৬:৫৫ অপরাহ্ণ
২০ এপ্রিল থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি, ৩০ হাজার শিশুকে আওতায় আনার লক্ষ্য
জকিগঞ্জে এমআর টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অ্যাডভোকেসি সভা
সিলেটের জকিগঞ্জে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে এমআর টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এসএম আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় বিশ্বাস বলেন, শিশুদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জকিগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুর রাজ্জাক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব অধ্যাপক মাওলানা মুশাহীদ আহমদ কামালী এবং উপজেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলাউদ্দিন তাপাদার।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সজল চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় সভার শুরুতে মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিনা আক্তার হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল বারেক, জকিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ, জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এখলাছুর রহমান, কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কে এম মামুন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল কেয়ারটেকার মাওলানা সেলিম আহমদ, কালেরকণ্ঠ প্রতিনিধি আজাদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সভায় জানানো হয়, জকিগঞ্জে প্রাথমিকভাবে ৯ জন শিশুকে সন্দেহজনকভাবে শনাক্ত করা হলে তাদের মধ্যে ১ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুটির বাড়ি সুলতানপুর ইউনিয়নের পিল্লাকান্দি এলাকায় এবং নানার বাড়ি খলাছড়া ইউনিয়নের লোহারমহল গ্রামে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদানের পর শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠেছে।
এছাড়া সভায় জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে তিন সপ্তাহব্যাপী (১১ কর্মদিবস) কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এতে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ৩০ হাজার শিশুকে হামের বিশেষ টিকা প্রদান করা হবে। সভা থেকে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা গ্রহণের জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, জাতীয় থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগ এবং শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও কমিউনিটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে টিকাদান বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে শতভাগ শিশুদের আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়।