শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০ ২৬
ডেস্ক নিউজ::
২১ জানুয়ারী ২০ ২০
৭:২৮ অপরাহ্ণ

কিবরিয়া ইকবালের বাসায় পুলিশী তল্লাশীর নামে হয়রাণী
সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক ছাত্র নেতা ও কোতয়ালি থানার চারাদিঘীরপার এলাকার মৃত শাহরাজ মিয়ার ছেলে কিবরিয়া ইকবালের বাড়িতে পুলিশী তল্লাশীর নামে হয়রাণীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার (২০ জানুয়ারি) রাত ৩ টায় এ তল্লাশী অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবার সূত্র। আর তল্লাশী অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম মিয়া। তল্লাশীর সময় বাড়িতে থাকা তার পরিবারের সদস্যদের পুলিশ সদস্যরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে কিবরিয়া ইকবালের সন্ধান খোঁজেন। এ সময় কিবরিয়া ইকবালকে গ্রেফতারের জন্য ঘরে ঢুকে ব্যাপক তল্লাশি করা হয়। তাকে ঘরে না পেয়ে ঘরের মূল্যবান জিনিস ভাংচুর করা হয় বলে জানিয়েছেন পরিবার সূত্র। পরিবার সূত্র আরো জানান, কিবরিয়া ইকবালকে থানায় হাজির না করালে পরিবারের লোকদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে হুমকী দেয় পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সকল সদস্য চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলে জানান তারা। তারা আরো জানান, এর পূর্বে আরও বেশ কয়েকবার তাদের বাড়িতে তল্লাশীর নামে ভাংচুর ও হয়রাণি করেছে পুলিশ। সূত্রে জানা যায়, সিলেট মহানগর ছাত্রদল নেতা কিবরিয়া ইকবালের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৬ মার্চ সরকার বিরোধী আন্দোলন ও ভাংচুরের অভিযোগে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি থানার (মামলা নং ৬৭(০৩)১৪ ইং) রয়েছে। মামলায় ২০১৫ সালের ২৭ জানুয়ারি সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক হুমায়ুন কবির রায় প্রদান করেন। রায়ে কিবরিয়া ইকবালের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করা হয়। ফলে কিবরিয়া ইকবাল পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও ২০০৯ সালে কোতয়ালি থানার ( মামলা নং ৬৫(০৩)০৯ ইং) মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘ দিন থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। এ দুটি মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আদালত একাধিকবার গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। এরপর থেকে কিবরিয়া ইকবালকে গ্রেফতার করতে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছেন। সর্বশেষ গতকাল গভীর রাতে তার বাড়িতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করেন। এ ব্যাপারে কিবরিয়া ইকবালের বড় ভাই জাকারিয়া মিয়া জানান,তার ছোট কিবরিয়া ইকবাল দীর্ঘ দিন থেকে প্রবাসে রয়েছেন। বর্তমানে বাড়িতে আছেন তার অপর ছোট ভাই জাফর মিয়া, তিনি ও তাদের স্ত্রী ছেলে মেয়ে। পুলিশের ব্যাপক তল্লাশীর কারণে সবাই আতঙ্কে আছেন। কিবরিয়া ইকবালের বড় ভাইয়ের স্ত্রী সামিয়া বেগম জানান, পুলিশ অনেকবার তাদের বাড়িতে এসে তল্লাশীর নামে ভাংচু চালিয়েছে। সোমবার গভীর রাতে একদল পুলিশ তাদেরকে হুমকী দিয়ে ঘরে ঢুকে তল্লাশির নামে হয়রাণি ও ভাংচুর করেছেন। এতে তার সন্তানেরা মারাত্মকভাবে আতঙ্কগ্রস্থ। এ ব্যাপারে কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম মিয়া জানান, কিবরিয়া ইকবালের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে। তাই তাকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হয়। তবে কাউকে কোন ধরণের হয়রাণী করা হয়নি। হয়রাণীর অভিযোগটি মিথ্যা।
ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ