৮:২১ অপরাহ্ণ
ছবি: সংগৃহীত
ওয়ানডেতে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারালো বাংলাদেশ
তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারালো বাংলাদেশ। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ৪২ ওভার ২ বল শেষে ৯ উইকেটে ১৯১ রান তুলে অস্ট্রেলিয়া। এরপর বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে মিরপুরে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বৃষ্টি আইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারায় বাংলাদেশ। এ জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল টাইগাররা।
আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে দেশের মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম ও সবমিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথু শটকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। শূন্য রানে তাকে বোল্ড করেন টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে মার্নাশ ল্যাবুশানেকে ফেরান কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে সফরকারীরা। তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক জস ইংলিশ ও ওপেনার কুপার কুনলি।
ব্যক্তিগত ১৯ রানে ইংলিশকে ফিরিরে উইকেটের খাতা খুলেন পেসার নাহিদ রানা। ১ রানে জীবন পাওয়া কুনলির ইনিংসও বড় হয়নি। ৩৫ রান করে চার বছর পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বলে বোল্ড হন। ৯১ রানে ৪ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া দলীয় ১২৮ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেট হারায়। ৪৭ রান করা এলেক্স ক্যারিকে সাজঘরে পাঠান নাহিদ রানা। পরের ওভারে ম্যাট রেনশকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মোসাদ্দেক। এরপর রীতিমতো গতির ঝড় তোলেন নাহিদ রানা। লিয়াম স্কট ও হ্যাভিয়ের বার্লেটকে আউট করেন। ৩৭তম ওভারে নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
এবার সফরকারীদের ইনিংসে আঘাত হানেন মোস্তাফিজুর রহমান। ১৫ বলে ৮ রান করে মোসাদ্দেকের হাতে ক্যাচ দেন নাথান এলিস। শেষ উইকেটে ৩৪ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন ক্যামেরুন গ্রিন ও এডাম জাম্পা। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ও বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন গ্রিন। এরপরই খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ১০ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ৫ বলে ৫ রান করে সাজঘরে ফিরে যান সাইফ হাসান। এরপর আরেক ওপেনার তানজিদ তামিমকে নিয়ে দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ৯১ বলে ৯৬ রানের জুটি গড়েন। এরপর তামিম বিদায় নেন ৫৪ রান করে। এরপর লড়াই চালিয়ে যান শান্ত। তবে চারে নামে লিটনকে নিয়ে বড় পুঁজি গড়ার আগেই ভেঙে যায় জুটি। মাত্র ৭ রান করে বোলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন তিনি।
এর মাঝেই ক্যারিয়ারের দ্বাদশ ফিফটির দেখা পান। অর্ধশতক করে শান্ত রানের গতি বাড়াতে চাইলেও সেটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬৭ রান করে ডাগআউটে ফিরেছেন এই ব্যাটার। দ্রুত চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর ইনিংস বড় করার দায়িত্ব নেন তাওহীদ হৃদয় এবং মোসাদ্দেক হোসেন। চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা মোসাদ্দেক নিজেকে মেলে ধরেন। হৃদয়কে নিয়ে ৭৫ রানের জুটি গড়ে তোলেন।
মোসাদ্দেক শুরু থেকে আক্রমণাত্মক হলেও হৃদয় ছিলেন ধীরগতির। ৩১ রানের ইনিংস খেলতে ৫১ বল খেলেছেন তাওহীদ হৃদয়। এরপর ব্যাট হাতে নামা মেহেদী হাসান মিরাজ এবং তানভীর ইসলামও বলার মতো কিছু করতে পারেননি। মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতার দিনে একাই লড়েন মোসাদ্দেক। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটির দিনে খেলেছেন ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসও। নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগে ৭০ বলে ৮৬ রান করে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার। এর আগে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেছিলেন তিনি। শেষদিকে মোসাদ্দেককে সঙ্গ দেয়া তাসকিন আহমেদ ১৬ বলে ২০ রান রান করেন। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা।