৭:২৬ অপরাহ্ণ
হায়রে সাধের ষাঁড়ের লড়াই
জগন্নাথপুরে ষাঁড়ের ল'ড়াই নিয়ে দুই পক্ষ মুখো'মুখি, প্রশাসন জানেন না!
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ষাঁড়ের লড়াইকে কেন্দ্র দুই পক্ষ রীতিমতো মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। অথচ প্রশাসন কিছুই জানেন না। বেশ কিছু দিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। পক্ষে-বিপক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জানাগেছে, জগন্নাথপুর পৌর এলাকা ও উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কিছু দিন ধরে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নেন প্রবাসীসহ সৌখিন ষাঁড়ের মালিক ও তাদের সহযোগীরা।
এতে বাদ সাধেন আলেম-উলামাগণ। তারা যেখানেই ষাঁড়ের লড়াই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন, সেখানেই পন্ড করে দেয়া হয় ষাঁড়ের লড়াই। এ নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে এমন অবস্থা চলে আসছে। ফলে দিনে দিনে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ, উত্তেজনা, অসন্তোষ ও বিরোধ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে উভয় পক্ষ রীতিমতো মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি কয়েক দফায় জগন্নাথপুর উপজেলার কচুরকান্দি, পাটলি, হবিবপুরসহ বেশ কয়েকটি মাঠে ষাঁড়ের লড়াই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেও তা করতে পারেননি আয়োজনকারীরা।
প্রশাসন ও আলেম-উলামাদের বাঁধার মুখে পন্ড হয়ে যায় তাদের সাধের ষাঁড়ের লড়াই প্রতিযোগিতা। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন আয়োজনকারীরা। এর মধ্যে ষাঁড়ের লড়াইয়ের পক্ষে মানববন্ধন করেছেন আয়োজনকারীরা। আবার ষাঁড়ের লড়াই বন্ধে প্রতিবাদ করেছেন আলেম-উলামারা। অবশেষে আগামী ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার জগন্নাথপুর উপজেলার মইয়ার হাওরে ষাঁড়ের লড়াই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছেন। খবর পেয়ে এ ষাঁড়ের লড়াই প্রতিযোগিতা বন্ধে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বিরোধীরা।
এরই অংশ হিসেবে ১৩ এপ্রিল সোমবার দুপুরে স্থানীয় পৌর পয়েন্টে সর্বদলীয় তৌহিদী জনতার ব্যানারে ষাঁড়ের লড়াই সহ অনৈসলামিক কার্যকলাপ বন্ধের প্রতিবাদে গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বক্তারা বলেন, জগন্নাথপুরে কোন অবস্থায় ষাঁড়ের লড়াই সহ ইসলাম বিরোধী কাজ চলবে না। যেখানেই হবে, সেখানেই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তবে কি কারণে এবং কেন এতোসব বাঁধার মুখেও ষাঁড়ের লড়াই প্রতিযোগিতার আয়োজন করছেন তা জানতে চেষ্টা করেও ষাঁড়ের লড়াই আয়োজনকারী কারো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে-জগন্নাথপুর উপজেলা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মো.শাহজাহান মিয়া ও অন্যান্য সাংবাদিক সহ সুধীহলের অনেকে জানান, হায়রে সাধের ষাঁড়ের লড়াই। শান্তি প্রিয় জগন্নাথপুরকে অশান্ত করে তুলেছে। ষাঁড়ের লড়াইকে কেন্দ্র দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে তা অশনি সংকেত। আমরা কোন প্রকার রক্তপাত চাই না। এখনো সময় আছে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসুন।
আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রিয় সমাধান চাই। এতে প্রশাসন নিরব থাকলে হবে না। উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার পরিবেশ করতে হবে। এ বিষেয় জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.শফিকুল ইসলাম জানান, কিছু দিন আগে পাটলি ও হবিবপুরে ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন পন্ড করা হয়েছে। এখন নতুন করে জগন্নাথপুর উপজেলার কোথাও ষাঁড়ের লড়াই হচ্ছে তা জানা নেই। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.বরকত উল্লাহ জানান, ষাঁড়ের লড়াই হওয়ার কোন খবর জানা নেই। তবে কোথাও হলে তা, পন্ড করতে নির্দেশনা দেয়া আছে।