৯:৪৮ অপরাহ্ণ
কমলগঞ্জে চুরির অপরাধে গাছের সাথে বেঁধে দুই শিশুকে অমানষিক নির্যাতন
আসহাবুজ্জামান শাওন,কমলগঞ্জ থেকে:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা বাগানে মোবাইল চুরির অপবাদ তুলে মুন্না পাশি (১২) ও জগৎ নুনিয়াকে (১৩) অফিসের সামনের গাছের সাথে বেঁধে রেখে ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে কয়েক জনে মিলে বেধড়ক পিঠিয়েছে। তাদের অভিবাবকদের কাছ থেকে মুছলেকা নিয়ে বিকাল ৩টায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কমলগঞ্জ সদর হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী ও নির্যাতিতদের পরিবার অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার সকাল ৭টায় মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে চা বাগান হাসপাতালের কম্পাউন্ডার মামুন ছেলেদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নারদ পাশি সহ কয়েকজন মিলে বাগান ঘরে নিয়ে গিয়ে বেঁধে বেধড়ক প্রহার করে। পরে তাদের ২ জনকে কুরমা চা বাগান ফ্যাক্টরির সামনে গাছের সাথে সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে পিছনে হাত নিয়ে বেঁধে রাখে। মুন্নার মা জানান, ইউপি সদস্য দীপেন সাহা সামনে থেকে তাদের পিটিয়েছেন। সাথে ছিল চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি নারদ পাশি, সাদেকসহ অনেকে। বিকাল ৩টায় ছেলেদের অভিবাবকদের কাছ থেকে মুছলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। তাদের অবস্থার অবনতি হলে বিকাল ৪টায় মুন্না ও জগৎকে কমলগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নির্যাতিত মুন্নার মা আরো জানান,এ ব্যাপারে তারা থানায় মামলা দায়ের করবেন। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য দীপেন সাহা বলেন, ছেলেদের বেঁধে রাখা হয়েছিল। তবে নির্যাতন করা হয়নি,কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ম্যানেজারের কথায় তিনি প্রথমে ছাড়তে পারেননি। পরে বিকাল ৩টার পর অভিবাবকদের কাছ থেকে মুছলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আরিফুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, মোবাইল চুরির জন্য তাদের আটকানো হয়েছিল, তবে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেল আশরাফুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি তড়িত ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান।