১১:৪৬ অপরাহ্ণ
জগন্নাথপুরে ৫ ব্রিজের ২৫ কোটি টাকার কাজ বাতিলের পথে
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ঠিকাদার কাজ না করে লাপাত্তা হওয়ায় জনগুরুত্বপূর্ণ ৫টি ব্রিজের কাজ বাতিল হয়ে বরাদ্দকৃত ২৫ কোটি টাকা ফেরত যাওয়ার পথে রয়েছে। তা জেনে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জগন্নাথপুর প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, বিগত ২০২৫ সালের এপ্রিলে জগন্নাথপুর উপজেলার জগদীশপুর, শ্রীধরপাশা, ঘোষগঁাও ও লাউতলা-রসুলগঞ্জ সড়কে ৫টি নতুন ব্রিজ নির্মাণের বিপরীতে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ আসে।
একই প্যাকেজে ৫টি ব্রিজের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামিল ইকবাল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাজ শুরু করে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার কথা ছিল। তবে এখনো কাজ শুরু না হওয়ায় এ প্রকল্পের কাজ প্রায় বাতিল হতে চলেছে।
এসব ব্রিজের কাজ পাওয়া ঠিকাদার লাপাত্তা হওয়ায় কাজ হচ্ছে না। এতে উন্নয়ন বঞ্চিত হচ্ছেন জগন্নাথপুরবাসী। ফেরত যেতে বসেছে বরাদ্দকৃত ২৫ কোটি টাকা। একবার কাজ বাতিল হয়ে গেলে আর আসবে কি না তাও নিশ্চিত নয়। ফলে ব্রিজের জন্য স্থানীয় ভূক্তভোগী জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার জানান, জগদীশপুর পুরনো ব্রিজ দেবে গেছে। শুনেছি এখানে নতুন ব্রিজ হবে। এখানে কাজের জন্য ফাইলও এনে রাখা হয়েছে। আমরা আশায় আছি ব্রিজ হবে। এখন শুনি ঠিকাদারের অবহেলায় কাজ বাতিল হয়ে যাচ্ছে। যা কোন অবস্থায় মেনে নেয়া যায় না।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ব্রিজের কাজ বাতিল হলে স্থানীয় ভূক্তভোগী জনতাদের নিয়ে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। মুঠোফোনে আলাপকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামিল ইকবাল জানান, আমরা কাজ করবো তো বলে ফোন কেটে দেন। পরে ফোন দিলে আর রিসিভ করেননি। জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সোহরাব হোসেন জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিলে জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫টি ব্রিজের কাজ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামিল ইকবাল। কাজ পেয়ে প্রথমে তারা জগদীশপুর ব্রিজের এখানে কাজ শুরু করে। বাকিগুলোতে কাজ শুরুই হয়নি। এর মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
মেয়াদ শেষ হলে কাজ বাতিল হয়ে যাবে। বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত চলে যাবে। আর এসব কাজ চলে গেলে নাও আসতে পারে। ঠিকাদার কাজ পেয়ে না করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ২০ মে বুধবার ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি সভায় সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কয়ছর আহমেদ এর নজরে বিষয়টি আনা হলে তিনি বলেন, ঠিকাদার কাজ নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। কোন গাফিলতি সহ্য করা হবে না।