৮:৪৭ অপরাহ্ণ
এনসিপি নেতা আশরাফের দমননীতিতে স্তব্ধ গোবিন্দগঞ্জ কলেজ: আতঙ্কে শিক্ষক সমাজ
সুনামগঞ্জের গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজে শিক্ষকদের উপর সহিংসতা এখন যেন একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ ঘটনার শিকার হয়েছেন ইংরেজি বিভাগের লেকচারার জনাব খলিলুর রহমান খলিল, যিনি বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) কলেজ চত্বরে খলিল স্যারের উপর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাতক শাখার নেতা মোহাম্মদ আশরাফ এবং তাঁর সহযোগীরা প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। শিক্ষক খলিল কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ায় বা মতপ্রকাশ করায় আশরাফ ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলার নির্দেশ দেন। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। জানুয়ারি ২০২৩ সালেও একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছিলেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
সেবারও আশরাফের নেতৃত্বেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল, আহত হয়েও নজরুল ইসলামকে পরে মামলার প্রধান আসামি করা হয়। শিক্ষক সমাজের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ আশরাফ একাধারে রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং সহিংসতার মাধ্যমে বিরোধী কণ্ঠ রোধের অভ্যস্ত একজন 'সিরিয়াল আক্রমণকারী'। একজন শিক্ষক বলেন, “আশরাফের আচরণে কখনোই পরিবর্তন হয়নি—বরং সময়ের সাথে সাথে তিনি আরও ভয়ংকর ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
বর্তমানে তিনি এনসিপি’র ছাতক অঞ্চলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও ছাত্র সংগঠনের অপব্যবহার করে গোটা কলেজে একটি ভয় ও দমননীতির সাম্রাজ্য কায়েম করেছেন। শিক্ষকদের মতে, প্রশাসন নিরব, আর প্রতিষ্ঠান প্রধানরাও হয় রাজনৈতিক চাপে, নয়তো ভয়ে আশরাফের পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের একাংশ ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আইনের অপব্যবহার, মিথ্যা মামলা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা যে কীভাবে শিক্ষাক্ষেত্রকে ধ্বংস করছে, তার জীবন্ত উদাহরণ এখন গোবিন্দগঞ্জ কলেজ। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে বিষয়টি নজরে এনেছে এবং অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনা এবং শিক্ষক সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।