রবিবার, মে ৩, ২০ ২৬
কুলাউড়া প্রতিনিধি
৩ মে ২০ ২৬
৯:৪৫ অপরাহ্ণ

কুলাউড়ায় পলেস্তারা খসে পড়া ভবনে ঝুঁ'কির মধ্যেই চলছে পাঠদান, বড় ধরনের দুর্ঘ'টনার আ'শঙ্কা!

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে অবস্থিত পাঁচপীর প্রতাবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁ'কির মধ্যেই চলছে পাঠদান। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে অনেক জায়গায় রড বের হয়ে গেছে।

প্রতিদিন ক্লাস করতে গিয়ে সর্বদা আত'ঙ্কে থাকছেন বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী,শিক্ষক ও অভিভাবকরা। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘট'নার আশ'ঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ছাদের একাধিক স্থানে বড় বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। মরিচা ধরা লোহার রডগুলো বিপজ্জ'নকভাবে ঝুলে রয়েছে।

বর্ষা মৌসুমে ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ে এবং দেয়াল ভেজা থাকায় পলেস্তারা খসে পড়ার ঝুঁ'কি আরও বেড়ে গেছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘট'নার আ'শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠের বর্তমান একতলা ভবনটি ১৯৯৯ সালে নির্মিত হয়। বর্তমানে এটি একটি 'মডেল বিদ্যালয়' হিসেবে তালিকাভুক্ত।

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২৮০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। কিন্তু পর্যাপ্ত ভবন না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তিনটি কক্ষে (অফিস কক্ষ, প্রাক-প্রাথমিক ও একটি সাধারণ শ্রেণিকক্ষ) কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। অতিরিক্ত হিসেবে দুটি টিনশেড কক্ষ থাকলেও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর স্থান সংকুলানে হিম-শিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

শিক্ষার্থী রাফি আহমেদ, নাবিলা আক্তার, আলী, আব্দুল্লাহ বলেন, মাঝেমধ্যে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে, তারা সবসময় ভয় নিয়ে ক্লাস করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইদ্রিছ আলী, আবদুল বারী এবং অভিভাবক জমশেদ আলী মাসুদ আহমেদ, আব্দুল হান্নান, কার্তিক অলমিক ও কৃষ্ণ দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত কয়েক দশকে এই বিদ্যালয়ে কোনো নতুন ভবন নির্মিত হয়নি। বর্তমানে ভবনটির যে দশা, তাতে যেকোনো সময় ছাদ ধসে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।

আমরা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ অথবা এই ভবনটি সংস্কারের জন্য শিক্ষা বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অন্যথায় ছেলেমেয়েদের খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, আমি এক বছর আগে এই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই ভবনটির এই জরাজীর্ণ অবস্থা দেখছি।

যে কোনো মুহূর্তে ভবনটি ধসে যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এমতাবস্থায় একটি নতুন ভবন নির্মাণ হলে আমাদের শিক্ষার্থীদের খুবই উপকার হবে। কুলাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খোরশেদ আলম বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। এবং সরেজমিন গিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ