শনিবার, মে ২, ২০ ২৬
আজিজ খান, গোলাপগঞ্জ::
১৮ জানুয়ারী ২০ ২২
৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ

গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল আজ
‘কাউন্সিল ঘিরে গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপিতে প্রাণচাঞ্চল্য’

দীর্ঘদিন পর গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কাউন্সিলকে ঘিরে এখন নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীর মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ নিয়ে ১৪ জানুয়ারী গত শুক্রবার হয়েছে কাউন্সিল পূর্ব প্রস্তুতি সভা। প্রস্তুতি সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কাউন্সিলের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় ইসলাম কমিউনিটি সেন্টারে দুপুর ১২টায় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। কাউন্সিলে সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ১ম যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এই ৫টি পদে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন বলে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডা. আব্দুল গফুর এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ৫টি পদে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সিনিয়র সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ১ম যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এই নির্বাচনে ভোটার (কাউন্সিলর)। গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে ভোটারের সংখ্যা ৪৫ জন। একজন কাউন্সিলর ৫টি পদে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। তিনি আরোও জানান, কাউন্সিলে সভাপতি পদে দুই জন গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নোমান উদ্দিন মুরাদ। সিনিয়র সহসভাপতি পদে কাউন্সিলার হেলালুজ্জামান হেলাল, লক্ষণাবন্দ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামিম আহমদ।

সাধারণ সম্পাদক পদে দুই জন প্রার্থী হলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ছাত্রদলের সাবেক তিনবারের সভাপতি মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল ও সাবেক যুবদলের সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন। সাংগঠনিক পদে প্রার্থীরা হলেন সেলিম আহমদ, সাবেক ছাত্রদল নেতা এসএ রিপন, হেলাল উদ্দিন । গত ১৪ জানুয়ারী দুপুরে গোলাপগঞ্জ বাজারে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা কাউন্সিল পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্তনুযায়ী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কলিম উদ্দিন মিলন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামিম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, আহাদ খান জামাল, মাহবুবুর রব চৌধুরীসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার । এ নিয়ে গোলাপগঞ্জ বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীগণ অভিযোগ করেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির এই উৎসব আমেজ দলের প্রার্থী ও কাউন্সিলরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন উৎসাহ-উৎসব নেই। আছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, আজ মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারির কাউন্সিলে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীগণ জয়ী হবে, নাকি অর্থ-কড়ির বিনিময়ে জনবিচ্ছিন্ন, অযোগ্যরা জয়ী হবে ? ৪৫ জন ভোটারকে কাছে টানতে ইতোমধ্যে প্রার্থীগণ মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিছু প্রার্থীর সাফ কথা, যে কোন মূল্যে বিএনপিতে কাঙ্খিত পদ বাগিয়ে আনতে হবে। এই পদ প্রাপ্তির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে, এলাকায় প্রাধান্য বিস্তার করার সক্ষমতা অর্জন ও মান-সম্মান বৃদ্ধি। বিশেষ করে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতাসীন হলে তো পোয়া-বারো হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি ইউনয়নের তৃণমূলের কর্মীগণ জানায়, আমরা কাউন্সিলারদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি কোন কোন প্রার্থী বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে নগদ টাকা দিয়েছেন। আবার অনেকে দিয়েছেন বিভিন্ন পদ-পদবির লোভনীয় অফার।

এসব কাজ অত্যান্ত দু:খজনক। নির্বাচনে ত্যাগী, কর্মীবান্ধব নেতা নির্বাচিত না হলে গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি মুখ থুবড়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। আর এমনটা হলে তা বিএনপি, জনগণ ও তৃণমুল নেতাকর্মীর জন্য মোটেও সুখকর হবে না। কাউন্সিলকে সামনে রেখে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন হচ্ছে, কাউন্সিলের কি দরকার! বাটি চালান দিলে সব-জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে যাবে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে কোন নেতার কী ভূমিকা ছিল? ভূমিকা কী বিতর্কিত, রহস্যঘেরা? নির্বাচনের দিন তিনি কী ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন? ওই নেতা ভোটকেন্দ্রের কত দূরে অবস্থান করছিলেন? তিনি কী মোবাইল ফোন বন্ধ করে বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল? সরকারি দলের সাথে সমঝোতা করে টাকার বান্ডিল পেয়ে আত্মগোপন করেছিলো কারা? সরকারি দলের হাক-ডাক শুনে ভোটকেন্দ্র ছেড়ে পলায়ন করে কারা চলে গেছে, এরা কারা? এইসব আমলনামা দেখে কমিটি গঠন করলে সংগঠন শক্তিশালী হবে, তৃণমূলের নেতাকর্মীগণ খুশি হবে, যোগ্যরা নেতৃত্বে আসলে সবদিকের লাভ। সর্বোপরি জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী আপামর জনগণের লাভ।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, কর্মীবান্ধব পরীক্ষিত নেতাদের দিয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। সরকারি দলের সাথে সখ্যতা করে যারা বিগত দিনে বিএনপির রাজনীতি করেছেন, জনগণ এইসব টাকার কাঙালিদের দুই চোখে দেখতে পারে না। জনগণ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রাণের দাবি পরিচ্ছন্ন ও কর্মীবান্ধব ব্যক্তিদের দিয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করুন। গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডা. আব্দুল গফুর বলেছেন, টাকা বিতরণের কথা আমি এখনও পর্যন্ত শুনিনি। তবে‘কাউন্সিলকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ‘কাউন্সিলের মাধ্যমেই বিএনপি আরো এক ধাপ শক্তিশালী সংগঠন হয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করি।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ