৯:১৪ অপরাহ্ণ
সিজদা থেকেই আর ওঠা হলো না হাফিজ উল্লার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে সিজদারত অবস্থায় এক বৃদ্ধ মুসল্লিকে নৃ'শংস'ভাবে হ'ত্যা করা হয়েছে।
নি'হত হাফিজ উল্লা (৮০) স্থানীয়ভাবে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ ঘটনায় জসিম মিয়া (৩০) নামের এক যুবককে গ্রে'প্তার করেছে পুলিশ, যাকে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবী হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন।
রোববার ভোরে উপজেলার পশ্চিম লইয়ারকুল কুমিল্লাপাড়া এলাকার ফুরকানিয়া জামে মসজিদে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নামাজের সময় মুসল্লিরা সিজদায় থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত জসিম মিয়া মসজিদে প্রবেশ করে হঠাৎ করে হাফিজ উল্লার ওপর হামলা চালায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরেক মুসল্লি বাহার মিয়া (৭০) জানান, নামাজ শুরু হওয়ার পর তারা সিজদায় ছিলেন। এ সময় জসিম হঠাৎ মসজিদে ঢুকে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হাফিজ উল্লার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রথমে কলম দিয়ে আঘাত করতে থাকে, পরে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি দৌড়ে বাইরে গিয়ে লোকজনকে খবর দেন। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, হাফিজ উল্লা দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর প্রায় দুই বছর আগে এলাকায় ফিরে একটি ভুষিমালের দোকান দেন।
তিনি নিয়মিত মসজিদে নামাজ আদায় করতেন এবং মোয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন। মসজিদের ইমাম ছুটিতে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আজান দেওয়া ও নামাজ পড়ানোর দায়িত্বও পালন করছিলেন। নিহতের ছোট ছেলে শাহিন মিয়া জানান, ঘটনার আগের দিন জসিম মিয়া বাকিতে পণ্য নিতে চাইলে তার বাবা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং পূর্বের বকেয়া পরিশোধ করতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জসিম সেখান থেকে চলে যায়।
পরিবারের ধারণা, এ ঘটনার জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জসিম মিয়া এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী এবং প্রায়ই বিশৃঙ্খল আচরণ করতেন। ঘটনার সময়ও তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ তাকে আটক করার সময় তার আচরণ ছিল অস্বাভাবিক এবং তিনি অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করছিলেন।
শ্রীমঙ্গল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজিব চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে কলম দিয়ে আঘাতের কথা জানা গেলেও সুরতহাল প্রতিবেদনে ধারালো ছুরির ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিহতের মাথা ও চোখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের মাতম নেমে আসে। পরে আসরের নামাজ শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং কুমিল্লাপাড়া পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।