মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ১০ , ২০ ২৬
ডেস্ক নিউজ:
৩ ডিসেম্বর ২০ ২৫
১০ :০ ৯ অপরাহ্ণ

সমকামিতা মেনে নিতে না পেরে মেয়েকে ত্যাজ্য করলেন বাবা  

সিলেটের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাজীপুর এলাকার এক ব্যক্তি পারিবারিক ও নৈতিক মতবিরোধের কারণে তার প্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন।

এ বিষয়ে তিনি একটি নোটারাইজড হলফনামা/ঘোষণাপত্র দাখিল করেন, যেখানে কন্যার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, আচরণ এবং পারিবারিক মূল্যবোধ–সংক্রান্ত বিরোধের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকাসহ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।  

হলফনামায় পিতা মোঃ মোশাহিদ  আলি উল্লেখ করেন, জন্মের পর থেকেই তিনি কন্যা রাজমিনা আক্তারকে লালন-পালন, শিক্ষাদান ও মানুষ করতে বহু সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করেছেন। কিন্তু কলেজে পড়াশোনার সময় “আধুনিকতার নামে পথভ্রষ্ট” হয়ে কন্যা পরিবার ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তিনি।   দলিলে আরও উল্লেখ রয়েছে, কন্যা রাজমিনা আক্তার তার বান্ধবী—কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা, পিতা রমন চন্দ্র দাসের মেয়ে রিংকু রানী দাস—এর সঙ্গে সমকামী সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, যা পরিবার মেনে নিতে পারেনি। বাবার অভিযোগ, বিষয়টি শোধরানোর চেষ্টা করলে সে কর্ণপাত করেনি; বরং ইসলামের দৃষ্টিতে ও সামাজিক বিধিনিষেধ অমান্য করে সম্পর্কটি বজায় রাখতে থাকে।   ঘোষণাপত্রে পিতা দাবি করেন, কন্যার এই আচরণের কারণে পরিবার সামাজিকভাবে অসম্মান, অপমান ও মানহানির সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে মেয়েকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেন এবং ঘোষণা করেন যে কন্যার কোনো কাজ, দেনাপাওনা, আইনগত বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের দায়ভার ভবিষ্যতে তিনি বহন করবেন না।   এ বিষয়ে মোঃ মোশাহীদ আলীর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমার মেয়ে রাজমিনা আক্তার সিলেটে পড়াশোনার সময় রিংকু রানী দাসের সঙ্গে সমকামী সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, যেটা এলাকার মানুষ জেনে ফেলে। পরে লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েকে বুঝিয়ে ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী একটি ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য পাঠাই। কিন্তু সে যুক্তরাজ্যে গিয়ে কৌশলে রিংকু রানী দাসকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে গিয়ে আবার একসঙ্গে থাকতে শুরু করে, যেটা আমার এবং আমার পরিবারের জন্য একটি পাপ এবং সমাজও আমাদের মেনে নিতে পারছে না। তাই বাধ্য হয়ে আমি রাজমিনা আক্তারকে ত্যাজ্য করতে বাধ্য হয়েছি। সে আমাদের সব স্বপ্ন নষ্ট করে দিয়েছে; তার সঙ্গে আমাদের আর কোনো সম্পর্ক নেই।   এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এলাকাবাসী বলেন, বর্তমানে রাজমিনা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং পরিবারের মতামত অমান্য করে তিনি একজন হিন্দু মেয়ের সঙ্গে বসবাস করছেন, যেটা লজ্জার এবং হতাশার বিষয়। এই তথ্যটিও স্থানীয় মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ বাবার সিদ্ধান্তকে পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষার প্রয়াস হিসেবে দেখছেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ