শুনে মানুষ মারার হিসাব রাখতেন পরিবারের লোকজন।এমনি ৫০-৬০টি গর্তে পাকিস্তানি বাহিনী মানুষকে মাটিচাপা হয লালমাটিয়ায় পাকিস্তানিরা যেখানে ক্যাম্প করেছিল সেখানে তিনজন নারী লাশও দেখেছেন।

এ ছাড়া পুঁতে রাখা লাশ গর্ত থেকে টেনেহিঁচড়ে কুকুর- শিয়ালে খাওয়ার দৃশ্যও এখন মনে পড়ে । কিন্তু দীর্ঘদিন অরক্ষিত স্থানটিকে চিহ্নিত করা হলে লালমাটিয়া বধ্যভূমি সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজটি আটকে আছে। প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সারি-সারি গণকবরে চাপা দেওয়া হয়েছিল মরদেহ। অনেকের মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়েছিল সড়কের বাম পাশের কচুরিপানা ভর্তি ডোবায়।” স্বাধীন হওয়ার পর এ বধ্যভূমিতে মিলেছিল মানুষের কংকাল, মাথার খুলি ও হাড়।লালমাটিয়ায় পাকবাহিনী ক্যাম্প করার পর আশপাশের হিন্দু বাড়িগুলোতে আক্রমণ ও লুটপাট হয়েছে বেশি।

কয়েকজন নারীকে ধর্ষণের কথা জানা যায়। অনেকে ভয়ে গ্রাম ছেড়ে মোগলাবাজারসহ আশপাশের গ্রামে চলে যায়। মাঝে-মধ্যে তারা বাড়িঘর দেখার জন্য এলে তাদের ধরে এনে গর্ত খুঁড়তে এবং লাশ মাটিচাপা দিতে বাধ্য করা হতো।পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী প্রতিদিন সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজনকে ধরে এনে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দেয়।"স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে লালমাটিয়ায় ৫০টিরও অধিক গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে।

এক-একটি কবরে দুই থেকে তিন ডজন পর্যন্ত মানুষের কংকাল পাওয়া গিয়েছিল। ১৯৭২ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ বধ্যভূমিটি পরিদর্শন করেন। তাছাড়া বিবিসির সংবাদদাতা স্থানটি পরিদর্শন করে একটি সংবাদ পরিবেশন করেছিলেন,যার সূত্র ধরে বাংলাদেশ অবজারভারের ১৯৭২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

সিলেট গণপূর্ত বিভাগ জানায়, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ১৯৭১ সালের বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণ "স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে লালমাটিয়ায় ৫০টিরও অধিক গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এক-একটি কবরে দুই থেকে তিন ডজন পর্যন্ত মানুষের কংকাল পাওয়া গিয়েছিল। ১৯৭২ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ বধ্যভূমিটি পরিদর্শন করেন। তাছাড়া বিবিসির সংবাদদাতা স্থানটি পরিদর্শন করে একটি সংবাদ পরিবেশন করেছিলেন, যার সূত্র ধরে বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকা ১৯৭২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে পাঁচ হাজার লোককে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

সিলেট গণপূর্ত বিভাগ জানায়, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ১৯৭১ সালের বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় জেলার পাঁচটি বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর টেন্ডার আহ্বান করে। একই বছরের ডিসেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।এ প্রকল্পের অধীনে লালমাটিয়া বধ্যভূমিতে ১১ শতাংশ জায়গার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ৬৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করার কথা রয়েছে।

কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ আটকে আছে। যেখানে নির্মাণ কাজটি বাস্তবায়ন হবে ওই জায়গটি রেলওয়ের। এবিষয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম অনীক চৌধুরী জানান, বধ্যভূমির স্থানটি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভেতরে অংশ তাকায় লালমাটিয়া বধ্যভূমির কাজটি করা যাচ্ছে না। আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বিষয়টি বলেছি।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ