১১:০ ৯ পূর্বাহ্ণ
তালামীযে ইসলামিয়াকে সমাজের নৈতিক প্রতিরক্ষার শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরীর
জকিগঞ্জে তালামীযের উপজেলা সম্মেলন
প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হাজারো কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে জাকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার সম্মেলন।
সোমবার (৮ জুন) জকিগঞ্জ ডাকবাংলো মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ও আনজুমানে আল-ইসলাহ কেন্দ্রীয় সভাপতি আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী।
প্রায় দেড় বছর পর নিজ উপজেলায় আগমনকালে শতাধিক মোটরসাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা তাঁকে বরণ করে নেন। সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল করিম মহসিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আনজুমানে আল-ইসলাহ কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা নজমুল হুদা খান এবং সিলেট জেলা তালামীযের সভাপতি হোসাইন আহমদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা তালামীযের সভাপতি আবু হানিফ নায়িম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, তালামীযে ইসলামিয়ার আন্দোলনকে সমাজের নৈতিক প্রতিরক্ষার শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, মুনাফিকি, দুর্নীতি ও দুশ্চরিত্র থেকে ছাত্রসমাজকে রক্ষা করে আদর্শ মানুষ গঠনে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যায়, তালামীযের সহবতে গড়ে ওঠা অনেকেই আদর্শচ্যুত হয়নি। দাড়ি-টুপির অবমাননাকর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা এসব করছে তারা সহবত ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার বাইরে অবস্থান করছে।
তারা লেবাস পরিবর্তন করলেও আদর্শ পরিবর্তন করেনি, যার কারণে সমাজে ইসলাম লজ্জিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ইসলামের সৌন্দর্য রক্ষায় দায়িত্ব নিতে হবে।
প্রয়োজনে জান-মাল কোরবানি করেও ইসলামের আদর্শ রক্ষা করতে হবে। তবে এ পথে বাধা ও পরীক্ষা আসা স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, হেরা গুহায় ওহীর সূচনার পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত দ্বীনের সঠিক ধারা রক্ষায় যেমন নিবেদিত মানুষের প্রয়োজন ছিল, তেমনি এর বিরুদ্ধে শত্রুতাও থাকবে।
এটি বিভিন্নভাবে প্রকাশ পাবে। শিক্ষা ও সামাজিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক ভাঙন এবং সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। সন্তানরা মা-বাবার অবাধ্য হচ্ছে, ছাত্ররা শিক্ষক-ওস্তাদের বিরোধিতায় যাচ্ছে। এটি শুধু অশিক্ষা নয়, বরং গভীর নৈতিক সংকট। তিনি বলেন, মসজিদ, মেহরাব, মিম্বর ও ইসলামী প্রতীকসমূহের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। ইসলাম, আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাই কর্মীদের এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি যেন অপব্যবহারের হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। প্রশাসনিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৃষ্টিস্নাত দিনে এত বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে সংগঠনের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে। তবে জকিগঞ্জে অনুষ্ঠান করতে এসে তিনি কিছুটা অসহায় অবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং এর পেছনে কারা রয়েছে। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মাটিতে তিনি আগন্তুক নন। তাঁর পূর্বপুরুষ ৬০০ বছর ধরে এ অঞ্চলে দ্বীনের খেদমত করে আসছেন। হযরত ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহ.)-এর আদর্শের ধারাবাহিকতায় তারা আজও অটল আছেন। তিনি আরও বলেন, তারা আপসহীন ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন ইনশাআল্লাহ। তিনি নিজেকে জনবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি জনবিচ্ছিন্ন নন, ছিলেন না এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন না। সবশেষে তিনি বলেন, সমাজে আদব, শিষ্টাচার, পারিবারিক বন্ধন ও দ্বীনি চর্চা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নৈতিক অবক্ষয় রোধ না করা গেলে সামাজিক বিপর্যয় আরও বাড়বে। এ বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্য শেষে তিনি দেশ, জাতি, ছাত্রসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ঈমান ও নৈতিকতা রক্ষায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহর সুযোগ্য নাতি মাওলানা ফারহান আহমদ চৌধুরী রেদা, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাও. আব্দুস সবুর, জকিগঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এখলাছুর রহমান, সিলেট পূর্বজেলা তালামীযের সভাপতি হোসাইন আহমদ, সিলেট মহানগর সভাপতি হোসাইন আহমদ, সাবেক জেলা সভাপতি মো. ইসলাম উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট পূর্ব জেলা সহ সভাপতি আহমদ আল মনজুর, সাধারণ সম্পাদক আবু ছায়িদ মো. আশিক, জকিগঞ্জ বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদ খতিব মাওলানা মোশাহিদ আহমদ কামালী, সিলেট পূর্ব জেলা তালামীযের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এহসান মোহাম্মদ শামীম, জকিগঞ্জ উপজেলা আল ইসলাহ'র সভাপতি মাওলানা মো. ফজলুর রহমান চৌধুরী, সোনাপুর মাজহারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. কুতবুল আলম, জকিগঞ্জ পৌর আল ইসলাহর সভাপতি মাও. কাজী হিফজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সেলিম আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা আল ইসলাহর সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল জব্বার, মাওলানা মো. ইমাদ উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাও. মো. ফদ্বলুর রহমান, জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব এর সভাপতি সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ, জকিগঞ্জ এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক মাও. কামাল আহমদ, সিলেট পূর্ব জেলার সহ-প্রচার সম্পাদক মো. আলিম উদ্দিন, ইয়াকুবিয়া হিফজুল কুরআন বোর্ড জকিগঞ্জ উপজেলা সভাপতি সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মাও. আলী হোসেন, জকিগঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা ফারুক আহমদ, উপজেলা আল ইসলাহর প্রচার সম্পাদক মাও. মো. ময়নুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহেদ আহমদ ফারহান, নাজাত ফাউন্ডেশন সিলেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওছার আহমদ, সাবেক উপজেলা সভাপতি মো. আবু সুফিয়ান, জকিগঞ্জ পৌর সভাপতি মো. দিলশাদ আনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ, ইছামতি দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা সভাপতি আহমদ হোসাইন আইমান, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, ইছামতী ডিগ্রি কলেজ সভাপতি কাওছার আহমদ, সিলেট মহানগরীর ১২ নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বাবর, উপজেলা সহ সাধারণ সম্পাদক রিয়াদুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাছুম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হিফজুর রহমান, সাবেক সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান জাব্বির, প্রচার সম্পাদক মোফাজ্জল আহমদ, অর্থ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম তুহিন, অফিস সম্পাদক আব্দুল হামিদ, সহ অফিস সম্পাদক আফজল হোসাইন, হাসান আহমদ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সাইফুর রহমান, সদস রেহান আহমদ, রেজাউল করিম, বারঠাকুরী ইউনিয়ন সভাপতি ফখরুল ইসলাম, বীরশ্রী ইউনিয়ন সভাপতি আলবাব হোসেন, সুলতানপুর ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুস ছামাদ, রতনগঞ্জ আঞ্চলিক শাখা সভাপতি সুফিয়ান আহমদ, কসকনকপুর ইউনিয়ন সভাপতি আলী আকবর ইপন, মানিকপুর ইউনিয়ন সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সদর ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের মিজান, মানিকপুর ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক শাহান আহমদ প্রমূখ।