৭:১৪ অপরাহ্ণ
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের হস্ত'ক্ষে'প কামনা
বাইশটিলায় ভূমি'খে'কো চক্রের হয়'রানি ও মি'থ্যা মা'ম'লায় অতিষ্ঠ দুটি পরিবার
নিজেদের ক্রয়কৃত জমিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে না পারার অভি'যোগ এনে একটি প্রভা'বশালী ভূমিখে'কো চক্রের বি'রুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সিলেট শহরতলীর বিমানবন্দর থানার বাইশটিলা গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ও আব্দুল হাই।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পূর্ব বাইশটিলা গ্রামের মৃত আমজদ আলীর পুত্র আনোয়ার হোসেন ও মৃত শিরাজ আলীর পুত্র আব্দুল হাই এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, একটি প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের, লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে হামলা, প্রাণনাশের হুমকি, ফসল লুট এবং চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। আনোয়ার হোসেন জানান, সিলেট জেলার বড়শালা মৌজায় ৭৫ ডেসিমেল ভূমি তিনি ২০০৩ সালে নগরীর মজুদারি এলাকার শাহান বখত মজুমদার ও তার ভাই রায়হান বখত মজুমদারের কাছ থেকে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
অপরদিকে তার মামা আব্দুল হাই ১৯৯৮ সালে মজুমদার বাড়ির বংশধরদের কাছ থেকে ৫ দশমিক ২৫ একর ভূমি ক্রয় করে ভোগদখল করছেন। তাদের অভিযোগ, নগরীর চৌকিদেখী এলাকার বাসিন্দা মাজেদা শামীম ওরফে হীরা শামীম, তার স্বামী সালাম মশরুরসহ একটি চক্র জোরপূর্বক এসব জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। তারা লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার করে ফসল নিয়ে যাচ্ছে, টিলা কেটে পরিবেশ নষ্ট করছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন আদালতে স্বত্ব মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। এছাড়া আব্দুল হাইয়ের বাড়ির চারপাশে বেড়া নির্মাণ করে তার চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, টিলা কাটার অভিযোগে সালাম মশরুর ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের তৎকালীন সহকারী পরিচালক শেখ নাজমুল হুদা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, হয়রানির উদ্দেশ্যে একই এলাকার মৃত আবরু মিয়ার পুত্র আকবর আলীকে ব্যবহার করা হয়েছিল। আকবর আলী জীবিত অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। পরে পিবিআই তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।
এছাড়া ২০২২ সালে মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভিযোগে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তদন্ত শেষে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে কোতোয়ালি মডেল থানার একটি রাজনৈতিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কাল্পনিক। তিনি দাবি করেন, তার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২১ সালে আনোয়ার হোসেন বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৫৮১) করেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় পরবর্তীতে তা মামলায় রূপ নেয়।
একইভাবে ২০২২ সালে আব্দুল হাই সালাম মশরুরের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৪৬৬) করেন, যার অভিযোগও তদন্তে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, গত ৯ মে আকবর আলীর ছেলে ইউনুস প্রকাশ্যে তাকে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি ১৩ মে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, এ চক্রটি অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং তাদের নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী রয়েছে। এই বাহিনী বিভিন্ন কৌশলে তাদের ভূমি আত্মসাতের চেষ্টা করছে।
এ অবস্থায় তারা নিজেদের ক্রয়কৃত জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সিলেটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।