১১:০ ৮ অপরাহ্ণ
সিলেটে সড়কে প্রাণ হারা'নো মর'দেহ বহনে অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা দিল এসনিক
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমায় তেলিবাজার এলাকায় ট্রাকের সাথে শ্রমিকবাহী পিকআপ ভ্যানের সং'ঘর্ষে নি'হত ৮ শ্রমিকের মর'দেহ রোববার বিকেলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসমানী হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো স্বজন দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ি নিয়ে গেছেন। মরদেহ বহনে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া প্রদানে সহায়তা করেছে এসিড সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি-এসনিক নামের সিলেটের একটি সামাজিক সংগঠন।
নিহত ৫ পরিবারের স্বজনদের মধ্যে ভাড়া প্রদান করা হয় বলে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জুরেজ আব্দুল্লাহ গোলজার জানিয়েছেন।
তিনি জানান উপস্তিত সময়ে ৫ পরিবারকে পাওয়া যায়। নগদ ও মোবাইল ব্যাংকিয়ের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়। তিনি জানান, নিহতের মর'দেহ বহনে সরকারি কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি এগিয়ে আসেন। গাড়ি ভাড়া বাবদ নিহতের পরিবারের হাতে সহায়তা তুলে দেন।
নিহত আজির উদ্দিন ও আমির উদ্দিনের খালাত ভাই রাফি ও শামীম জানান যেখানে এগিয়ে আসার কথা ছিল রাষ্টের, সেখানে এগিয়ে এসেছে সামাজিক সংগঠন এটা আমাদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। নিহত ফরিদুলের ভাই জানান আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের এই কঠিন সময়ে সহযোগিতার জন্য। আমরা চেয়েছিলাম সরকার এগিয়ে আসবে। কিন্তু পাশে পেলাম একটি সামাজিক সংগঠনকে। এ সময় শাবির প্রো ভিসি সাজেদুল করিম বলেন, আমি যখন শুনলাম ৮ জন নির্মাণ শ্রমিক মারা গেছে খুব মর্মাহত হই। সন্্যায় মনটা ভাল হয়ে যায় একটি মহতী উদ্যোগের সঙ্গে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পেরে। সামাজিক সংগঠন এসনিক যা দেখাল -এটি দৃষ্টান্ত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বৃহত্তর সিলেটের মানচিত্র পত্রিকার আর প্রাপ্ত সম্পাদক ফয়সল আহমদ বাবলু, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ইউসুফ আলী, সংগঠক ওমর মাহবুব।
রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তেলিবাজার এলাকায় ট্রাক ও শ্রমিকবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে মারা যান চার জন। হাসপাতালে যাওয়ার পর আরও চার জন মারা যান।
এদের মধ্যে দুইজন নারী রয়েছেন। তারা ভোরে নগরীর আম্বরখানা মোড় থেকে নির্মাণ কাজের শ্রমিক হিসেবে লালাবাজার এলাকায় যাচ্ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের চালক ঘুমিয়ে পড়িছিলেন।
নিহ'তরা হলেন- সুনামগঞ্জের বিশ্বম্বরপুরের পলাশ গ্রামের দুই ভাই আজির উদ্দিন ও আমিরউদ্দিন, ধর্মপাশার সরিষা গ্রামের নার্গিস আক্তার, দিরাইয়ের সেচনী গ্রামের মনি বেগম, একই উপজেলার দিরাই ভাটিপাড়া গ্রামের নুরুজ আলী ও ভাটিপাড়া নূর নগরের ফরিদুল ইসলাম, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শিবপুর গ্রামের পাণ্ডব বিশ্বাস ও একই উপজেলার পুটামারা গ্রামের বদরুল আমিন। এরমধ্যে নিহত আমির উদ্দিন ও আজির উদ্দিন, পান্ডব, মনি বেগম ও ফরিদুলের পরিবারের কাছে সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।