৩:২৪ অপরাহ্ণ
গোলাপগঞ্জে ট্রাক ও শ্রমিক নির্বাচন নিয়ে সংঘর্ষ-গুলি, নিহত এক: ৬ জনের নামে মামলা
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি :: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ট্রাক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুলাগুলিতে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত সালাম মিয়া (২৮), ছাত্রলীগ নেতা রহিম উদ্দিন বলয়ের অনুসারি ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে।
বুধবার রোববার (১৬ আগষ্ট ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের ফুলবাড়ি ইউনিয়নের বৈটিকর বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷ এসময় সংঘর্ষে ৮ থেকে ১০ পুলিশ সদস্য এবং ১৫ জন লোক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিক সবার নাম ঠিকানা সংগ্রহ করা যায়নি।
এ ঘটনায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজের নির্দেশে ছাত্রলীগ নেতা রহিম উদ্দিন বাদী হয়ে রাতেই ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৩০/৪০ জনকে অজ্ঞাত রেখে গোলাপগঞ্জ থানায় (মামলা নং:- ৮৭ তারিখ:-১৬/০৮/২৩ ইং দাখিল করেছেন ।
মামলার আসামীরা হলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি মধ্যপাড়া গ্রামের সমছু মিয়ার ছেলে সায়েল আহমদ, বাঘা রুস্তমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গনি ছেলে মো. আবদুল মুকিত, পশ্চিম বারকোট গ্রামের শামীম আহমদের ছেলে সরওয়ার বখতিয়ার আবিদ একই গ্রামের মৃত আজির উদ্দিনের ছেলে মো. সাব্বির আহমদ ও তার ভাই শামীম আহমদ এবং বিয়ানীবাজার উপজেলার কসবা গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে খালিদ সাইফুল্লাহ মাহদী। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ট্রাক ও শ্রমিক সমিতির নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে বৈটিকর এলাকায় তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়।
এসময় পুলিশসহ কয়েকজন এলাকাবাসী আহত হন। এসময় আব্দুস সালাম নামের একজন আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তবে তিনি কিভাবে নিহত হয়েছেন তা সঠিকভাবে কেউ বলতে পারেনি। আব্দুস সালাম নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ জানান, তাদের দলীয় কর্মীকৈ পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। যারফলে অতিরিক্ত রক্ত করণে ঘটনাস্থলেই সে মৃত্যুবরণ করে।
এ বিষয়ে জানতে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ চৌধুরী জানান, তিনি সংঘর্ষের খবর পেয়ে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই সালাম মিয়া মারাযান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সালাম মিয়ার মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা রহিম উদ্দিন বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৩০/৪০ জনকে অজ্ঞাত রেখে থানায় মামলা দাখিল করেছেন । আর এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে ।