১০ :০ ৭ অপরাহ্ণ
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের রাজনীতি করা উচিত নয়
ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই সভায় এমপি এমরান
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের রাজনীতি করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি থাকবে, তবে শিক্ষক রাজনীতি থাকা উচিত নয়।
ছাত্র রাজনীতি না থাকলে নেতৃত্ব তৈরি হবে না, তবে সেটা নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতি হতে হবে। শিক্ষকদের রাজনৈতিক দৃষ্টি ভঙ্গি থাকবে, তবে তাদের রাজনীতি করা উচিত নয়। ক্যাম্পাসের অস্থিতিশীলতার পেছনে অনেক সময় শিক্ষকদেরও হাত থাকে, যেটা মোটেও কাম্য নয়।
তিনি শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই, সিলেট বিভাগ আয়োজিত অ্যালামনাই সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই সিলেট বিভাগের সভাপতি ও সিলেট ল' কলেজের অধ্যক্ষ এডভোকেট সৈয়দ মহসিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী আরও বলেন, স্বাধীনতার পরে দীর্ঘ একটি সময় আমরা পার করেছি, তবুও আমরা জাতি হিসেবে এখনো বিভক্ত।
আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকবে, ডিবেট থাকবে, কিন্তু দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তি আমাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে পারবে না । প্রধানমন্ত্রী তারকে রহমান জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে সম্মানজনক ভাষায় সম্বোধন করেন জানিয়ে সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, বিরোধী দলীয় নেতাও প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে সম্বোধন করে কথা বলেন।
কিছু দিন আগে সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে একটি কমিটি হয়েছে, সেখানে কয়েকজন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যকেও রাখা হয়। সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে যে কমিটি হয়েছিল, সেই কমিটি হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে দেশের জ্বালানি সংকট নিরসন হয়েছে। এটা থেকে একটা জিনিস শেখার রয়েছে, ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব। ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তি আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। ঘোষিত বাজেটে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি শিক্ষাবান্ধব সরকার। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাই দেশের বাজেট ইতিহাসে এবারই প্রথম সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ করেছে সরকার। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ জন অ্যালামনাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হয়েছেন, এটা বিশাল গর্বের ব্যাপার। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান বলেন, ইসলামী বিশ্বদ্যিালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা মণিমুক্তা। কিভাবে তারা আকাশ ছুঁতে পারে, ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হওয়া তা প্রমাণ করে। কিভাবে সফলার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো যায়, ইবিয়ানদের কাছ থেকে সিলেটের যুব ও ছাত্র সমাজের সেটা শেখার আছে। যেটার মাধ্যমে আমাদের ছাত্র ও যুব সমাজ আলোর দিশা খুঁজে পাচ্ছে। তিনি বলেন, ইবির অ্যালামনাই যারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হয়েছেন, আপনাদের যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, সেই প্রত্যাশা করি। মুফতি আবুল হাসান বলেন, কিভাবে মানুষকে সম্মান দিতে হয়, সেটা ইবিয়ানদের কাছ থেকে শেখার রয়েছে। ইবিয়ানরা মানুষকে সম্মান দিতে জানে, যারা সম্মান দিতে জানে, তারাও সম্মানিত হয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইবি অ্যালামনাই ও সিলেট সাইবার ট্রাইবুনাল সিনিয়র জেলা জজ ফেরদৌস আরা বলেন, ইবির অ্যালামনাই নবনিযুক্ত উপাচার্যরা মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্ব দেবেন, সমাজকে আলোকিত মানুষ উপহার দেবেন, সেই আশা করি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইবি অ্যালামনাই ও বরিশালের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহা. রকিবুল ইসলাম বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আমি নিজের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবেই ধারণ করি। ইবিয়ানরা সফলতার শিখরে পৌঁছাক, সেই কামনা করি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের মধ্যে মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন যাতে আরও অটুট হয়, সেই প্রত্যাশা করছি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূর বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এই দেশে সত্যিকারের কিছু নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ উপহার দিতে পেরেছে। যাদের মধ্যে বিচারক, প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকও রয়েছেন। বিভিন্ন সেক্টরে তারা এ দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাইদের সকল সংকীর্ণ মানসিকতার উর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। এ পৃথিবী ক্ষণিকের, তাই আমাদের কারোই অহমিকা থাকা মোটেও উচিত নয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সেই শিক্ষাটাই আমাদেরকে দেবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ:) ছিলেন অসাধারণ একজন গুণী মানুষ। তাঁর সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। তাঁরই ছাত্রছাত্রী যোগ্য উত্তরসুরী আপনারা। ইবিয়ানরা ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ:) এর মতো সমাজকে আলোকিত করবেন, সমাজের জন্য কাজ করবেন, এটাই আমার প্রত্যাশা। সভাপতির বক্তব্যে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই সিলেট বিভাগের সভাপতি ও সিলেট ল' কলেজের অধ্যক্ষ এডভোকেট সৈয়দ মহসিন আহমদ বলেন, আমরা দল মতের উর্ধ্বে উঠে আমাদের অ্যালামনাইদের সম্মান দেওয়ার আয়োজন করেছি। আমাদের এ ধরণের কাজ অব্যাহত থাকবে। ইবিয়ানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট করতে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই সিলেট বিভাগ কাজ অব্যাহত রাখবে। ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই সিলেট বিভাগের সেক্রেটারী মো. মঈনুল হক ও সুনামগঞ্জের মেরুয়াখলা কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক নাহরিন খন্দকারের যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবিবুর রহমান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই সিলেট বিভাগের সদস্য ড. নূরুল ইসলাম বাবুল।। অনুষ্ঠানে ইবিয়ানদের মধ্য থেকে আরও বক্তব্য রাখেন জামালপুর জেলা জজ আদালতের আইনজীবী নাজমুল হক সাঈদী, জামালপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আব্দুল আউয়াল, সিলেট ক্যাডেট কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আনিসুর রহমান, জুড়ি তৈয়বুন্নেছা খানম ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হাই ও হবিগঞ্জের মঈন উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মঈন উদ্দিন প্রমুখ।