১:০ ১ পূর্বাহ্ণ
উত্তেজনা-বিক্ষোভ মিছিল
জামাত, বিএনপি আর মাদকাসক্তদের দিয়ে বিশ্বনাথ ইউপি ছাত্রলীগের কমিটি গঠন
গত ২০ সেপ্টেম্বর সোমবার সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ও রামপাশা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে জামাত, বিএনপি, মাদকাশক্ত, চোর, বাটপার ও অছাত্রদের দিয়ে কমিটি গঠন করায় ফুসে উঠেছে ত্যাগী ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। এনিয়ে গতকাল বুধবার রাতে দশঘর ইউনিয়নের পীরের বাজারে বিক্ষোভ করেছে অসুন্তুস নেতাকর্মীরা।
তাছাড়া সদ্য গঠিত কমিটি থেকে পদত্যাগও করেছেন ৩ জন। পদ ত্যাগকারি ৩জন হচ্ছেন, শেখ শাহান শাহ, মাছুম আহমদ ও শেখ সেবুল। তাদের অভিযোগ সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক টাকার বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে জামাত, বিএনপি, মাদকাশক্ত, চুর, বাটপার ও অছাত্রদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানাগেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর উপজেলার দশঘর ও রামপাশা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নব গঠিত কমিটি অনুমোদন করেন, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পাপ্পু সারর্থী দাস পাপ্পু ও সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসাইন। কমিটিতে জামাত, বিএনপি, মাদকাশক্ত, অছাত্র ও চোর বাটপারদের স্থান দেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র উপেক্ষা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এবং কোন প্রকার কাউন্সিল না করে, উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিকে না জানিয়ে একান্ত গোপনে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর একক সিদ্ধান্তে দশঘর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমনকি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন সমূহের কমিটির সাথে কোন যোগাযোগ না করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সাবেক ছাত্রদল কর্মীকে সভাপতি করে যাদেরকে কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা আদৌও ছাত্রলীগের কোন সক্রিয় ও সচেতন কর্মী নয়। অধিকাংশ সদস্যদের পরিবারবর্গ বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ও সক্রিয়। কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ সহ-সভাপতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাদকাসক্ত একজনকে। তিনি বর্তমানে একটি মাদকাশক্ত পূর্ণবাস কেন্দ্রে আছেন। আগামি ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে মাদকাশক্ত পূর্ণবাস কেন্দ্র থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হবে।
বঞ্চিত বিগত দিনে ছাত্রলীগের কোন কার্যক্রমে ও আন্দোলন সংগ্রামে তারা অংশগ্রহন করে নাই এবং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মীর সাথে তাদের পরিচিতি বা যোগাযোগ নেই। তাই এই কমিটি দিয়ে ইউনিয়ন ছাত্রলীগকে সু-সংগঠিত করা যাবে না। এমনকি ভবিষ্যতে বিরোধী দলের আন্দোলন সংগ্রামও তাদের পক্ষে মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না।
এতে ছাত্রলীগের প্রকৃত কর্মীরা নিস্ক্রিয় হয়ে যাবে। তাই অভিলম্ভে ঘোষিত ওই কমিটি বাতিল করে দলের প্রকৃত কর্মীদের দিয়ে দশঘর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয় সভায়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পাপ্পু সারর্থী দাস পাপ্পু বলেন, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পদককে যদি আওয়ামীলীগের সভাপতি করা যায়, তাহলে ছাত্রলীগ নিয়ে এতো মাথা ব্যথা কার।
সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসাইন বলেন, ইউনিয়ন কমিটিতে কোন জামাত বিএনপির কাউকে স্থান দেয়া হয়নি। যাদের স্থান দেয়া হয়েছে তারা বঙ্গবন্ধু আদর্শের রাজনীতি করে। একটি পক্ষ তাদের বলয়কে শক্তিশালি করতে মিথ্যা বানোয়াট অপপ্রচার চালাচ্ছে।