৮:২০ অপরাহ্ণ
জগন্নাথপুরে খাদ্য গুদাম সংক’টে ধান সংগ্রহ বন্ধ, বিপা’কে কৃষক!
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে ৫০০ মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি মাত্র সরকারি খাদ্য গুদাম রয়েছে। যা দিয়ে সারা বছর কোন রকমে চাল আদান-প্রদানের মাধ্যমে কার্যক্রম চলছে। তবে বৈশাখ মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহকালীন সময়ে ঘটে যতো বিপত্তি।
লটারিতে বিজয়ী কৃষকদের তালিকা থেকে কিছু কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করলেই গুদাম ভর্তি হয়ে যায়। একই সঙ্গে মিলারদের কাছ থেকে করা হয় চাল সংগ্রহ। তার উপর আগে থেকেই গুদামে বিভিন্ন খাতের চাল মজুদ থাকে। ফলে অল্প ধান নিলেই গুদামে আর জায়গা থাকে না। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে আরেকটি নতুন খাদ্য গুদাম খুবই প্রয়োজন। না হলে কৃষকদের ভোগান্তি লাঘব হবে না। তাই নতুন একটি খাদ্য গুদাম নির্মাণে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান কৃষক-জনতা।
এদিকে-প্রতি বছরের মতো এবারো প্রথমে জগন্নাথপুর উপজেলা খাদ্য গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করলেও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষক-জনতা। তাদের আশা ছিল, সরকারের কাছে উচ্চমূল্যে ধান বিক্রি করে পরিবারের সবাইকে ঈদ করবেন। তাদের সেই আশা আর পূরণ হচ্ছে না। বর্তমানে গুদামে জায়গা সংকটে ধান সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছেন খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ। তাই হতাশ হয়ে অল্পদামে মিলার ও ফরিয়াদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, এবার এমনিতেই অনেক কৃষক ধান পাননি। বৈশাখের শুরুতেই অতিবৃষ্টিতে অনাকাঙ্খিত জলাবদ্ধতায় হাওরের নিচু এলাকার জমির ধান ডুবে যায়। অতিবৃষ্টি দীর্ঘ হওয়ায় ধান কর্তন করলেও শুকাতে পারেননি। ফলে মাড়াই করা ধান, আটি বাধা ধান ও আটি ছাড়া ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। এ সময় হাওরে নামেনি হারভেস্টার মেশিন।
শ্রমিক সংকটে জমির পাকা ধান কর্তন করতে পারেননি অনেকে। অতিবৃষ্টি উপেক্ষা করে পানিতে নেমে ধান কর্তন ও ধান সংগ্রহ করা নিয়ে রীতিমতো প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করেন হার না মানা কৃষক-কৃষাণীরা। কৃষকেরা যখন ধান তোলা নিয়ে ব্যস্ত ঠিক তখনই কৃষকদের কাছ থেকে ১৪৪০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে কৃষকদের আবেদনের আহবান জানায় সরকার। এ সময় অধিকাংশ কৃষকেরা আবেদনই করতে পারেনি। এর সুযোগ নিয়েছে মধ্যসত্ত্বভোগীরা। প্রায় ২৪০০ কৃষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে লটারির মাধ্যমে ৯৯১ জন কৃষক বিজয়ী হন। সেই বিজয়ী কৃষকদের তালিকা করে জগন্নাথপুর ও রাণীগঞ্জ খাদ্য গুদাম বিভাজনের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ শুরু করে।
এর মধ্যে জগন্নাথপুর সদর খাদ্য গুদাম মাত্র ২০২ জনের কাছ থেকে জন প্রতি ২ মেট্রিকটন করে ধান সংগ্রহ করলেও এখন গুদামে জায়গা সংকটের কারণে ধান সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে হতাশ ও দিশেহারা হয়ে পড়েন কৃষকেরা। একটি মাত্র খাদ্য গুদামের অভাবে প্রতি বছর এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে অনেক কষ্টের সাথে অতিরিক্ত খরচ করে ধান ঘরে তুললেও বাজারে নেই কাঙ্খিত দাম। বর্তমানে খোলা বাজারে প্রতিমণ ধান ৮শ থেকে সাড়ে ৯শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে সরকারের কাছে উচ্চমূল্য ১৪৪০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন কৃষকেরা।
এখন গুদামে ধান ক্রয় বন্ধ করে দেয়ায় হতাশ ও ক্ষুদ্ব হন তারা। প্রতিদিন জগন্নাথপুর খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে কৃষকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যেত। বর্তমানে ধান ক্রয় বন্ধ করে দেয়ায় গুদামে সুনসান নিরবতা বিরাজ করছে। হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো.শাহিদুল ইসলাম বকুল জানান, কৃষকদের স্বার্থে জগন্নাথপুরে আরেকটি খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। গুদাম সংকটের কারণে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় প্রতি বছর এ মৌসুমে কৃষকদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সামনে ঈদ রেখে এখন ধান ক্রয় বন্ধ করে দেয়ায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন।
জগন্নাথপুর সদর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শিবু ভূষন পাল জানান, গুদামে জায়গা না থাকায় ১৯ মে মঙ্গলবার থেকে ধান সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। আর ঈদের পর ধান নিয়ে আসতে আগ্রহী কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন খাতের চাল ডেলিভারি হলে গুদাম কিছুটা খালি হবে। এছাড়া সংগ্রহকৃত ধান ক্রাসিংয়ে পাঠানোর জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠনো হয়েছে। তবে আরেকটি খাদ্য গুদাম হলে কৃষকদের আর বিড়ম্বনায় পড়তে হতো না। জগন্নাথপুর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সাহাব উদ্দিন জানান, নতুন আরেকটি খাদ্য গুদাম নির্মানের প্রস্তাব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠনো হয়েছে।
ইতোমধ্যে সয়েল টেস্ট হয়ে গেছে। আশা করছি, কাজ শুরু হয়ে যাবে। আরেকটি গুদাম হলে এ সমস্যা থাকবে না। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.ইসলাম উদ্দিন জানান, ধান ক্রয় বন্ধের বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।