৮:১২ অপরাহ্ণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের র'ক্তের সাথে প্রতা'রণার ফল ভালো হবেনা --মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম
সিলেট মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের গণ'মিছিল
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সিলেট মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান সমন্বয়কারী ও মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ছাত্র-জনতার র'ক্তের উপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে বিএনপি জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে ও গণভোটের রায়কে বাতিল করে জাতির সাথে প্রতা'রণা করেছে। তারা দেশে নতুন ফ্যা'সিবাদ কায়েমের রাজনীতি শুরু করেছে।
নৃ'শংস ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলকে লেলিয়ে দিয়ে তারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থিতিশীল করার ষড়'যন্ত্র করছে। জ¦ালানী সংকট নিরসনে ব্যর্থ সরকার উল্টো জনগণের সাথে মশকরা করছে। জ¦ালানী তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাস ভাড়াসহ নিত্যপণের দাম হু হু করে বাড়ছে। বিএনপির সন্ত্রাসীরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন এমপিকে নাজেহাল করেছে, তার গাড়ী ভাংচুর করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করতে গিয়ে ঢাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর ছাত্রদল সন্ত্রাসীরা থানার ভেতরে পুলিশের সামনে নৃশংসভাবে হামলা করেছে।
চট্টগ্রামে ছাত্রদল একজন ছাত্রের পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করেছে। এভাবে কোন দেশ চলতে পারেনা। এদেশে আর কোন ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেয়া হবেনা। নব্য ফ্যাসিবাদীদেরকেও অতীতের ফ্যাসিবাদের পরিনতি বরণ করতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে ছাত্র-জনতা রাজপথে রয়েছে। তিনি শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাদ আসর নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সিলেট মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসুচীর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত গণমিছিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানী সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে একটি গণমিছিল বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আম্বরখানা পয়েন্টে গিয়ে সমাপ্ত হয়।
গণমিছিলে ১১ দলীয় ঐক্যের মহানগরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ১১ দলের অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, বাংলাদেশ লেবারপার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির মহানগর সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, জাগপা সিলেট মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন, বিডিপি সিলেট মহানগর আহ্বায়ক কবির আহমদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি সিলেট মহানগর সেক্রেটারী মাওলানা জুবায়ের খান ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সিলেট মহানগর সভাপতি এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু প্রমূখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতি আশা করেছিল এই সরকার হয়তো আর ফ্যাসিবাদের পথে হাটবেনা। কিন্তু বিএনপি অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়ে ক্ষমতায় গিয়েই ফ্যাসিবাদের পথে হাটা শুরু করেছে। দেশ পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় বাহিনীতে পরিনত করার চেষ্টা চলছে। একজন নির্বাচিত এমপিকেও এই সরকার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারে পৃষ্টপোষকতায় ছাত্রদলকে পতিত ছাত্রলীগের কায়দায় সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিনত করা হচ্ছে। ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা থানার ভেতরে ঢাকসুর প্রতিনিধিদের উপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে। তাদের হাত থেকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা রেহাই পান নি। চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে রামদা হাতে নিয়ে ছাত্রশিবির নেতার পায়ের গোড়ালী বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। সারাদেশে ছাত্রদল ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বক্তারা আরো বলেন, সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করা হবেনা। অথচ আমরা দেখলাম ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়সহ দেশের সকল বিশ^বিদ্যালয়ে শুধু ভিসি নয়, সকল পদে দলীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণরকে মব সৃষ্টি করে সরিয়ে দিয়ে দলীয় বিবেচনায় একজন ঋণখেলাপী গার্মেন্টেস ম্যানেজারকে গভর্ণরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। সকল সরকারী প্রতিষ্ঠানে বিরোধী মতে কর্মকর্তাদেরকে শাস্থিমূলক বদলী করে দলীয় অযোগ্য কর্মীদের পদায়ন করা হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় লোক প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে লুটপাটের পথ খুলে দেয়া হয়েছে। সংসদে জ¦ালানী মন্ত্রী বলেন, দেশে জ¦ালানীর সর্বোচ্চ মজুদ রয়েছে। বিরোধী দলী নেতা যখন প্রশ্ন করেন- তাহলে পাম্পে ৩ কিলোমিটার লম্বা লাইন কেনো। তখন উল্টো বলা হয় তেল মজুদ ও সংকট সৃষ্টির জন্য নাকি কুচক্রীমহল লাইন দীর্ঘ করছে। এমন বক্তব্য জাতির সাথে মশকরা ছাড়া কিছু নয়। সরকারের মন্ত্রী এমপিরা জুলাই সনদের কথা মুখে বললেও কাজ করেন উল্টো। হাসিনাও এভাবে জাতির সাথে প্রতারণা করতো। তাঁর পরিনতি থেকে শিক্ষা না নিলে বিএনপিকেও একই পরিনতি বরণ করতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত জনগণের অধিকার আদায়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সংগ্রাম চলবেই। রাজপথে এর সমাধান হবে।