৭:৪৭ অপরাহ্ণ
নকশা মেনে ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না তা তদারকিতে তৎপর সিউক
পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়তে ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)।
বিধিমালা লঙ্ঘন, অনুমোদিত নকশা অমান্য, নির্ধারিত খালি জায়গা না রাখা, গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না করা কিংবা নির্মাণসামগ্রী রেখে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে ভবনের বেইজমেন্ট বা নিচতলায় জমে থাকা পানি অপসারণেও ভবনমালিকদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
অনুমোদিত নকশা ছাড়া ভবন নির্মাণ বা নিয়ম লঙ্ঘন করলে মিলবে না ভবনের কমপ্লিশন এবং অকুপেন্সি সার্টিফিকেট। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরের বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবন পরিদর্শনকালে এসব বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান সিউক চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। সিউকের ধারাবাহিক পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতি সপ্তাহেই নগরের কোন না কোন এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শনে বের হবেন তারা এমনটিও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুই দিন নগরের নির্মাণাধীন বহুতল ভবনগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না, নির্ধারিত সেটব্যাক ও ভবনের উচ্চতা ঠিক রাখা হচ্ছে কি না এবং সামনের প্রয়োজনীয় জায়গা ছাড়া হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করা হচ্ছে।
সিউক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার খাদিমপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এতে সেখানে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় আগামী রোববারের মধ্যে নিজ দায়িত্বে জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলার জন্য ভবন কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেন সিউক চেয়ারম্যান।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পানি অপসারণ না করা হলে পুনরায় সরেজমিন পরিদর্শন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। শুধু এই ভবনই নয়, নগরের বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে।
বেইজমেন্ট এলাকায় পানি জমতে না দেওয়া এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে ভবনমালিকদের নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান কয়েস লোদী। পাশাপাশি সড়কের ওপর যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী না রাখারও অনুরোধ জানান তিনি। সিউক চেয়ারম্যান বলেন, ভবন নির্মাণে শুধু মালিক নন, কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রকৌশলীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ, ভবনের কমপ্লিশন সার্টিফিকেট এবং পরবর্তী সময়ে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট পাওয়ার ক্ষেত্রে এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অকুপেন্সি সার্টিফিকেটের ভিত্তিতেই ভবনে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ নেওয়া হয়। পরিদর্শনে কয়েকটি ভবনে তদারকির ঘাটতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ভবনমালিক নির্মাণকাজের কারিগরি বিষয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। আবার কোথাও কোথাও প্রকৌশলীদের যথাযথ তত্ত্বাবধান ছাড়াই ঠিকাদারেরা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বহুতল ভবন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এ ধরনের প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, একটি ভবন শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য সিলেট গড়ে তুলতে ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড ও প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে। নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করা হলে ফুটপাত ও ভবনের সামনের প্রয়োজনীয় জায়গা উন্মুক্ত থাকবে। পাশাপাশি ভবনের ভেতরে পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে সড়কে অবৈধ পার্কিংয়ের চাপ কমবে এবং নগরের চলাচলব্যবস্থা আরও স্বাভাবিক হবে। নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে কয়েস লোদী বলেন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা শুধু উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একার দায়িত্ব নয়। এ জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সিউকের চলমান উদ্যোগে নগরবাসী ইতিবাচক সাড়া দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে সিউকের নির্বাহী পরিচালক (সিনিয়র সহকারী সচিব ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) মো. সাদিউর রহিম জাদিদসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।